Category: শিক্ষা বিষয়ক

১ মিলিয়ন সমান কত টাকা ?

আসসালামু আলাইকুম। আজকের এই দিনটার ইন্টার মূল বিষয় হচ্ছে ১ মিলিয়ন সমান কত টাকা । আপনাদের অনেকেই এ বিষয়ে প্রশ্ন করে থাকেন যে, এক মিলিয়ন সমান কত টাকা হবে? এছাড়াও ১ মিলিয়ন ডলার সমান কত টাকা? ১ মিলিয়ন ইউরো সমান কত টাকা?১  মিলিয়ন রিয়াল সমান কত টাকা ? ইত্যাদি।

তাদের কথা চিন্তা করেই আমি এই আর্টিকেলটি লিখছি যাতে আপনারাও উপকৃত হতে পারেন। কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

 

মিলিয়ন শব্দের উৎপত্ত

“Million” শব্দটি এসেছে ইতালিয়ান প্রাথমিক ভাষার “million” শব্দ থেকে। আধুনিক ইতালিয়ান ভাষায় এই মিলিয়ন কে আবার “millione” মনে।

এখানে ইতালিয়ান ভাষায় mili শব্দের অর্থ “হাজার” , এবং এর সাথে যুক্ত ” one/on” একটি প্রত্যয়।

শাব্দিক অর্থে মিলিয়ন শব্দের অর্থ one thousand thousand (1000000)

ব্যবহারিক ক্ষেত্রে মিলিয়ন এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে 10 লক্ষ। হোক সেটা জনসংখ্যার ক্ষেত্রে, আবার হোক সেটা টাকা কিংবা অন্য কোন কিছু পরিমাপের ক্ষেত্রে, মিলিয়ন মানে 10 লক্ষ।

উপরের তথ্যগুলো গুগল এবং Wikipedia থেকে সংগ্রহ করা।

১ মিলিয়ন সমান কত টাকা

এক মিলিয়ন সমান কত টাকা: 1 মিলিয়ন সমান 10 লক্ষ টাকা। যেহেতু মিলিয়ন এর অর্থ ১ হাজার টাকা× ১০০০ ।

এখানে ১ হাজার টাকা× ১০০ = এক লক্ষ টাকা , সুতরাং ১ হাজার টাকা× ১০০০ = 10 লক্ষ টাকা।

সুতরাং আমরা বলতে পারি 1 মিলিয়ন সমান 1 0 লক্ষ টাকা। তবে মিলিয়ন নামক এই পরিমাপের পদ্ধতি শুধু টাকার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় না বরং জনসংখ্যা পরিমাপের ক্ষেত্রে, বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন রকম কারেন্সি বোঝাতে এটি ব্যবহার হয়।

যেমন ধরুন জনসংখ্যা ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশের জনসংখ্যা 160 মিলিয়ন এর অধিক ‌।

আবার কারেন্সি এর উদাহরণ দিতে এও বলতে পারি যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে 10 মিলিয়ন ডলার চুরি হয়ে গেছে, এর মধ্যে 7 মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের ব্যাংকে ট্রান্সফার করা হয়েছে বাকি তিন মিলিয়ন ডলার শ্রীলংকার ব্যাংকে ট্রান্সফার করা হয়েছে।

এখানে বলা হচ্ছে 10 মিলিয়ন ডলার চুরি হয়ে গেছে কিন্তু বলা হয়নি 10 মিলিয়ন টাকা চুরি হয়ে গেছে। যেহেতু টাকা এবং ডলারের হিসাব আলাদা তাই টাকা থেকে ডলারে কিংবা ডলার থেকে টাকা হিসাব করলে অনেক পরিবর্তন হতে পারে।

সুতরাং বলা যায় 10 মিলিয়ন টাকা, 10 মিলিয়ন ডলারের সমান নয়। তবে আপনারা এইটুকু মনে রাখতে পারেন যে এক মিলিয়ন সমান দশ লক্ষ। হোক সেটা টাকা কিংবা জনসংখ্যা আরো কিংবা কোন কিছু।

১ মিলিয়ন বাংলাদেশের কত টাকা

টাকার হিসেবে 1 মিলিয়ন বাংলাদেশী টাকা সমান 10 লক্ষ টাকা। যেহেতু এক মিলিয়ন এর অর্থ হচ্ছে 10 লক্ষ, তাই বলা যায় এক মিলিয়ন বাংলাদেশী টাকা সমান 10 লক্ষ টাকা।

 

১ মিলিয়ন ইউরো কত টাকা

টাকা হচ্ছে বাংলাদেশের কারেন্সি, আর ইউরো হচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ গুলোর কারেন্সির নাম। বর্তমানে ইউরো ইউরোপের ২২টি দেশে ব্যবহৃত। ১৯৯৯ সালে ইউরোপের ১৪টি দেশ যেসব দেশে ইউরো ব্যবহার করা হয় তাদের নামগুলো যথাক্রমে, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবুর্গ, মোনাকো, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন, সান মারিনো এবং ভ্যাটিকান সিটি । এবং এরপরে আরো বিভিন্ন দেশ যেমন জিম্বাবুয়ে, কসোভা ইত্যাদি দেশ যুক্ত হয়।

1 মিলিয়ন ইউরো সমান বাংলাদেশি কত টাকা তা দেখতে হলে আমাদের কারেন্সি এর মানে যেতে হবে ।

এক মিলিয়ন সমান কত টাকা

এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি 1 মিলিয়ন ইউরো সমান 93,758,168.56 টাকা। যা সংখ্যায় দাঁড়াচ্ছে, 9 কোটি 37 লাখ 58 হাজার 168 দশমিক 56 টাকা । এটি বর্তমানে ইউরো এবং টাকার মান এর পার্থক্য। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এক মিলিয়ন টাকা আর এক মিলিয়ন ইউরো কোন দিন সমান নয়।

পড়তে থাকুন, ১ মিলিয়ন সমান কত টাকা ?

আরো পড়ুন,

 

১ মিলিয়ন ডলার সমান কত টাকা

ইউরো এর মত ডল আরো অনেকগুলো দেশের কারেন্সি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কারেন্সি হলেও এর দাম ইউরো এর চেয়ে কম। একনজরে যেসব দেশ ডলার নিজের কারেন্সি হিসেবে ব্যবহার করে,

  •  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  •  পূর্ব তিমুর
  •  ইকুয়েডর
  •  এল সালভাদোর
  •  মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
  •  মাইক্রোনেশিয়া যুক্তরাজ্য
  •  পালাউ
  •  পানামা
  •  জিম্বাবুয়ে
  • মার্কিন অঞ্চলসমূহ
  •  আমেরিকান সামোয়া
  •  গুয়াম
  •  উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ
  •  পুয়ের্তো রিকো
  •  মার্কিন ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ
  • অন্যান্য অঞ্চলসমূহ
  •  ক্যারিবিয়ান নেদারল্যান্ডস
  •  ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ
  •  টার্কস্‌ ও কেইকোস দ্বীপপুঞ্জ

 

অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারকারী ডলারের রয়েছে

১৫টি দেশ ও ৩টি অধীনস্থ এলাকাসমূহ।

1 মিলিয়ন ডলার সমান কত টাকা তা বের করতে হলে আমাদের আবারো টাকার মান এর হিসাব করতে হবে।

১ মিলিয়ন টাকা সমান কত

উপরের স্ক্রিনশটটা অনুযায়ী বর্তমানে 2022 সালে 1 মিলিয়ন ডলার সমান 85906330.00 , এটিকে কথাই বললে দাঁড়াচ্ছে 8 কোটি 59 লাখ ছয় হাজার 330 টাকা।

পড়তে থাকুন, ১ মিলিয়ন সমান কত টাকা ?

1 মিলিয়ন রিয়াল সমান কত টাকা?

রিয়াল সৌদি আরব ইরান সহ বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কারেন্সি। তবে প্রত্যেক বিষয়ের আলাদা আলাদা হয়েছে। সামগ্রিক অর্থে মধ্যপ্রাচ্যের প্রত্যেকটি দেশের কারেন্সির নাম রিয়াল হলেও আলাদা করে বলা হয় যে সৌদি রিয়াল, ইরানিয়ান রিয়াল ইত্যাদি।

রিয়াল এবং টাটার মানের পার্থক্য খুব একটা বেশি না হলেও সৌদি 1 রিয়াল সমান বাংলাদেশের 22 টাকা থেকে কিছু বেশি। নিচের স্ক্রিনশটটি লক্ষ্য করুন এবং 1 মিলিয়ন সমান কত টাকা তা লক্ষ্য করুন।

1 মিলিয়ন টাকা সমান কত

এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি 1 মিলিয়ন বা দশ লক্ষ রিয়াল সমান বাংলাদেশি 22899047.86 টাকা। এই সংখ্যাটিকে কথায় বললে দাঁড়াচ্ছে 2 কোটি 28 লক্ষ 99 হাজার 740 টাকা।

 

1 মিলিয়ন রুপি সমান কত টাকা?

রুপি হচ্ছে ভারতবর্ষের কয়েকটি দেশের কারেন্সির নাম যেমন, পাকিস্তান ভারত নেপাল শ্রীলংকা ইত্যাদি। তবে ভারতবর্ষের প্রত্যেকটি দেশের এই কারেন্সির মানি প্রায় সমান। বাংলাদেশের 1 টাকা সমান ভারতের এক টাকার সামান্য কিছু কম হতে পারে।

নিচের স্ক্রীনশট থেকে বুঝতে পাবো 1 মিলিয়ন বা দশ লক্ষ রুপি সমান কত টাকা।

এক মিলিয়ন টাকা সমান কত

এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি 1 মিলিয়ন রুপি সমান বাংলাদেশি 1118762.50 টাকা। যা সংখ্যায় দাঁড়াচ্ছে 11 লক্ষ 18 লক্ষ 762.50 টাকা।

 

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

১।১ মিলিয়ন সমান কত টাকা?

1 মিলিয়ন = বাংলাদেশি 10 লক্ষ টাকা।

২।১০ মিলিয়ন সমান কত লক্ষ ?

এক মিলিয়ন সমান দশ লক্ষ। সুতরাং বলতে পারি 10 মিলিয়ন সমান 100 লক্ষ বা এক কোটি।

৩।পঞ্চাশ বিলিয়ন তিনশ এক মিলিয়ন পাঁচশ আটত্রিশ হাজার অংকে লেখ ?

এর উত্তর হচ্ছে, 5,00,03,01,53,800

৪।কত লাখে এক মিলিয়ন ?

10 লাখে এক মিলিয়ন

৫।১ মিলিয়ন বাংলাদেশের কত টাকা ?

এক মিলিয়ন সমান বাংলাদেশের 10 লক্ষ টাকা।

৬।১ মিলিয়ন সমান কত হাজার ?

1 মিলিয়ন সমান 1000 হাজার টাকা।

৭।মিলিয়ন বিলিয়ন ট্রিলিয়ন এর হিসাব ?

10 লক্ষ সমান এক মিলিয়ন। আর 1000 মিলিয়ন = 1 বিলিয়ন।

৮।১ কোটি সমান কত মিলিয়ন ?

1 কোটি সমান 10 মিলিয়ন। যেহেতু 10 লক্ষ সমান এক মিলিয়ন।

৯। ১ মিলিয়ন ডলার মানে কত টাকা ?

8 কোটি 59 লাখ ছয় হাজার 330 টাকা।

 

১০ ।কত টাকায় ১ মিলিয়ন ?

10 লক্ষ টাকায় 1 মিলিয়ন।

 

পরিশেষে,

আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন, ১ মিলিয়ন সমান কত টাকা ? মিলিয়ন ও বিলিয়নের হিসাব। আমি আমার সাধ্যমত আপনাদের সমস্ত রকমের তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

আর্টিকেলটি সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন থাকলে লিখে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এই আর্টিকেলটিতে আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

 ‌‌                >>>>>RealatedArticles<<<<<<

 

২৬ মার্চ কি দিবস এবং কেনো?

২৬ মার্চ কি দিবস: আসসালামু আলাইকুম। আপনাদের সুবিধার্থে এবং সাহায্যার্থে নিয়ে এলাম এই কনটেন্টে। কনটেন্ট এর মূল বিষয় হচ্ছে 26 মার্চ কি দিবস । অনেকেই এ সম্পর্কে অবগত নন, কিন্তু কোন সমস্যা নেই আমরা জানিয়ে দিচ্ছি। এই আর্টিকেলের যা যা থাকছেঃ

  • ২৬ শে মার্চ কি দিবস
  • দিবসের প্রেক্ষাপট
  • ২৬ মার্চ এর ইংরেজি ইংরেজি ভাষণ
  • ২৬ মার্চ এর ভাষণের গুরুত্ব।

উপরিউক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এবং আপনাদের সুবিধার্থে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হবে।

২৬ মার্চ কি দিবস

২৬ মার্চ কি দিবস
26 মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস।

২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস।এই দিনে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। স্বাধীনতার ঘোষণা মানে হচ্ছে আজ থেকে (26 মার্চ 1971) বাংলাদেশ স্বাধীন যদি বহির্বিশ্ব তথা পাকিস্তান এ দেশকে শাসন করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আমাদের ন্যায় সঙ্গত।

তার 26 মার্চের ভাষণটি ছিল ইংরেজিতে যাতে বহির্বিশ্ব এই ভাষণটি বুঝতে পারে।

পড়তে থাকুন, ২৬ মার্চ কি দিবস

26 মার্চ কেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস

১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ এর আগে বাংলাদেশের কোন ব্যক্তি বাংলাদেশকে স্বাধীন হিসেবে ঘোষণা করতে পারেনি অর্থাৎ এ কথাটি উচ্চারণ করার সাহস করেনি।

কিন্তু সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষণা করে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ঘোষণা দেন ‌।

যেহেতু ২৬ শে মার্চ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে সুতরাং এই দিনটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

আমরা এভাবে বলতে পারি যে যেহেতু বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল থেকে সুতরাং সেই অনুসারে ২৬ মার্চ কে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আরো পড়ুন,

স্বাধীনতা দিবসের প্রেক্ষাপট

স্বাধীনতা দিবস সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের অনেক পেছনে ফিরে যেতে হবে। শুরু করা যাক সাতেই মার্চ থেকে। এ ভার্সন থেকে পরবর্তী ২৬ শে মার্চ পর্যন্ত সময়টি ছিল বাঙালি জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ের মধ্যেই ঘটে গেছে এক বিশাল কাল ইতিহাস চা বাঙালির ইতিহাসে কালো রাত্রি নামে পরিচিত।

পড়তে থাকুন, ২৬ মার্চ কি দিবস।

৭ ই মার্চের ভাষণ ও স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন ।

এ ভাষণে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ – শাসন , বঞ্চনার ইতিহাস , নির্বাচনে জয়ের পর বাঙালির সাথে প্রতারণা ও বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের পটভূমি তুলে ধরেন ।

বিশ্ব ইতিহাসে বিশেষ করে বাঙালি জাতির ইতিহাসে এ ভাষণ এক স্মরণীয় দলিল । জাদুর স্পর্শে বাঙালি জাতিকে বীরের জাতিতে রূপান্তরিত করার এই ভাষণ বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত ।

ইউনেস্কো ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চের ভাষণকে ‘ ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ ’ ( World Documentary Heritage ) ‘ বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল ‘ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ।

এই ভাষণ ইন্টারন্যাশনাল ‘ মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’- এ গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টারি ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কো অন্তর্ভুক্ত করেছে ।

৭ ই মার্চের ভাষণ থেকে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা ও মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা পায় । এ ভাষণের পরেই বাঙালি জাতির সামনে একটি মাত্র গন্তব্য নির্ধারণ হয়ে যায় , তা হলো ‘ স্বাধীনতা ’ ।

৭ ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতার ডাক দেন , সে ডাকেই বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে । বঙ্গবন্ধুর ভাষণে পরবর্তী করণীয় ও স্বাধীনতা লাভের দিকনির্দেশনা ছিল — ‘ প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো । তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে । ”

তিনি আরও বলেন , “ রক্ত যখন দিয়েছি , রক্ত আরও দেবো , এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব , ইনশাল্লাহ । এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম , এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম । জয়বাংলা । ”

এ ভাষণে তিনি প্রতিরোধ সংগ্রাম , যুদ্ধের কলা – কৌশল ও শত্রু মোকাবিলার উপায় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন । বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে জনগণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ।

২৫ শে মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ‘ অপারেশন সার্চ লাইট ’ নামক পরিকল্পনার মাধ্যমে নৃশংস গণহত্যা শুরু করে ।

বাঙালিরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় ।

পড়তে থাকুন, ২৬ মার্চ কি দিবস।

স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা

বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ঘোষিত কর্মসূচি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের আহ্বান এর প্রতি সাড়া দিয়ে সকল স্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়। পূর্ব বাংলার তথা বাংলাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ,অফিস-আদালত ,কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়।

পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থাৎ বর্তমান পাকিস্তানের অবস্থা বেগতিক দেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনা করতে ঢাকায় আসেন ইয়াহিয়া খান। বলে রাখি ইয়াহিয়া খান হচ্ছেন তৎকালীন সময়ে কার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট।

ইয়াহিয়া খানের সাথে পাকিস্তানের আরেক রাজনৈতিক নেতা ভুট্টো খান সহ পূর্বপাকিস্তানে আসেন।

এঘটনার অপরদিকে আলোচনার নামে কালক্ষেপণ করে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে গোলাবারুদ প্রসন্ন এনে পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক আক্রমণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।

১৭ ই মার্চ রাও ফরমান আলী ও টিক্কা খান অপারেশন সার্চলাইট নামক কর্মসূচির মাধ্যমে বাঙালির ওপর নিশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীল নকশা তৈরি করেন।

25 শে মার্চ রাতে পৃথিবীর ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা অপারেশন সার্চলাইট শুরু হয়। ইয়াহিয়া খান এবং ভুট্টো খান 25 শে মার্চ গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন।

এরপর ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হত্যা করে হাজার হাজার মানুষকে। পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার রাজার বাগ পুলিশ ক্যাম্প পিলখানা ইপিআর ক্যাম্প ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আক্রমণ চালায় এবং নিশংসভাবে গণহত্যা ঘটায়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে 25 শে মার্চের রাতে যা ঘটেছিল তাকে “কালরাত্রি” বলা হয়। এ দিবসটি এখন জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃত।

25 শে মার্চের রাতেই অর্থাৎ 26 শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এই ঘোষনা ওয়ারলেস যোগে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা শোনামাত্রই চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শুরু হয় পাকিস্তানে সশস্ত্র সেনাদের সঙ্গে বাঙ্গালী আনসার ও নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের এক অসম লড়াই যা বাংলাদেশের ইতিহাসে মহান মুক্তিযুদ্ধ নামে পরিচিত।

স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই 26 শে মার্চ প্রথম প্রহরে আনুমানিক রাত 1:30 মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্বাধীনতার ঘোষণা

গ্রেফতার হওয়ার পূর্বমুহূর্তে অর্থাৎ ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে ( অর্থাৎ ২৫ শে মার্চ রাত ১২ টার পর ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন ।

ঘোষণাটি ছিল ইংরেজিতে , যাতে বিশ্ববাসী ঘোষণাটি বুঝতে পারেন । স্বাধীনতা ঘোষণার বাংলা অনুবাদ : “ ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা , আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন । আমি বাংলাদেশের ।‌ জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে , যে যেখানে আছে , যাহার যা কিছু আছে , তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও , সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ কর । পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও । ”

স্বাধীনতার এ ঘোষণা বাংলাদেশের সকল স্থানে তদানীন্তন ইপিআর এর ট্রান্সমিটার , টেলিগ্রাম ও টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে তার করা হয় ।

২৬ শে মার্চ দুপুরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম . এ . হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্র থেকে একবার এবং সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার প্রচার করেন ।

বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতার হওয়ার কারণে ২৭ শে মার্চ সন্ধ্যায় একই বেতার কেন্দ্র হতে জিয়াউর রহমান , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ।

তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা এবং এর বাঙালি সামরিক , আধা সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সমর্থন ও অংশগ্রহণের খবরে স্বাধীনতাকামী জনগণ উজ্জীবিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ।

বঙ্গবন্ধুর ২৬ মার্চের ইংরেজি ভাষণ

বঙ্গবন্ধুর 26 শে মার্চের ভাষণ দিয়েছিল সম্পূর্ণ ইংরেজিতে যাতে বহির্বিভাগে তাৎপর্য এবং মর্মার্থ বুঝতে পারে। ভাষণটি নিম্নরূপ:

Today Bangladesh is a sovereign and independent country. On Thursday night [March 25, 1971], West Pakistan armed forces suddenly attacked the police barracks at Razarbagh and the EPR headquarters at Pilkhana in Dhaka. Many innocent and unarmed have been killed in Dhaka city and other places of Bangladesh. Violent clashes between EPR and police on the one hand and the armed forces of Pakistan on the other are going on. The Bangalees are fighting the enemy with great courage for an independent Bangladesh. May Allah aid us in our fight for freedom. Joy Bangla,”

পড়তে থাকুন , ২৬ মার্চ কি দিবস।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্ব দেন স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । তাঁর সারাজীবনের কর্মকাণ্ড , আন্দোলন – সংগ্রাম নির্দেশিত হয়েছে বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্যে ।

এই লক্ষ্য নিয়ে তিনি ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন । ১৯৪৮–১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন ।

তিনি ছিলেন ভাষা আন্দোলনের প্রথম কারাবন্দিদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় । কী সংসদ , কী রাজপথ , বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পক্ষে তাঁর কণ্ঠ ছিল সর্বদা সোচ্চার ।

১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন , ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতিদান , ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন , ১৯৬৬ সালে ‘ আমাদের বাঁচার দাবি ৬ দফা কর্মসূচি পেশ ও ৬ দফাভিত্তিক আন্দোলন , ‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান , ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন বিজয় , ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা অর্জনে একচ্ছত্র ভূমিকা পালন করেন স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ।

পাকিস্তানের চব্বিশ বছরের শাসনের মধ্যে ১২ বছর বঙ্গবন্ধুকে কারাগাে কাটাতে হয়েছিল । সংগ্রামের পথ ধরে ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি স্বাধীনতার লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছেন ।

২৫ শে মার্চ নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সশস্ত্র আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়লে ২৬ শে মার্চ ১৯৭১ প্রথম প্রহরে তিনি সরাসরি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন ।

তাঁর নামেই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয় । তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ।

তাঁর বলিষ্ঠ ও আপোসহীন নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন জাতির পিতা , স্বাধীনতার মহানায়ক ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ।

 

স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব

স্বাধীনতা দিবস বাঙালি জাতীয় জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃংখল থেকে সম্পূর্ণরূপে বেরিয়ে আসে। যেহেতু এই দিনে বাঙালি জাতির পরাধীনতার শৃংখল থেকে বেরিয়ে আসে সুতরাং এই দিন বাঙালি জাতির জন্য অনেক গুরুত্ব বহন করে।

আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সক্ষমতা ইত্যাদি স্বাধীনতার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আর সেই স্বাধীনতা দিবস হচ্ছে 26 শে মার্চ।

পড়তে থাকুন, ২৬ মার্চ কি দিবস।

স্বাধীনতা দিবস সম্পর্কিত প্রশ্ন?

১। ২৬ মার্চ কি দিবস ?

– ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস।

২। 26 মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস কেন?

– ২৬ মার্চ এই দিন থেকে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম দিন তাই ২৬ মার্চ কে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

৩।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একজন ইতালীর নাগরিক মৃত্যুবরণ করেন তার নাম কি ছিল ?

– মাদার মারিও ভেরেনজি

৪। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস কবে?

– বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হচ্ছে ২৬ শে মার্চ

৫। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক কে দেন?

– বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

আরো পড়ুন,

 

পরিশেষে,

আশা করি আপনাদের সকল রকমের তথ্য দিতে পেরেছি ২৬ মার্চ কি দিবস সম্পর্কে । আমাদের তথ্যগুলো বিভিন্ন ধরনের বই, উইকিপিডিয়া এবং ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা।

আমাদের আইডি কার্ডে যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। যদি এই আর্টিকেল সম্পর্কে কোন মন্তব্য থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

>>>>>>Related Contents<<<<<<

গরু রচনা : সেরা তিনটি গরুর রচনা ( cow paragraph in Bangla )

গরু রচনা বাংলা ভাষা: আসসালামু আলাইকুম। আজকের এই আর্টিকেলটি লিখব গরুর রচনা সম্পর্কে । আশা করি পুরো আর্টিকেলটি পড়বেন। 

এই আর্টিকেলে আমি সেরা তিনটি এবং বাছাইকৃত গরুর রচনা উপস্থাপন করব । শ্রেণী সীমার উপর ভিত্তি করে ছোট এবং বড় দুই ধরনের গরুর রচনা লিখেছি এই আর্টিকেলে। আপনারা প্রয়োজন মত যে কোন একটি পড়ে নিবেন। তবে শুরুতেই ছোটদের জন্য আমি একটি গরু অনুচ্ছেদ উপস্থাপন করেছি।

এই আর্টিকেলটি লিখতে আমাকে প্রেরণা যুগিয়েছে , Noor A Zannat Noor .এই আর্টিকেলের পুরো ক্রেডিট আমার এই ছোট্ট ম্যাডামের 🤪। তো চলুন শুরু করা যাক।

ছোটদের জন্য গরু অনুচ্ছেদ

গরু রচনা

গরু চতুষ্পদ ও গৃহপালিত জন্তু । এর চারটি পা , দুটি চোখ , দুটি কান ও একটি মুখ আছে । এর একটি লম্বা লেজ আছে । এটি দিয়ে এরা মশা – মাছি তাড়ায় ।

এরা ঘাস , ভুষি ও লতা পাতা খায় । এরা সাদা , কালো , লাল , ধূসর প্রভৃতি রঙের হয়ে থাকে । এরা খুব উপকারী পশু । এরা দুধ দেয় । গরুর দুধ শিশুদের আদর্শ খাবার ।

এরা কৃষকের জমি চাষে । গরু বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকাতেই আছে । তাই এদের প্রতি অবহেলা না করে যত্ন নেওয়া উচিত ।


পড়তেই থাকুন,  গরু রচনা।


গরু রচনা class 1

 

সূচনা : গরু একটি গৃহপালিত চতুষ্পদ প্রাণী | যুগ যুগ ধরে গরু মানুষের অনেক উপকার সাধন করে । গরু খুব শান্ত , নিরীহ , উপকারী এবং স্তন্যপায়ী ও তৃণভোজী প্রাণী ।

আকৃতি : গরু সাধারণত তিন – চার হাত লম্বা হয়ে থাকে । এদের সর্বাঙ্গ কোমল লোমে আবৃত । এর দুটি শিং ও দুটি চোখ আছে । শিং দিয়ে গরু আত্মরক্ষা করে । এর একটা লম্বা লেজ আছে ও লেজের শেষ প্রান্তে একটি গোছা লম্বা চুল আছে । তা দিয়ে গরু শরীরের মশা , মাছি তাড়ায় । প্রকৃতি বা

স্বভাব : গরু খুব শান্ত ও নিরীহ পশু । এরা সহজেই পোষ মানে এবং প্রভুভক্ত হয় । গরু সাধারণত পনেরো – বিশ বছরের বেশি বাঁচে না । গাড়ী বছরে একটা করে বাচ্চা প্রসব করে

প্রাপ্তিস্থান : গরু পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই দেখতে পাওয়া যায় । এক্সিমো , গ্রীনল্যান্ড ও অন্যান্য যে সব স্থানে বেশি শীত , সে সমস্ত স্থান ব্যতীত পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই গরু পালিত হয়ে থাকে

। তবে যুক্তরাষ্ট্র নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া এসব দেশে প্রচন্ড শীত থাকা সত্ত্বেও ্যগরু পালন করা হয় । এসব দেশের আবহাওয়া অনেক বৈচিত্র্যপূর্ণ।

খাদ্য : গরুর প্রধান খাদ্য হচ্ছে ঘাস , ধানের খড় , চালের কুঁড়া ইত্যাদি । এ ছাড়াও লতাপাতা , খৈল , ভুষি , ভাতের ফেন , পানি ইত্যাদি খেয়ে জীবন ধারণ করে ।

প্রকারভেদ : গরু বিভিন্ন রঙের দেখতে পাওয়া যায় । সাদা , কালো , ঈষৎ লাল বা মিশ্র বর্ণের গরু আমরা প্রায়ই দেখে থাকি ।

উপকারিতা / প্রয়োজনীয়তা : গরু আমাদের অনেক উপকার করে । গরুর দুধ অতিশয় সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাদ্য । গরুর দুধ দিয়ে ঘি , মাখন , ছানা , দই , ক্ষীর , সন্দেশ , মিষ্টি ইত্যাদি পুষ্টিকর এবং মুখরোচক দ্রব্য তৈরি হয় । ষাঁড় বা বলদ দিয়ে জমি চাষ করা যায় । গরুর চামড়া দিয়ে জুতা , ব্যাগ , বাক্স ইত্যাদি তৈরি করা হয় এবং শিং ও হাড় দিয়ে বোতাম ও চিরুনি তৈরি হয় ।

উপসংহার : গরুর মতো উপকারী পশু আর নেই । তাই আমাদের গরুর উপকারের কথা বিবেচনা করে তাদের প্রতি আরও বেশি যত্নবান হওয়া উচিত ।


পড়তেই থাকুন,  গরু রচনা।

আরো পড়ুন,


গরুর রচনা চতুর্থ শ্রেণীর

 

গরু রচনা

ভূমিকা : গরু একটি চতুষ্পদ গৃহপালিত জন্তু। এর দ্বারা মানুষ লাভবান হয় জন্য গরু পালন সারা পৃথিবীতে সমান হারে সমাদৃত হয়ে আসছে। এই প্রাণীর অপকারিতা নেই বললেই চলে । তাই এ প্রাণীকে সবাই খুব ভালোবাসে।

বর্ণনা : গরু একটি মাঝারি বৃহৎ এবং বড় পেট বিশিষ্ট প্রাণী। এটি উচ্চতায় তিন থেকে চার ফুট হয়ে থাকে এবং এর দৈর্ঘ্য পাঁচ থেকে ছয় ফুট হয়ে থাকে। গরুর চারটি চারটি পা , দুটি কান, একটি লেজ ইত্যাদি আছে।

গরুর পুরো শরীর লোম দিয়ে আবৃত। তবে শীত প্রধান দেশগুলোর গরুর গায়ে লোমের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে।

গরু বিভিন্ন রঙের হতে পারে। যেমন কালো রঙের গরু লাল রঙের গরু কিংবা সাদা রঙের গরু। এছাড়াও গরুর দেহ মিশ্র রং এর হতে পারে।

গরুর লেজ সাধারণত লম্বা হয়। গরুর লেজের শেষ প্রান্তে এক গোছা চুল থাকে। চুলসহ এই লেপ্স দিয়ে গরু তার দেহে মশা মাছি তারায়।

এদের মুখের নিচের বাটিতে সাধারণত এক সারি দাঁত থাকে। পূর্ণবয়স্ক হলে গরুর উপরের পার্টিতে দাঁত গজায়। গরুর গলদেশে নরম লোম দিয়ে ঢাকা এক প্রকার মাংসল চামড়া থাকে।

পৃথিবীর প্রায় সব দেশে গরু পাওয়া যায়, এদের মধ্যে অন্যতম দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত ,পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়া ,ইংল্যান্ড, ইউরোপ ইত্যাদি। তবে যেসব দেশে ১২ মাসের শীত পড়ে সে সব দেশে গরু পালন করা হয় না।

স্বভাব এবং খাদ্য: গরু অত্যন্ত শান্ত ও প্রাণী। এরা লোকালয় থেকে দূরে যেতে চায় না। গরু সাধারণত ২০ বছরের মতো বাঁচে। গরু ঘাস ও লতা পাতা বিচালি, খৈল, ভাতের মার , ভুষি খেয়ে জীবন যাপন করে। গরু প্রথমে খাবার গিলে ফেলে এবং পরবর্তীতে সেটি মুখে এনে জাবর কাটে।

প্রকারভেদঃ গরুর অনেকগুলো প্রকারভেদ রয়েছে। এদের মধ্যে ফ্রিজিয়ান শাহিওয়াল অস্ট্রেলিয়ান ইত্যাদি গরু উল্লেখযোগ্য। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন রকমের গরু দেখা যায়। বাংলাদেশের গরু গুলো তুলনামূলক আকারে ছোট এবং সহজে পালনযোগ্য।

উপকারিতা: গরু আমাদের দুধ দেয় যা এক ধরনের সুষম খাদ্য। গরুর গোবর এক ধরনের জৈব সার। গরুর গোবর ব্যবহার করে জ্বালানি তৈরি করা যায়।

উপসংহার: গরু আমাদের দেশের জাতীয় সম্পদ। তাই এর পালন সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ আমাদের দায়িত্ব।


পড়তেই থাকুন,  গরু রচনা।


গরু রচনা class 5

ভূমিকা : গৃহপালিত পশুদের মধ্যে গরু সবচেয়ে উপকারী । কেবল আমাদের এই কৃষিপ্রধান বাংলাদেশেই নয় , পৃথিবীর সব দেশে গরুর অত্যন্ত সমাদর । অত্যন্ত উপকারী প্রাণী বলে গরু সবাই ভালোবাসে ।

বর্ণনা : গরু দেখতে স্থূলকায় প্রাণী । এটি সাধারণত তিন – চার হাত লম্বা এবং দুই – তিন হাত উঁচু হয়ে থাকে । এর শরীর লোমে আবৃত । মুখ লম্বা ও কান দুটো ঈষৎ চাপা ।

এর দুটি শিং ও দুটি চোখ আছে । শিং দ্বারা গরু আত্মরক্ষা করে । গরুর একটা লম্বা লেজ আছে এবং লেজের শেষ প্রান্তে এক গোছা লম্বা চুল আছে । গরু লেজ দিয়ে মশামাছি তাড়ায় । গরুর পায়ের অগ্রভাগে শক্ত খুর বিদ্যমান ।

খুর দুই ভাগে বিভক্ত । গরুর গলদেশে কোমল লোমাবৃত একপ্রকার মাংসল চামড়া থাকে । এটি ‘ গলকম্বল ‘ নামে অভিহিত । এদের মুখের নিচের পার্টিতে একসারি দাঁত আছে । ওপরের পাটিতে কোনো দাঁত নেই । গরু নানা বর্ণের দেখতে পাওয়া যায় । এদের মধ্যে সাদা , লাল , কালো এবং কতকগুলো মিশ্র বর্ণের হয়ে থাকে ।

পৃথিবীর প্রায় সব দেশে গরু পাওয়া যায় । বাংলাদেশ , ভারত , পাকিস্তান , আমেরিকা , ইউরোপ , ইংল্যান্ড , অস্ট্রেলিয়া , রাশিয়া প্রভৃতি দেশে গরু পাওয়া যায় । বনজঙ্গল ও পাহাড়ে এক ধরনের বন্য গরু পাওয়া যায় । এদের মধ্যে নীলগাই প্রসিদ্ধ ।

স্বভাব ও খাদ্য : গরু অতিশয় শান্ত এবং নিরীহ প্রাণী । এরা সহজেই পোষ মানে । গরু খুব শক্তিশালী এবং কষ্টসহিষ্ণু । গরু সাধারণত ১৫-২০ বছর বাঁচে । গরুর বাচ্চাকে বাছুর বলে । গাভি তার বাচ্চাকে খুবই ভালোবাসে ।

গরু ঘাস , খড় , লতাপাতা , বিচালি , কুঁড়া , খৈল , ভাতের মাড় , ভুসি ইত্যাদি খেয়ে জীবনধারণ করে । গরু প্রথমে যেকোনো খাবার গিলে ফেলে । পরে বিশ্রামের সময় গিলে ফেলা খাবার মুখের মধ্যে এনে চিবাতে থাকে । গরুর এরকম চিবানোকে বলে জাবরকাটা ।

উপকারিতা : উপকারিতার দিক থেকে গরুর অবস্থান শীর্ষে । গরুর দুধ খুব পুষ্টিকর ও উপাদেয় খাদ্য । গরুর দুধ থেকে দই , ছানা , মাখন , ঘি , ক্ষীর , সন্দেশ ও আরও নানা রকমের মিষ্টি তৈরি হয় ।

গরুর গোবর উৎকৃষ্ট সার হিসেবে ব্যবহৃত হয় । গোবর শুকিয়ে ঘুটে করে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায় । বর্তমানে গোবর থেকে গ্যাস তৈরি করে জ্বালানি সমস্যা সমাধানের ব্যাপক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে ।

উপসংহার : গরু আমাদের জাতীয় সম্পদ । সুজলা – সুফলা বাংলাদেশে নানা কারণে গরুর খাদ্যের জন্য প্রয়োজনীয় গো – চারণভূমি নেই , গরুর প্রতিদিনের খাবারও ঠিকমতো দেওয়া হয় না । ফলে আমাদের দেশে অধিকাংশ গরুই কৃশ ও দুর্বল । আমাদের দেশে গো – চিকিৎসকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম । তাই জাতীয় উন্নয়নে এবং পশুর প্রতি যথাযথ আচরণে আমাদের সচেতন ও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন ।

source: Wikipedia


আজকে এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন। ‌ আর আমাদের গরু রচনা গুলো কেমন লাগলো তার নিচে কমেন্ট করে জানাবেন।

আরো পড়ুন,

বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্র |সকল শ্রেণির জন্যে আলাদা এবং ইংরেজি সহ

বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্র: আসসালামু আলাইকুম। আজকে আমি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে সকল শ্রেণীর জন্য বিনা বেতনের অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্র গুলো উপস্থাপন করব। আমাদের দেশে যেহেতু মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যা অনেক বেশি, তাই বিভিন্ন কারণবশত অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর পিতা-মাতা স্কুল কিংবা কলেজের বেতন পরিশোধ করতে হিমশিম খান।

আমি এটুকু উপলব্ধি করতে পারছি যে, আপনাদের কেউ কেউ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্র দেওয়ার জন্য এই প্লাটফর্মে এসেছেন।

আর কেউ কেউ পরীক্ষায় পড়ার জন্য কিংবা ভালোভাবে শেখার জন্য এই প্লাটফর্মে এসেছেন।

বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্র একটি খুবই সাধারণ আবেদন পত্র। তবে শ্রেণীবিভেদে এই আবেদন পত্রের কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

আমি বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্র এই টপিকে কয়েকটি আবেদন পত্র শেয়ার করব। আবেদনপত্র গুলো শেয়ার করার সাথে বলে দিব কোন ক্লাসের জন্য কোন আবেদন পত্র গুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

Hints: some information is collected from wikipedia

কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক,

বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্র।

বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্র

প্রশ্ন: মনে কর তোমার নাম পূর্ণতা। তুমি শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী। বিনা বেতনে পড়ার অনুমতি চেয়ে অধ্যক্ষ বরাবর আবেদন পত্র লিখ।

তারিখঃ ০৪/০১/২০–ইং

বরাবর,

অধ্যক্ষ

শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা

বিষয় : বিনা বেতনে পড়ার জন্য আবেদন ।

মহোদয়,

সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত ছাত্রী হিসেবে সময়মত বেতন পরিশোধ করে আসছি। কিন্তু সম্প্রতি আমার পিতা চাকরী থেকে অবসর গ্রহণ করায় আমাদের সংসারের সদস্যদের ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ হয়ে পড়েছেন। তদুপরি আমার পড়ার খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে দুঃসাধ্য। উল্লেখ্য যে, আমার আরো দু’ভাই আপনার বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। সুতরাং একই সাথে আমাদের তিন ভাই বোনের বেতন পরিশোধ করা অসম্ভব।

অতএব, হুজুর সমীপে বিনীত প্রার্থনা এই যে, আমাকে বিনা বেতনে পড়বার সুযোগ দিয়ে কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করতে মর্জি হয়।

আপনার একান্ত বাধ্যগত ছাত্রী

পূর্ণতা চৌধুরী

অষ্টম শ্রেণী

রোল নং- ১


বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরে উল্লিখিত , বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্রটি আপনারা অষ্টম শ্রেণী কিংবা তার নিচু পর্যায়ের শ্রেণীগুলোর জন্য ব্যবহার করতে পারেন। তবে আবেদন পত্র লেখার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো বাধ্যবাধকতা থাকেনা ‌। tags:

  • বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন ক্লাস ৭
  • বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন ৪র্থ শ্রেণি
  • বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন ৩য় শ্রেণি
  • বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন class 5

আরো পড়ুন,

বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন: এসএসসি

বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্র

প্রশ্ন:  মনে করো তুমি জাহানারা। তুমি দশম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত বিনা বেতনে পড়ার অনুমতি চেয়ে প্রধান শিক্ষক বরাবর একটি আবেদন পত্র লিখ ?

১৬ জুন ২০২২

বরাবর

প্রধান শিক্ষক,

আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল ।

ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫

বিষয় : বিনা বেতনে অধ্যয়নের অনুমতি প্রার্থনা করে আবেদন।

জনাব

সবিনয় নিবেদন এই যে আমি আপনার বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির একজন ছাত্রী। আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে আমি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আমাদের ছয় সদস্যবিশিষ্ট পরিবারে বাবাই একমাত্র উপার্জনক্ষম। বর্তমানে তিনি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামান্য বেতনভোগী টাইপিস্ট । আমার বড় তিন ভাই-বোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। কিন্তু বাবার স্বল্প আয়ে যেখানে সংসারই চলে না, সেখানে ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগান দেওয়া রীতিমতো দুঃসাধ্য ব্যাপার। তাই আপনি আমাকে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ প্রদান না করলে আমার লেখাপড়া হয়তো আর সম্ভব হবে না।

অতএব, বিনীত প্রার্থনা এই যে অনুগ্রহপূর্বক মানবিক বিবেচনা করে আমাকে আপনার বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে অধ্যয়ন করার সুযোগ দান করে আমার উচ্চতর শিক্ষালাভের পথ সুগম করে বাধিত করবেন।

নিবেদক

আপনার অনুগত ছাত্রী

জাহানারা

দশম শ্রেণি, রোল নম্বর-৪ (বিজ্ঞান বিভাগ)

আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল।


বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনারা উপরোক্ত আবেদন পত্রটি নবম দশম শ্রেণী অর্থাৎ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহার করতে পারেন।Tags:

  • বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন নবম শ্রেণি

বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন: কলেজ

বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্র

প্রশ্ন: মনে কর তুমি আতিয়া শাহানা পূর্ণতা । তুমি পাটগ্রাম কাজী জসীমউদ্দীন সরকারি ডিগ্রী কলেজের একজন শিক্ষার্থী। বিনা বেতনে অধ্যায়নের জন্য তোমার কলেজের অধ্যক্ষের নিকট একটি আবেদন পত্র লিখ ?

তারিখ: ২৩/০৯/২০২৩

বরাবর,

অধ্যক্ষ

পাটগ্রাম কাজী জসিম উদ্দিন সরকারি ডিগ্রী কলেজ।

পাটগ্রাম, লালমনিরহাট

বিষয়: বিনা বেতনে অধ্যায়ন প্রসঙ্গে আবেদন পত্র।

জনাব,

সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার কলেজের একাদশ শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্রী। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, কলেজে অনুষ্ঠিত অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা এবং আমাদের ক্লাসে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন মাসিক পরীক্ষাগুলোতে আমি সর্বদা ভালো নাম্বার অর্জন করেছি। আমার বাবা একজন‌ বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা। উল্লেখ্য যে, আমার বাবার মাসিক বেতন খুবই যৎসামান্য। সাম্প্রতিক সময়ে আমার বাবা মারাত্মক শারীরিক সমস্যায় পতিত হয়েছেন । আমার পরিবারে এক মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমার বাবা।আমার পড়ালেখা সহ সবকিছুর ভরণপোষণ আমার বাবা চালিয়ে থাকেন। কিন্তু এমতাবস্থায় আমার বাবার পক্ষে আমার ভরণপোষণ এবং পড়ালেখার খরচ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই আপনি বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ না দিলে আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

অতএব, মহোদয়ের সমীপে আকুল আবেদন এই যে, আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এবং আমার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আমার কলেজের বেতন।

অতএব, মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন এই যে, আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে আমাকে আপনার কলেজে বিনা বেতনে অধ্যায়নের সুযোগ করে দিয়ে আমাকে উচ্চতর শিক্ষা লাভের সুযোগ দিয়ে বাধিত করবেন।

আপনার একান্ত অনুগত ছাত্রী।

আতিয়া শাহানা পূর্ণতা।

দ্বাদশ শ্রেণী।

রোল নং-০৩

পাটগ্রাম কাজী জসিম উদ্দিন সরকারি ডিগ্রী কলেজ।

আরো পড়ুন,

বিনা বেতনে অধ্যায়নের জন্য আবেদন in english

Application for a full-free studentship: in this part of the article I am going to display two best applications about full free studentship.

The application about full-free studentship is a common application. Unfortunately our students always make mistake in some shots of things when they write any application.

Here we published two applications about full-free studentship. You can check it out.

Full free studentship applicaton for ssc and lower

বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্র

Question: suppose you are purrnota. Now, Write an application for a full-free studentship?

Date:12/12/23

To

The Headmaster

Patgram TN school and College

Patgram, Lalmonirhat

Subject: application for a full-free studentship.

Dear sir,

I have the honour to state that I am a regular student of class 10 of your school.My father is a a farmer.Generally he works in a local farm.He is only a earning member in our family.But unfortunately, he is suffering in a unknown physical problem . For this reason my family is in a huge economical problem. In such a difficult situation , Its impossible to bear my educational expenses for my father.So, I badly need a full free studentship. I would like to mention that I stood first in the last annual examination.

I therefore, hope and pray that you would be kind enough and grant me to continue my study further and oblige thereby.

You are most obedient pupil

Purrnota

Class-10

Roll-01

Patgram TN School and College

Full-free studentship application for college student.

বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্র

Question: suppose you are athiya Sahana. Now write an application to your principal for a full free studentship.

Date:12/12/23

To

The Headmaster

Patgram gov’t girls college

Patgram, Lalmonirhat

Subject: application for a full-free studentship.

Dear sir,

I have the honour to state that I’m a regular student of class 12 of your College.My father is a private office official. Note that my father’s monthly salary is very meager. Recently, my father has suffered from serious physical problems. My father is the only earner in my family. My father continues to support everything including my education. But in this situation it became impossible for my father to continue my maintenance and education expenses. So it will not be possible for me to continue my studies unless you give me the opportunity to study without pay.I badly need a full-free studentship. I would like to add that I stood First in the previous final examination.

I Therefore,hope and pray that you would be kind enough and by considering the financial condition of my family, you will oblige me to study in your college free of charge and give me the opportunity to get higher education.

Your are most obedient pupil

Athiya Sahana

Class-12

Roll-01

Patgram gov’t girls college

আমার শেষ কথা, 

আশা করি আপনাদের যথার্থ তথ্য দিতে পেরেছি” বিনা বেতনে অধ্যায়নের জন্য আবেদন পত্র” বা “application for a full-free studentship” সম্পর্কে। আপনারা যদি এরকম শিক্ষা বিষয়ক আরো আর্টিকেল পেতে চান তাহলে কমেন্ট করে জানান।

মৌলিক পদার্থ কাকে বলে? মৌলিক পদার্থ কি এবং কত প্রকার?

আজকের এই পোস্টে আমি মৌলিক পদার্থ কাকে বলে, মৌলিক পদার্থ কি?, মৌল কি? মৌলিক পদার্থ কত প্রকার? এবং যৌগিক পদার্থ কাকে বলে? এসব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

এছাড়াও এখানে অণু? পরমাণু কি? এ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা থাকবে।

মৌলিক পদার্থ কাকে বলে?

মৌলিক পদার্থ কাকে বলে, বইয়ের ভাষায় বলতে গেলে, যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বলে।যেমনঃ নাইট্রোজেন, ফসফরাস, কার্বন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, ক্যালসিয়াম, আর্গন, মিথেন ইত্যাদি।

রসায়নের ভাষায় মৌলিক পদার্থের অপর নাম মৌল।মৌলিক পদার্থকে বুঝতে হলে নিচের অংশটুকুও ভালো করে দেখতে হবে। (সহজ দুটি সংজ্ঞা)

মৌলিক পদার্থকে ভাঙলে কি পাওয়া যায়?

খাঁটি সোনা হচ্ছে মৌলিক পদার্থ। কারণ একে ভাঙলে সোনা ছাড়া আর কিচ্ছু বের হবে না।বাহ্যিকভাবে এটা মনে হতে পারে।

আসলে মৌলিক পদার্থেরও একটা ক্ষুদ্রতম অংশ আছে। মৌলিক পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ ঘটালে আপনি অণু পাবেন।

আবার অণুকে ভাঙলে কতকগুলো পরমাণু পাবেন।আবার পরমাণুকে ভাঙলেও আরো কিছু কণা বের হবে।

এখন পরমাণু এবং অণু থেকে মৌলিক পদার্থকে বর্ণনা করি ।

পরমাণু কি?

পদার্থের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম একককে পরমাণু বলে ।পরমাণুকে ভাঙলে আমরা মূলত তিনটি কণা পাই। সেগুলো হলোঃ ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন।

এছাড়া আরো কিছু কণা থাকে যা পরমাণুকে ভাঙলে পাওয়া যায়।সর্বপ্রথম ১৯১১ সালের বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পদার্থের এই অংশটির বিশদ ব্যাখ্যা তথা পরমাণুর ব্যখ্যা দেন।

মৌলিক পদার্থ কাকে বলে
                  পরমাণু

কিন্তু তার ব্যাখ্যাতে অনেক ভুল ছিলো।বলতে পারেন যে তিনি শুধু ফ্রেম আবিষ্কার করেছিলো। অবশ্য ইতোপূর্বে জন ডাল্টন সহ বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণু সম্পর্কে আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।

এরপর রাদারফোর্ডের পরমাণুর তত্ত্বটিকে সংশোধিত করে বিজ্ঞানী নিলস বোর ১৯১৩ সালে পুনোরায় পরমাণুর ব্যাখ্যা দেন। এরপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা বের হলেও আধুনিক বিজ্ঞানের ছোয়ায় তা কেটে উঠেছে।

অবশ্যই পড়ুন,

অণু কি?

কতকগুলো পরমাণু একত্রিত হয়ে অণু গঠিত হয়।তবে পদার্থের অণুগুলোর একটা বৈশিষ্ট হচ্ছে এটা ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট কতগুলো পরমাণু নিয়ে গঠিত হতে পারে ।আবার অনন্য কিছু পরমাণু নিয়েও এটি গঠিত হয়।

অণু কি?
অণু

অণু আবার দুই ধরনের হয়।একটা হচ্ছে মৌলিক পদার্থের অণু বা মৌলের অণু অন্যটি যৌগিক পদার্থের অণু বা যৌগের অণু।

একই ধর্ম বিশিষ্ট একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে যে অণু গঠিত হয় তাকে মৌলিক পদার্থের অণু বা মৌলের অণু বলে। 

যখন একাধিক মৌলের পরমাণু যুক্ত হয়ে অণু গঠিত হয় তখন তাকে যৌগিক পদার্থের অণু বা যৌগের অণু বলে। 

 

একই কণাযুক্ত ও ধর্মবিশিষ্ট কতকগুলো অণু-পরমাণু নিয়ে মৌলিক পদার্থ গঠিত। এটা বুঝানোর জন্য মাত্র।

এবার বুঝলাম যে, মৌলিক পদার্থকে ভাঙলে কিছু অণু পাবো আবার অণুকে ভাঙলে কিছু পরমাণু পাবো।

এবং সেগুলো হবে একই পদার্থের কণাযুক্ত এবং একই ধর্মবিশিষ্ট। তবে সংজ্ঞা হিসেবে ব্যবহারের জন্য এই সংজ্ঞা একটু দ্বিধাযোগ্য।

মৌলিক পদার্থ কাকে বলে?

একদম শুদ্ধ ভাষায় আমরা বলতে পারি, যে সসব পদার্থকে রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে একাধিক ধর্মবিশিষ্ট পদার্থ পাওয়া যায় না তাদেরকে মৌলিক পদার্থ বলে। 

আবার আমরা একই কথা ভিন্ন ভাবে বলতে পারি। যার কাছে যেটা সহজ লাগে।

যদি প্রশ্নে আসে মৌলিক পদার্থ কাকে বলে? তাহলে আমরা এর উত্তর হিসেবে দিতে পারি যে, যে পদার্থকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করলেও সেই পদার্থ ব্যতীত অন্য কোনো পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বলে। 

মৌলিক পদার্থ কত প্রকার?

২০১৮ সাল পর্যন্ত আবিষ্কৃত মৌলিক পদার্থের সংখ্যা ১১৮ টি।এদের মধ্যে প্রাকৃতিক ভাবে পাওয়া যায় প্রায় ৯৮ টি মৌলিক পদার্থ।যেমন বিভিন্ন প্রাকৃতিক খনি থেকে, ভূ-উপরিস্থ বিভিন্ন যৌগ থেকে ইত্যাদি।

এছাড়াও বাকি ২০ টি মৌল রাসায়নিকভাবে ল্যাবরেটরিতে উৎপন্ন করা হয়।এদের কৃত্রিম মৌল বলে।

জেনে রাখা ভালো, ল্যাবরেটরিতে উৎপন্ন সকল মৌল রেডিও একটিভ বা তেজস্ক্রিও ক্ষমতা সম্পন্ন।

আমাদের প্রায় সবকিছুই কোনো না কোনো পদার্থ দিয়ে গঠিত।আবাক করা তথ্য এই যে মানবদেহ প্রায় ২৬ টি ভিন্ন মৌল নিয়ে গঠিত।

মৌলিক পদার্থগুলোর ধর্ম এবং বিভিন্ন বর্ণনা বুঝতে হলে আপনাকে বুঝতে হবে পর্যায় সারণি সম্পর্কে। যারা ছোট তাদের দরকার না হলেও বড়দের দরকারে পরে এটা। 

পর্যায় সারণির একটি নমুনা।

নিচে পারমাণবিক সংখ্যার ক্রমানুসারে 118 টি মৌলিক পদার্থের নাম এবং এর প্রতীক উল্লখ করা হলোঃ

  1. হাইড্রোজেন (Hydeogen) – H
  2. হিলিয়াম (Helium) – He
  3. লিথিয়াম (Lithium) – Li
  4. বেরিলিয়াম (Beryllium) – Be
  5. বোরন‌ (Boron) – B
  6. কার্বন (Carbon) – C
  7. হাইড্রোজেন (Hydrogen) – H
  8. অক্সিজেন (Oxygen) – O
  9. ফ্লোরিন (Fluorine) – F
  10. নিয়ন (Neon) – Ne
  11. সোডিয়াম (Sodium) – Na
  12. ম্যাগনেশিয়াম (Magnesium) – Mg
  13. অ্যালুমিনিয়াম (Aluminium) – Al
  14. সিলিকন (Silicon) – Si
  15. ফসফরাস (Phosphorus) – P
  16. সালফার (Sulfur) – S
  17. ক্লোরিন (Cholorine) – Cl
  18. আর্গন (Argon) – Ar
  19. পটাশিয়াম (Potassium) – K
  20. ক্যালসিয়াম (Calcium) – Ca
  21. স্ক্যানডিয়ায় (Scandium) – Sc
  22. টাইটানিয়াম (Titanium) – Ti
  23. ভ্যানাডিয়াম (Vanadium) – V
  24. ক্রোমিয়াম (Chromium) – Cr
  25. ম্যাঙ্গানিজ (Manganese) – Mn
  26. আয়রন (Iron) – Fe
  27. কোবাল্ট (Cobalt) – Co
  28. নিকেল (Nickel) -Ni
  29. কপার (Copper) – Cu
  30. জিংক (Zinc) – Zn
  31. গ্যালিয়াম (Gallium) – Ga
  32. জার্মেনিয়াম (Germenium) – Ge
  33. আর্সেনিক (Arsenic) – As
  34. সেলেনিয়াম (Selenium) – Se
  35. ব্রোমিন (Bromine) – Br
  36. ক্রিপটন (Krypton) – Kr
  37. রুবিডিয়াম (Rubidium) – Rb
  38. স্ট্রোনসিয়াম (Strontium) – Sr
  39. ইট্রিয়াম (Yttrium) – Y
  40. জিরকোনিয়াম (Zirconium) – Zr
  41. নিওবিয়াম (Niobium) – Nb
  42. মলিবডেনাম (Molybdenum) – Mo
  43. টেকনেসিয়াম (Technetium) – Tc
  44. রুথেনিয়াম (Ruthenium) – Ru
  45. রোডিয়াম (Rhodium) – Rh
  46. প্যালাডিয়াম (Palladium) – Pd
  47. সিলভার (Silver) – Ag
  48. ক্যাডমিয়াম (Cadmium) – Cd
  49. ইন্ডিয়াম (Indium) – In
  50. টিন (Tin) – Sn
  51. এন্টিমনি (Animony) – Sb
  52. টেলুরিয়াম (Tellurium) – Te
  53. আয়োডিন (Iodine) – I
  54. জেনন (Xenon) – Xe
  55. সিজিয়াম (Caesium) – Cs
  56.  বেরিয়াম(Berium) – Ba
  57.  ল্যান্থানাম(Lanthanum) -La
  58.  সিরিয়াম (Cerium) -Ce
  59.   প্রাসিওডিমিয়াম(Praseodymium)- Pr
  60.   নিওডিমিয়াম(Neodymium) -Nd

Related contents

যৌগিক পদার্থ কাকে বলে?

যে সব পদার্থকে ভাঙলে দুই বা তার অধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায় তাদেরকে যৌগিক পদার্থ বলে।রসায়নের ভাষায় এর অপর নাম “যৌগ”।

এর আগে আমরা জানলাম যে মৌলিক পদার্থকে ভাঙলেও সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যাচ্ছে না।

কিন্তু এখন যৌগিক পদার্থের বেলায় জানছি যে যৌগিক পদার্থকে ভাঙলে কিছু মৌলিক পদার্থ বের হয়। আসলেই তাই।

আমাদের প্রকৃতে প্রায় সব ধরনের পদার্থ যৌগ আকারে থাকে। যেমন পানির কথা চিন্তা করো, সেখানে দুইটা হাইড্রোজেন পরমাণু+ একটা অক্সিজেন পরমাণু মিলে একটি পানির অণু তৈরি করছে।

আবার লবণের বেলায়, একটা সোডিয়াম পরমাণু+ একটা ক্লোরিন পরমাণু যুক্ত হয়ে একটা লবণের অণু তৈরি করছে।আবার অনেক লবণের অণু মিলে একত্রিত হয়ে লবণ নামক একটা পদার্থ তৈরি হচ্ছে।

এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিচ্ছি যে, যৌগে বিদ্যমান মৌলগুলোর অনুপাত সবসময় সমান থাকে।

উদাহরণ স্বরূপ, পানিকে বিবেচনা করি। পানির অণুতে দু’টা হাইড্রোজেন এবং একটা অক্সিজেন থাকে, তাহলে এর অণুপাত হলো ২:1 । এভাবে সকল যৌগ নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকে।

N.B: I recommend you to learn islamic knowledge from this site Upayjano.xyz

আজকে যে শিখলাম,

মৈলিক পদার্থ কাকে বলে? মৌলিক পদার্থ কি? মৌলিক পদার্থ কত প্রকার ও কি কি? এসব আলোচনা সংক্ষিপ্ত করে লিখেছি। তবুও যা লিখেছি তা মনে রাখতে পারলে যথেষ্ট।

এছাড়াও আমি বলে দিয়েছি অণু কি? পরমাণু কি? ইত্যাদি। এসব বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে বলতে পারেন। আজকে এ পর্যন্তই। আসসালামু আলাইকুম।

পদার্থ কাকে বলে? পদার্থ কি এবং কত প্রকার?

এই প্রকাশনায় আমরা পদার্থ কাকে বলে এর বিভিন্ন সংজ্ঞা তুলে ধরবো। শেষ পর্যন্ত দেখবেন আশা করি।

আমরা চারপাশে যা কিছু দেখি সবই পদার্থের অন্তর্ভুক্ত। এখানে যা কিছু বলতে সবকিছুকেই বুঝাচ্ছে।আপনি যা কিছুকেই নির্দেশ করেন সবই পদার্থের অন্তর্ভুক্ত।হ্যাঁ, ঠিক তাই। এমনকি আপনি যে গুগল ব্যবহার মোবাইল টিপে এই লেখা গুলো পড়ছেন সেটাও একটা পদার্থের তৈরি।

আপনি জেনে অবাক হবে যে আপনার দেহ বা শরীর অনেক ধরনের পদার্থ দিয়ে তৈরি। ঘড়-বাড়ি , বিদ্যালয় ভবন, বিছানা, ঘড়ি, ক্রিকেট ব্যাট, বল সবই বিভিন্ন রকমের পদার্থ দিয়ে তৈরি। 

পদার্থ কাকে বলে?

সাধারণভাবে বলা যায়, যার আকার আছে, ওজন আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। যেমনঃ বই খাতা, কলম, ব্যাগ, পানি, অক্সিজেন ইত্যাদি।

এগুলো প্রত্যেকটির ভর আছে কিন্তু স্থান এবং ক্ষেত্র বিশেষে এদের আকার এবং আয়তন ভিন্ন হয়।

কক্ষ তাপমাত্রা বা সাধারণ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন আবার কোনো পদার্থ তরল আবার কোনো পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে।

পদার্থ কি?

আরো বিশদভাবে বলতে গেলে পদার্থ কি বলতে বুঝায়, যা জায়গা দখল করে, যার আকার-আকৃতি ও ওজন আছে এবং বল প্রয়োগে বাধাঁ প্রদান করে তাকে পদার্থ বলে। জেনে রাখো প্রত্যেকটি পদার্থ বল প্রয়োগে বাধা প্রদান করে।

কঠিন এবং তরল পদার্থের উদাহরণ আমরা প্রায়ই দেখি যে এটিকে বল প্রয়োগ করলে বাধার সৃষ্টি করে। কিন্তু বায়বীয় পদার্থের বেলায় মনে পারে অন্য কিছু কিন্তু এটিও বাধা দেয় যদি এটিকে নির্দিষ্ট পাত্রে রাখা হয়।

অবশ্যই পড়ুন,

পদার্থ কত প্রকার ও কি কি?

পদার্থের প্রকারভেদ দুইভাবে করা হয়। একটি অবস্থাভেদে আরেকটি উপাদানভেদে।

অবস্থাভেদে পদার্থের প্রকারভেদঃ

উপাদানভেদে পদার্থ ৩ প্রকার। যথাঃ

১।কঠিন পদার্থ। (Solids)

২।তরল পদার্থ।(Liquids)

৩।গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থ(gases)

 

১। কঠিন পদার্থঃ

পদার্থ কাকে বলেকঠিন পদার্থ(Solids)

কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার থাকে, ভর থাকে, এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। এই পদার্থকে বল কিংবা চাপ প্রয়োগ করলে এত সহজে সংকুচিত হয় না। এর কারণ এই পদার্থের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল অনেক বেশী।

প্রত্যেক পদার্থের কণাগুলো মাঝে এক আকর্ষণ বল থাকে একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলে।কঠিন পদার্থের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বেশী বলে এর কণা গুলো খুব কাছাকাছি থাকে তাই এটাকে সংকুচিত করা খুব কষ্টের। নিচে পেরা আকারে কঠিন পদার্থের বৈশিষ্ট উল্লেখ করা হলো।

  • নির্দিষ্ট আকার আছে।
  • নির্দিষ্ট ভর আছে।
  • জায়গা দখল করে
  • বল প্রয়োগ করলে বাধা দান করে।
  • আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি অনেক বেশী।
  • তাপ দিলে এটি প্রসারিত হয়।

২। তরল পদার্থঃ

তরল পদার্থ(Liquids)

যে পদার্থের নির্দিষ্ট ভর এবং নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার নেই তাকে তরল পদার্থ বলে। তরল পদার্থকে যেই পাত্রে রাখা হয় সেটি সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। নিচে তরল পদার্থের কিছু বৈশিষ্ট দেয়া হলোঃ

  • নির্দিষ্ট আয়তন আছে।
  • নির্দিষ্ট ভর আছে।
  • তবে এর নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
  • চাপ প্রয়োগ করলে তরল পদার্থের আয়তন হ্রাস পায়।
  • তাপ প্রয়োগ করলে এর আয়তন বৃদ্ধি পায়।(কঠিন পদার্থের তুলোনায় অধিক হারে।)
  • অভিকর্ষ বল অনুযায়ী এটি নিচের দিকে গড়িয়ে চলে।

৩।গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থঃ

বায়বীয় পদার্থ(Gases)

যে পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই তাকে বায়বীয় পদার্থ বলে।এই পদার্থে বিশেষত্ব হলো, এটিকে যেকোনো পরিমাণে যেকোনো পাত্রে রাখা যায় এবং এটি পাত্রের পুরো যায়গা দখল করবে।যেমন, একটি সিলিন্ডারে ১২ কেজি গ্যাস রাখা হয় এবং বায়বীয় পদার্থ পুরো সিলিন্ডার জুড়ে অবস্থান করে।

কিন্তু একই সিলিন্ডারে ইচ্ছা করলে আমরা ১২ কেজিএ বেশী গ্যাস রাখতে পারবো এবং সেখানেও বায়বীয় পদার্থ পুরো সিলিন্ডার জুড়ে অবস্থান করবে। নিচে বায়বীয় পদার্থের কিছু বৈশিষ্ট দেয়া হলোঃ

  • বায়বীয় পদার্থ নির্দিষ্ট জায়গা দখল করে
  • এটির নির্দিষ্ট ভর আছে।
  • কিন্তু এটির নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই।
  • তাপ হ্রাস করে একে তরলে পরিণত করা যায়।
  • চাপ প্রয়োগে সংকুচিত করা যায়।

এছাড়াও, 

উপাদান ভেদে পদার্থের প্রকারভেদ

উপাদান ভেদে পদার্থকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথাঃ

১।মৌলিক পদার্থ।(Elements)

২।যৌগিক পদার্থ।(compounds)

 

১। মৌলিক পদার্থ 

মৌলিক পদার্থ কাকে বলে, এটি প্রশ্নে আসলে সাধারণভাবে এর উত্তর টা হবে,

যে পদার্থকে ভাঙলে সে পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বলে। রসায়নের ভাষায় একে মৌল বলে। যেমন, আপনি যদি সোনাকে ভাঙতে চান তাহলে সেখানে সোনা ছাড়া আর কিছু পাবেন না। লোহা কিংবা তামার ক্ষেত্রেও তাই। তাই এগুলোকে আমরা মৌলিক পদার্থ বলতে পারি।

এ পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রায় ১১৮ টি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮ টি মৌল বা মৌলিক পদার্থ প্রাকৃতিক পরিবেশে পাওয়া যায় বাকিগুলো বিভিনো পবেষণাগারে তৈরি করা হয়।

২।যৌগিক পদার্থঃ

যৌগিক পদার্থ কাকে বলে? এর উত্তরে আমরা বলতে পারি, যে সকল পদার্থ দুই কিংবা এর অধিক মৌলিক পদার্থ নিয়ে গঠিত তাকে যৌগিক পদার্থ বলে।এর উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি, পানির কথা। পানি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নামক দুইটি মৌলিক পদার্থ দিয়ে তৈরি তাই পানিকে যৌগিক পদার্থ বলা হয়।

আজকে এ পর্যন্তই।

আমাদের শেষ কথা, 

আমাদের এই পোষ্টটিতে যেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে সেগূলো হলো পদার্থ কাকে বলে, পদার্থ কাকে বলে class 4, পদার্থ কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি, গ্যাসীয় পদার্থ কাকে বলে, কঠিন তরল ও বায়বীয় পদার্থ কাকে বলে। এগুলো আমরা যথার্থ পরিমাণে তথ্য বহুল লেখার মাধ্যমে তুলে ধরেছি। এছাড়াও, মৌলিক পদার্থ ও যৌগিক পদার্থ কাকে বলে, পদার্থ কাকে বলে বাংলায়

এসব প্রশ্নের উত্তর ও দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে কোনো প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট এ জানাবেন। আসসালামু আলাইকুম।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি রচনা, সাথে পিডিএফ (পরীক্ষা ও রচনা প্রতিযোগিতার জন্য)

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি রচনা নিয়ে আমাদের এই আর্টিকেল সাজানো হয়েছে। যারা রচনা প্রতযোগিতা কিংবা পরীক্ষায় লেখার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি রচনা খুজছেন। পুরো পোস্টটি পড়ুন। প্রথমে আমরা যথাসম্ভব ছোটো করে একটি রচনা তুলে ধরেছি। পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি রচনা ছোট লিখেছি। পরীক্ষার হলে তো আর বড় করে রচনা লিখা সম্ভব না। 

আর যারা রচনা প্রতিযোগিতার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি রচনা খুজছেন, তাদের জন্য আমি সর্বশেষ একটি আলাদা ভাবে এবং অনেক বড় করে এই রচনা লিখেছি। এবং যারা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি রচনা পিডিএফ খুজছেন তারা এই পোস্টের একদম নিচে চলে যান। সেখানেই খুজে পাবেন পিডিএফ ডাউনলোড করার লিংক।

 

পরীক্ষায় লেখার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি রচনা

 

ভূমিকা :

একবিংশ শতাব্দীর এ পৃথিবীকে বলা হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবী । কারণ প্রযুক্তি এখন মানুষের হাতের নাগালে । তথ্য সংগ্রহে বইনির্ভরতা জনপ্রিয়তা হারিয়েছে বেশ ক’বছর আগেই । সে স্থান দখল করেছে কম্পিউটার , মোবাইল , ট্যাবলেটসহ আরও অত্যাধুনিক সব ডিভাইস । এখন তথ্য সংগ্রহের মূল কাজ চলে ইন্টারনেট থেকে । ইন্টারনেটের বদৌলতে সারা পৃথিবী এখন মানুষের তালুবন্দি । বলা হচ্ছে , পৃথিবীর সকল সভ্য মানুষ প্রযুক্তির এ বিপ্লবে শামিল হবে । তথ্য পৌছে যাবে সবার পকেটে ।

 

তথ্যপ্রযুক্তি কী : 

তথ্য ও প্রযুক্তি দুটি শব্দের মেলবন্ধনে একটি সামগ্রিক ধারণা আমাদের সামনে ফুটে ওঠে । আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে তথ্য সংরক্ষণ , সরবরাহ , সংযোজন , বিয়োজন করাই হলো তথ্যপ্রযুক্তি । এ বিষয়টির মাধ্যমে পৃথিবীর তাবৎ তথ্যকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হয় । কারণ তথ্যই সম্পদ— আর এ সম্পদের সঠিক ব্যবহার করতে শৃঙ্খলা অত্যাবশ্যক । সামগ্রিক তথ্যকে আধুনিক নানা দৃষ্টিকোণ থেকে প্রয়োজনমাফিক মানুষের সামনে পরিবেশন করাই তথ্যপ্রযুক্তির কাজ ।

তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষে ডিজিটাল কম্পিউটার : 

ডিজিটাল কম্পিউটারই তথ্যপ্রযুক্তিতে সমগ্র বিশ্বে বিপ্লব ঘটিয়েছে । আধুনিক জীবনযাপনের প্রায় সর্বাংশ জুড়েই রয়েছে কম্পিউটারের অস্তিত্ব । শিল্প , সাহিত্য , বিনোদন , ব্যবসা সবই এখন কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল । শিক্ষার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে ডিজিটাল কম্পিউটারের সামগ্রিক বিস্তৃতির কারণে । ই – কমার্সের বদৌলতে পৃথিবীব্যাপী পণ্যের যে সম্ভার সৃষ্টি হয়েছে তা কম্পিউটারের কারণেই সম্ভব হয়েছে । বর্তমান সময়ে কম্পিউটারই মানুষকে সৃজনশীল হতে প্রেরণা জোগাচ্ছে ।

তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট :

বিশ্বব্যাপী আজ যে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সৃষ্টি হয়েছে তার মূল কারিগর ইন্টারনেট । ইন্টারনেটের মাধ্যমেই আমরা জুড়ে যাচ্ছি সমগ্র পৃথিবীর কম্পিউটারের সাথে । সাধারণ কোনো তথ্যের জন্য এখন ইন্টারনেটের বিকল্প নেই । খবরের কাগজ , গবেষণা জার্নালসহ নানা পুস্তকাদি মানুষ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করেই পড়ে থাকে । কেনাকাটার সবচেয়ে বড়ো মাধ্যম এখন ইন্টারনেট । ফেসবুক , টুইটার , স্কাইপ , হোয়াট্সঅ্যাপ ইত্যাদির কল্যাণে বন্ধুত্ব , আড্ডাসহ সামাজিক যোগাযোগ এখন ইন্টারনেটনির্ভরতার পর্যায়ভুক্ত । বিজ্ঞাপন বা নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর জন্য এখন ইন্টারনেটের সাহায্য নেওয়া হয় । দূর – দূরান্তে মানুষের নানা অজানা বিষয় আজ ইন্টারনেটের বদৌলতেই আলোর দেখা পাচ্ছে । এককথায় বলতে গেলে সরল কিংবা জটিল , সহজ কিংবা কঠিন , গুরুত্বপূর্ণ কিংবা তুচ্ছ , সব কাজই এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে করা হচ্ছে । যত দিন যাচ্ছে এর ব্যবহার তত বৃদ্ধি পাচ্ছে । বিজ্ঞানী , সাহিত্যিক , শিল্পীসহ নানা মানুষ তাদের যাবতীয় সৃষ্টিকর্মের কথা উপস্থাপন করছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ।

মোবাইল ফোন ও তথ্যপ্রযুক্তি : 

মোবাইল ফোন এখন মানুষের হাতে হাতে । এক সমীক্ষায় দেখা গেছে , বর্তমানে টুথব্রাশ ব্যবহারকারীর চেয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি । তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারে মোবাইল ফোন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে । বর্তমানে মোবাইল ফোনের ব্যবহার শুধু কথা বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি । স্মার্ট মোবাইল । ফোনের মাধ্যমে তথ্য আদান – প্রদানের যাবতীয় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে । মোবাইল ফোনকে মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই কম্পিউটারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে । ফলে তথ্য নিমেষেই মানুষের হাতের তালুতে বন্দি হয়ে যাচ্ছে ।

 

তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব : 

তথ্যই মানুষের সকল জ্ঞানের উৎস । তাই তথ্যের প্রবাহকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাঘ না । তথ্যের মাধ্যমেই মানুষ অজানাকে জেনে সমৃদ্ধ হয় । মানুষের ভেতরের জ্ঞানস্পৃহাকে তথ্যের মাধ্যমেই সন্তুষ্ট করা সম্ভব । যেকোনো সমস্যাকে এখন সমস্যা হিসেবে না দেখে সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হয় । তা সম্ভব হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তির এই অবাধ প্রবাহের কারণেই । তাই একবিংশ শতাব্দীর মানুষের জীবনে তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম ।

তথ্যপ্রযুক্তির ভবিষ্যৎ : 

দিন দিন তথ্যপ্রযুক্তি উৎকর্ষের পথ ধরেই হাঁটছে । যেভাবে এসময়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে , ঠিক সেভাবেই বা তার চেয়ে উন্নততরভাবে ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করা হবে । আজ যাকে অসম্ভব বলে বোধ হচ্ছে কাল হয়তো তাকেই তথ্যপ্রযুক্তির বদৌলতে সম্ভব করা যাবে । আশা করা যায় , পরবর্তীকালে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আরও উন্নততর গবেষণা হবে এবং মানুষের কল্যাণে তা ব্যবহৃত হবে ।

উপসংহার :

তথ্যপ্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা মানুষকে নির্ভার করেছে বহুভাবে । হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে গোটা পৃথিবীকে । এ কারণে মানুষ আজ এত বেশি তথ্য সম্পৃক্ত । যার কাছে তথ্য নেই সে নির্ধনের কাতারে শামিল হচ্ছে । তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নই পৃথিবীকে সমৃদ্ধি এনে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি ।

এখানে একটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি  রচনার নমুনা দেয়া হলো

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি রচনা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি রচনা (পিডিএফ)

 

পিডিএফটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন



রচনা প্রতিযোগিতার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি রচনা।

ভূমিকাঃ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বলতে আমরা তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এক ধরনের একীভূত অবস্থাকে বুঝি । টেলিযোগাযোগ , কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও তৎসম্পর্কিত সফটওয়্যার , তথ্য সংরক্ষণ , অডিও – ভিডিও সিস্টেম ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত এ ব্যবস্থার মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী খুব সহজে তথ্য গ্রহণ , সংরক্ষণ , সঞ্চালন ও বিশ্লেষণ করতে পারেন । এর ব্যাপক ব্যবহারের ফলে বর্তমান বিশ্ব মানুষের জন্য শ্রেয় হতে শ্রেয়তর হচ্ছে । সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত কাজ থেকে রাষ্ট্রের বড় বড় কাজে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার হচ্ছে । এখন অনেক কাজ সহজ হয়ে গেছে এবং নতুন নতুন কাজ সৃষ্টি হচ্ছে এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে ।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারঃ

দৈনন্দিন জীবনে প্রায় সব ক্ষেত্রেই এখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রভাব আছে । তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার উল্লেখ করা হলো :

  •  বিদেশ থেকে সহজেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা পাঠানো । 
  •  মোবাইল ফোনেই পরীক্ষার ফলাফল জেনে নেওয়া । ৩. ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে চাকরির দরখাস্ত করা ।
  • মোবাইলের মাধ্যমেই ট্রেনের টিকেট কাটা ।
  •  প্রয়োজনীয় তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ইন্টাররেটের মাধ্যমে জেনে নেওয়া ।
  •  বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নাগরিক সেবাসমূহ অনলাইনের মাধ্যমে জেনে নেওয়া ।
  • একজন শিক্ষার্থীর শ্রেণির কাজের কঠিন সমস্যাটি ইন্টারনেট ব্যবহারের মধ্যমে সাহায্য নেওয়া।

এছাড়াও ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা ভর্তি পরীক্ষার অনলাইন আবেদন , চাকুরির সন্ধান , সংবাদপত্র , একে অপরের সাথে ভিডিও কথাবার্তা , চিঠি আদান – প্রদান , সরকারি – বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুসন্ধান , পড়াশোনা , ঘরে বসেই অর্থ উপার্জন ( ফ্রিল্যান্সিং ) , লেন – দেন , ব্যবসা বাণিজ্যসহ অনেক কিছুই করতে পারি ।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশেরর ফলে বর্তমানে যোগাযোগ হয়ে পড়েছে সহজ , সাশ্রয়ী এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ । ইন্টারনেটের ব্যবহার , ই -মেইল , মোবাইল ফোন ও মেসেজিং সিস্টেম , ব্লগিং এবং সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মসমূহ ব্যবহার করে বর্তমানে আইসিটিভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ অনেকাংশে সহজ ।

প্রচলিত কর্মক্ষেত্র এবং পুরাতন ব্যবসা – বাণিজ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কর্মীদের দক্ষতা , জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা বেড়েছে । অন্যদিকে এর ফলে সেবার মানও উন্নত হয়েছে । বর্তমানে দেশের অধিকাংশ চাকরি ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সাধারণ দক্ষতা একটি প্রাথমিক যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয় ।

ব্যাংক , বিমা থেকে করে বহুজাতিক কোম্পানি , সরকারি দপ্তরে কাজ করার জন্য ওয়ার্ড প্রসেসর থেকে উপস্থাপনা সফটওয়্যা ইন্টারনেট ব্রাউজিং থেকে ই – মেইল , নানান ধরনের বিশ্লেষণী সফটওয়্যার ইত্যাদিতে দক্ষ হতে হয় ।

পাশাপশি বিভিন্ন বিশেষায়িত সফটওয়্যার ( যেমন : ব্যাংকিং সফটওয়্যার ) ব্যবহারেও পারদর্শিতা অর্জন করতে হয় । অন্যদিকে আইসিটি নিজেই একটি বড় আকারের কর্মবাজার সৃষ্টি করেছে । হার্ডওয়্যার , সফটওয়্যার থেকে করে ওয়েবসাইট নির্মাণ , রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি এখন নতন দক্ষ কর্মীদের জন্য একটি বিরাট কর্মক্ষেত্র ।

কেবল দেশে নয় , তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কর্মীরা দেশের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানে অথবা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারে এই কাজের একটি বড় অংশ দেশে বসেই সম্পন্ন করা যায় । আউটসোর্সিং করে এখন অনেকেই বাংলাদেশে জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে ।

 

একসময় ছিল যখন পরীক্ষার আবেদন করার জন্য হেটে হেটে নদীর ঘাটে যাওয়া , সেখান থেকে নৌকা করে পার হয়ে শহরে যাওয়া , সেখানে দরখাস্ত টাইপ করে , তারপর সেটি পাঠানো । কত কাজ ! ফলে অনেক সময়ের প্রয়োজন হতো ।

কিন্তু বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই পরীক্ষার আবেদন কয়েকমুহুর্তের মধ্যে করা যায় ।

তথ্য প্রযুক্তির উপকরণঃ

তথ্য প্রযুক্তির উপকরণ বলতে আধুনিক প্রযুক্তিময় যন্ত্রপাতি গুলোকে বুঝায়। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি হাজার হাজার যন্ত্রপাতি সম্বলিত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি বা উপকরণ নিম্নরূপ

  • কম্পিউটারঃ কম্পিউটার আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির বাহক। এটির মাধ্যমেই আজকের তথ্যপ্রযুক্তি বিকশিত। আবার এটিই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উপকরণ। যেকোনো গবেষণা, হিসাব নিকাশ, তথ্য সংরক্ষণ, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ কম্পিউটার ব্যবহার করে খুব সহজেই করা যায়।
  •  মোবাইল : বর্তমানে সব থেকে বেশি ও কম খরচে যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে মোবাইল ফোন । এটির মাধ্যমে যেকোনো স্থানে যোগাযোগ করা সম্ভব । এমনকি ইমেইল ও ছবি আদান – প্রদান করা যায় ।
  •   ফ্যাক্স : ফ্যাক্সের মাধ্যমে জরুরি লিখিত তথ্য ও ছবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রেরণ করা যায় । ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বৃদ্ধি পায় ।
  •   ই – মেইল : ই – মেইল ব্যবসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কারণ এর মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে লিখিত চুক্তিপত্র বা পণ্যের ছবি ক্রেতার কাছে পাঠানো যায় ।
  •   ইন্টারনেট : ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো খবর সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়া যায় ।
  •   ইন্ট্রানেট : অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ইন্টারনাল নেটওয়ার্ক স্থাপন করেন । একেই ইন্ট্রানেট বলে ।

অবশ্যই পড়ুন,

বেকার সমস্যা নিরসনা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিঃ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অন্যতম হাতিয়ার হলো ইন্টারনেট । ইন্টারনেট বিকাশের ফলে বর্তমানে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য ঘরে বসে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে । বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন করার ফলে বিভিন্ন নতুন নতুন কাজের সৃষ্টি হয় । যেমন— ওয়েবসাইট উন্নয়ন , রক্ষণাবেক্ষণ , মাসিক বেতন পেমেন্ট সিস্টেম , ভাতার বিল প্রস্তুতকরণ , অফিস অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম , সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ , অফিস ব্যবস্থাপনা , অফিসের কার্যক্রম সিসিটিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ সহ দক্ষ জনবলের প্রয়োজন । এছাড়াও মোবাইল অপারেটর কোম্পানিতে বিপুল সংখ্যক কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে । স্কুল – কলেজে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির পাঠ সংযোজন করা হয়েছে। দেশের কলেজ – বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ানো হচ্ছে । দেশের তরুণ প্রজন্ম বিভিন্ন সফটওয়্যার -কাম্পানিতে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরা কোম্পানি গড়ে তুলছে এবং বিশাল সংখ্যক তরুণ – তরুণ ব্যক্তিগত পর্যায়ে আউটসোর্সিং করে দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করছে ।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে । ফলে বেকার সমস্যা নিরসন হবে।

কর্ম সৃজন ও কর্ম প্রাপ্তিতে তথ্য প্রযুক্তির ভূমিকাঃ

বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সমৃদ্ধ বিশ্বে কর্মসৃজন ও কর্ম প্রাপ্তি এক নতুন মাত্রা পেয়েছে । তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিপুল বিকাশের ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি । 

তথ্য প্রযুক্তির বিকাশের ফলে কিছু কিছু সনাতনী কাজ বিলুপ্ত হয়েছে বা বেশ কিছু কাজের ধারা পরিবর্তিত হয়েছে বটে , তবে অসংখ্য নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ।

এক গবেষণায় দেখা গেছে , প্রতি এক হাজার ইন্টারনেট সংযোগের ফলে নতুন ৮০ টি কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে । মানুষ এখন ঘরে বসেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে আয় করতে পারছে । সুতরাং বলা যায় , কর্মসৃজন ও কর্ম প্রাপ্তিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও তথ্যপ্রযুক্তিঃ

বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার প্রায় সব যায়গায় চলে। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে সচিবালয় , সরকারি বিভাগ , অধিদপ্তর , শাখা , সিটি কর্পোরেশন এমনকি ইউনিয়ন পরিষদগুলোকেও ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে । সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ওয়াইফাই ব্যবস্থা চালু হয়েছে ।

ভর্তিপদ্ধতি , প্রশাসনিক কাজ , ক্লাস পদ্ধতি ডিজিটাল মাধ্যমে করা হচ্ছে । দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি ৮১ লাখ যার মধ্যে ৯ কোটি ২৪ লাখই মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ।

ওয়াইম্যাক্স গ্রহকের সংখ্যা ৪০ হাজারের আশপাশে , অন্যদিকে ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৫৭ লাখ ৩৫ হাজার । প্রায় ১৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে ।

কালিয়াকৈরে গড়ে উঠেছে সফটওয়্যার পার্ক । বিদেশ থেকে সহজে টাকা পাঠানোর জন্য চালু হয়েছে পে – পল পদ্ধতি । সরকারি বেসরকারি সকল ব্যাংক বর্তমানে অনলাইন ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে । টেলিকমিউনিকেশন পদ্ধতিকে আরও উন্নত করার জন্য দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ হয়েছে । এছাড়া সরকার বিভিন্ন আইসিটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে যা একটি পরিপূর্ণ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে । তারহীন উচ্চগতি ইন্টারনেট ওয়াইম্যাক্স সহজলভ্য হোক এবং সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক– এটাই সবার প্রত্যাশা । আশা করি , বাংলাদেশ সরকার দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্কের কাজ তাড়াতাড়ি চালু করবে । বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে । আমরা যদি গ্রামের মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী করতে পারি , তাহলেই বাংলাদেশকে ডিজিটাল দেশ হিেেসব গড়ে তোলা যাবে ।

দক্ষতা উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিঃ

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে একজন কর্মী অনেক বেশি দক্ষ হয়ে ওঠে । ফলে , অনেক প্রতিষ্ঠানই স্বল্প কর্মী দিয়ে বেশি কাজ করিয়ে নিতে পারে । উদাহরণ হিসেবে নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে –

• বিভিন্ন কারখানার বিপজ্জনক কাজগুলো মানুষের পরিবর্তে রোবট কিংবা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যেতে পারে ।

• কর্মস্থলে কর্মীদের উপস্থিতির সময়কাল , তাদের বেতন – ভাতাদি ইত্যাদি হিসাব করার জন্য বেশ কিছু কর্মীর প্রয়োজন হয় । কিন্তু স্বয়ংক্রিয় উপস্থিতি যন্ত্র , বেতন – ভাতাদি হিসাবের সফটওয়্যার ইত্যাদির ব্যবহারের মাধ্যমে এ সকল কাজ সম্পন্ন করা যায় ।

• বিভিন্ন গুদামে মালামাল সুসজ্জিত করার কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যায় ।

• টেলিফোন এক্সচেঞ্জে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে পৃথক জনবলের প্রয়োজন হয় না ।

• স্বয়ংক্রিয় ইন্টারেকটিভ ভয়েস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দিন – রাত যেকোনো সময় গ্রাহকের নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব দেওয়া যায় ।

• ব্যাংকের এটিএম এর মাধ্যমে যেকোনো সময় নগদ অর্থ তোলা যায় ।

 

অন্যদিকে আইসিটির কারণে অনেক কাজের ধরন প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে । এর মধ্যে রয়েছে –

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার জন্য নিজেকে ক্রমাগত দক্ষ করে তুলতে হয় । ফলে দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে ।

• কম্পিউটারের সাহায্যে অনেক ধরনের কাজ ঘরে বসেই করা সম্ভব হচ্ছে । আবার অনেক ক্ষেত্রে পূর্বে বিশেষ দক্ষতা না থাকলে যে কাজ সম্পন্ন করা যেত না , এরূপ অনেক কাজ কম্পিউটারের সহায়তায় সহজে সম্পন্ন করা যাচ্ছে । যেমন ফটোগ্রাফি বা ভিডিও এডিটিং ।

  •    অনেকে ঘরে বসে কাজ করছে । ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন ভার্চুয়াল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে । এ সকল প্রতিষ্ঠানে সহায়ক কর্মীর সংখ্যা যেমন কমেছে , তেমনি তাদের কাজের ধরনও পাল্টে গেছে ।
  •  স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনিটরিং করা সম্ভব হওয়াতে কর্মীদের কাজে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে , ইত্যাদি ।

 

তথ্য প্রযুক্তি ও আউটসোর্সিংঃ

ইন্টারনেটের বিকাশের ফলে বর্তমানে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য ঘরে বসে অন্য দেশের কাজ করে দেওয়ায় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে । বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের নিজেদের অনেক কাজ , যেমন – ওয়েবসাইট উন্নয়ন , রক্ষণাবেক্ষণ , মাসিক বেতন ভাতার বিল প্রস্তুতকরণ , ওয়েবসাইটে তথ্য যোগ করা , সফটওয়্যার তৈরি ইত্যাদি অন্য দেশের কর্মীর মাধ্যমে সম্পন্ন করে থাকে । এটিকে বলা হয় আউটসোর্সিং ( Outsourcing ) । ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে যে কেউ এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে । এক্ষেত্রে কাজের দক্ষতার পাশাপাশি ভাষা দক্ষতাও সমানভাবে প্রয়োজন হয় । এই সকল কাজ ইন্টারনেটে অনেক সাইটে পাওয়া যায় । এর মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলো ওডেস্ক ( www.odesk.com ) , ফ্রিল্যান্স ( www.freelancer.com ) , ইল্যান্স ( www.elance.com ) ইত্যাদি । বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় তিরিশ সহস্রাধিক মুক্ত পেশাজীবী এই সকল সাইটের মাধ্যমে আন্তকর্মসংস্থানে সক্ষম হয়েছে ।আমাদের দেশের অনেক তরুণ-তরুণী এই পেশার সাথে জড়িত। নিজে নিজে স্বাবলম্বী হয়া এবং উদ্দোক্তা হয়ার জন্য এই পেশা আমাদের দেশে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিঃ

পৃথিবীতে জ্ঞান অর্জনের একটা সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি দীর্ঘদিন থেকে মোটামুটি একইভাবে কাজ করে আসছিল । তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি হওয়ার পর প্রথমবার সেই পদ্ধতির এক ধরনের পরিবর্তন হতে শুরু করেছে এবং ই – লার্নিং নামে নতুন কিছু শব্দের সাথে আমরা পরিচিত হতে শুরু করেছি ।

ই – লার্নিং শব্দটি ইলেকট্রনিক লার্নিং কথাটির সংক্ষিপ্ত রূপ এবং এটা বলতে আমরা পাঠদান করার জন্যে সিডি রম , ইন্টারনেট , ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক কিংবা : টেলিভিশন চ্যানেল ব্যবহার করার পদ্ধতিকে বুঝিয়ে থাকি । মনে রাখতে হবে ই – লার্নিং কিন্তু মোটেও সনাতন পদ্ধতিতে পাঠদানের বিকল্প নয় , এটি সনাতন পদ্ধতির পরিপূরক ।

উদাহরণ দেওয়ার জন্যে বলা যায় , শ্রেণিকক্ষে বিজ্ঞানের একটা বিষয় পড়ানোর সময় অনেক কিছুই হয়তো হাতে – কলমে দেখানো সম্ভব নয় । যেমন- সূর্যগ্রহণ , চন্দ্রগ্রহণ ইত্যাদি । শ্রেণিকক্ষে পাঠ দিতে দিতে শিক্ষক ইচ্ছে করলেই মাল্টিমিডিয়ার সাহায্য নিয়ে আরও সুন্দরভাবে বিষয়টির দৃশ্যমান উপস্থাপন করতে পারেন । সেটি এমনকি Interactive- ও হতে পারে ।

আমরা সবাই জানি বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী বিশাল । সে কারণে স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যাও বিশাল । নানা ধরনের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে আমাদের স্কুলগুলোতে দক্ষ শিক্ষকের অভাব রয়েছে ।

লেখাপড়ার জন্যে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বলতে গেলে নেই । ল্যাবরেটরি অপ্রতুল , ফলে হাতে – কলমে বিজ্ঞানের এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ খুব কম । এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্যে ই – লার্নিং অনেক বড় একটা ভূমিকা রাখতে পারে । দক্ষ একজন শিক্ষকের পাঠদান ভিডিও করে নিয়ে সেটি অসংখ্য স্কুলে বিতরণ করা যেতে পারে ।

একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে বোঝানোর জন্যে অনেক ধরনের সহায়ক প্রক্রিয়া ছাত্রছাত্রীদের দেয়া যেতে পারে । একজন শিক্ষক চাইলে নিজেই তার পাঠদানে সহায়তা করার জন্যে প্রয়োজনীয় বিষয় তৈরি করতে পারেন এবং সেটি বারবার ব্যবহার করতে পারেন । বাংলাদেশের অনেক শিক্ষকই এটি ব্যবহার করছেন ।

সারা পৃথিবীতেই ই – লার্নিংয়ের জন্যে নানা উপকরণ তৈরি হতে শুরু করেছে । পৃথিবীর বড় বড় অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য কোর্স অনলাইনে উন্মুক্ত করে দিয়েছে এবং যে কেউ সেই কোর্সটি গ্রহণ করতে পারে । বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছে এবং অনেক সময়েই একজন সেই কোর্সটি নেয়ার পর তার হোমওয়ার্ক জমা দিয়ে কিংবা অনলাইনে পরীক্ষা দিয়ে সেই কোর্সটির প্রয়োজনীয় ক্রেডিট পর্যন্ত অর্জন করতে পারছে ।

আমাদের বাংলাদেশও এতে পিছিয়ে নেই । বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা এ ধরণের বেশ কিছু ওয়েব পোর্টাল তৈরি করেছেন এবং সারা পৃথিবী থেকে যে কেউ বাংলা ভাষায় সেই কোর্সগুলো গ্রহণ করতে পারে । বিশেষ করে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে প্রশিক্ষণ নেয়ার উপযোগী এই ধরনের সাইটগুলো দেশে – বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে ।

আমাদের দেশে উত্তম পাঠদানের সীমাবদ্ধতা দূর করার ব্যাপারে ই – লার্নিং অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারলেও আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে , এটি কিন্তু কোনোভাবেই প্রচলিত পাঠদানের বিকল্প নয় । প্রচলিত পাঠদানের সময় একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের সরাসরি দেখতে পারেন , তাদের সাথে কথা বলতে পারেন , শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সাথে নানাভাবে ভাব বিনিময় করতে পারে , প্রশ্ন করতে পারে ।

শুধু তাই নয় , তারা পাশাপাশি একে অন্যকে সাহায্য করতে পারে , একে অন্যের সহযোগী হয়ে শিখতে পারে । ই – লার্নিংয়ের বেলায় এই বিষয়গুলো প্রায় সময়ই অনুপস্থিত থাকে , পুরো প্রক্রিয়ায় মানবিক অংশটুকু না থাকায় পদ্ধতিটা যান্ত্রিক বলে মনে হতে পারে । সে কারণে ই – লার্নিংকে সফল করতে হলে শিক্ষার্থীদের অনেক বেশি উদ্যোগী হতে হয় ।

আমাদের বাংলাদেশে ই – লার্নিংয়ের অনেক বড় সুযোগ আছে , কারণ অনেক বড় বড় সীমাবদ্ধতা আসলে ই লার্নিং ব্যবহার করে সমাধান করে ফেলা সম্ভব । তবে প্রচলিত ই – লার্নিংয়ের জন্যে ইন্টারনেটের স্পিড , প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং ইলার্নিংয়ের শিখনসামগ্রী ( Materials ) তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে ।

বর্তমান সরকার গুরুত্বের সাথে এ ধরণের শিখনসামগ্রী তৈরি করছে । এতে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের শিক্ষা অর্জনে সক্ষম হবে ।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি 

চিকিৎসা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কম্পিউটারের দ্বারা রোগ নির্ণয় ও ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণের কাজ করা হয় । ফলে ভুল হবার সম্ভাবনা কম থাকে । রোগ নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার পাওয়া যায় । রোগীর সব লক্ষণ ও রক্ত , মূত্র ইত্যাদি পরীক্ষার ফল কম্পিউটারে ইনপুট দিলে কম্পিউটার উভয়ের তুলনা করে সম্ভাব্য রোগ বলে দেয় । এছাড়া কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত I এছাড়াও কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত স্ক্যান্যার মস্তিষ্ক ও শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট সূক্ষ্মভাবে বিচার করে কোথাও কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কিনা বা থাকলে কী ধরনের অস্বাভাবিকতা আছে তা বলে দিতে পারে । চিকিৎসা ছাড়াও হাসপাতাল ও ক্লিনিকের প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । বর্তমানে ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা ও টিউমারের গঠন প্রকৃতি সম্পর্কে কম্পিউটারের সাহায্যে গবেষণা কাজ করা হয় । এছাড়া চোখের ক্ষমতা নির্ণয় , এক্স – রে ইত্যাদি অনেক পরীক্ষায় কাজ কম্পিউটর নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের সাহায্যে করা হয় । সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সিং , ইন্টারনেট ইত্যাদি প্রযুক্তির সাহায্যে বহু দূরবর্তী স্থান থেকেও চিকিৎসা সুযোগ প্রদান ও গ্রহণ করা শুরু হয়েছে । একা টেলিমেডিসিন বলে। টেলিমেডিসিন হচ্ছে টেলিফোন বা মোবাইল ফোনের সাহায্যে চিকিৎসা সেবা নেওয়া । নানা কারণে এই ডাক্তারদের অনেকেই বড় শহরে থাকতে পছন্দ করেন , তাই অনেক সময়েই দেখা যায় ছোট শহরে বা গ্রামে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের অভাব । অর্থাৎ দূর থেকে টেলিফোন বা মোবাইল প্রযুক্তির সাহায্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক টিপস নেওয়াকে টেলিমেডিসিন বলা হয় । আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান টেলিমেডিসিন সাহায্য নিয়ে এসেছে । বিশেষ করে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নিয়মিত স্বাস্থবিষয়ক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিনা খরচে জনগণের নিকট সম্প্রচার করে থাকে । যখন হাতের কাছে কোনো ডাক্তারকে জরুরি কিছু জিজ্ঞেস করার উপায় নেই , তখন টেলিমেডিসিন ব্যবহার করে ডাক্তারের সাহায্য নেওয়া যায় । এভাবেই চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারে ।

ব্যবসা বাণিজ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিঃ

জীবনের অন্য সকল ক্ষেত্রের মতো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটির প্রয়োগ ব্যবসা – বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তনের সূচনা করেছে । যেকোনো ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য থাকে কম সময়ে এবং কম খরচে পণ্য বা সেবা উৎপাদন করা এবং দ্রুততম সময়ে তা ভোক্তার কাছে পৌছে দেওয়া । পণ্যের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শরু করে উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ব্যবস্থাপনা , তাদের দক্ষতার মান উন্নয়ন , উৎপাদন ব্যবস্থাপনা , বিপণন এবং সবশেষে পণ্য বা সেবার বিনিময় মূল্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আইসিটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে । হার্ডওয়্যার , সফটওয়্যারের সমন্বিত এবং উদ্ভাবনী প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যবসায়ীগণ তাদের ব্যবসার উন্নয়নের পাশাপাশি মুনাফাও বাড়াতে পারে ।

ব্যবসা করতে হলে পণ্য বা বিপণন এবং প্রচারে আইসিটি প্রয়োগের ফলে বিপণনেও নতুন মাত্রা যোগ করা সম্ভব হয়েছে । উক্ত ক্ষেত্রগুলো হলো—

১. বাজার বিশ্লেষণ : যেকোনো নতুন পণ্য বা সেবা বাজারে চালু করার পূর্বে এ বিষয়ে বর্তমান বাজার সম্পর্ক জানার প্রয়োজন । আইসিটির মাধ্যমে এই সকল কাজ দ্রুততার সঙ্গে করা সম্ভব । প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ : প্রতিদ্বন্দ্বী পণ্য ও সেবা সম্পর্কে

২ . সহজে তথ্য সংগ্রহ করা যায় ।

৩. সরবরাহ : জিপিএস বা অনুরূপ ব্যবস্থাদির মাধ্যমে কম খরচে পণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা করা যায় ।

৪. প্রচার : ওয়েবসাইট , ব্লগ কিংবা সামাজিক যোগাযোগের সাইটের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে এবং কখনো কখনো বিনামূল্যে পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায় ।

 

 

গবেষণায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিঃ

 

তথ্য প্রযুক্তির কারণে গবেষণার জগতে শুধু যে একটা বিশাল উন্নতি হয়েছে তা নয় বলা যেতে পারে এখানে সম্পূর্ণ নতুন একটা মাত্রা যোগ হয়েছে । মানুষ এখন সাহিত্য , শিল্প বা সমাজবিজ্ঞান অথবা গণিত , প্রযুক্তি আর বিজ্ঞান , যা নিয়েই গবেষণা করুক না কেন তারা কম্পিউটার এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া সেই গবেষণার কথা চিন্তাও করতে পারে না ।

বর্তমানে সকল বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল । পদার্থের অণু – পরমাণুর গঠন প্রকৃতি , রাসায়নিক দ্রব্যের বিচার বিশ্লেষণে , জটিল গাণিতিক হিসাব – নিকাশে , প্রাণিকোষের গঠন । বর্ণমণ্ডলের মৌলিক পদার্থের অবস্থান নির্ণয়ে কম্পিউটার একটি প্রকৃতি বিশ্লেষণে , ঔষধের মান নিয়ন্ত্রণে , সূর্যের আলোকমণ্ডল ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ।

মহাকাশযান ডিজাইন , পাঠানোর পরিকল্পনা ও বাস্তাবয়ন কম্পিউটার দ্বারা দ্রুত সমাধান করা হয় । এছাড়াও গবেষণার কাজে বিভিন্ন ধরনের তথ্য উপাত্তের প্রয়োজন হয় । যা ইন্টারনেট ব্যবহার করে দ্রুত পাওয়া যায় । ফলে গবেষণার কাজ আরো দ্রুত তরান্বিত করে ।

Read more,

সরকারি কর্মকাণ্ডে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিঃ

 

২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রাণালয় অফিস আদালতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন । যাতে করে দেশের নাগরিক সেবা স্বচ্ছ ও সহজতর হয় । নিম্নে বিভিন্ন ধরনের সরকারি নাগরিক সেবার বর্ণনা দেওয়া হলো :

ক . জাতীয় ওয়েব পোর্টাল : সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক তথ্য ও দিক নির্দেশনা এবং চাকুরির খবর জাতীয় ওয়েব পোর্টালে পাবলিশ করে থাকে । যা সহজেই জনগণের কাছে তথ্য পৌছে যায় । এরুপ ওয়েব পোর্টালের নাম হচ্ছে— www.bangladesh.gov.bd .

খ . ই – পৰ্চা : জমি – জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন দলিল এর সমস্যা ও দূর্নীতির রোধ করার জন্য সরকার ই – পর্চা সেবা চালু করেছেন । বর্তমানে দেশের ৩৪ টি জেলায় ই – সেবা কেন্দ্র থেকে জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারে ।

গ . ই – বুক : স্কুল , কলেজ ও মাদরাসার সকল পাঠ্যপুস্তক অনলাইনে সহজে প্রাপ্তির জন্য সরকারিভাবে একটি ই – বুক প্লাটফর্ম তৈরি করেছেন । যেমন— www.ebook.gov.bd

ঘ . ই – পুর্জি : আখ চাষিদের জন্য চিনিকলের পুর্জি ( ইক্ষু সরবরাহের অনুমতিপত্র ) স্বয়ংক্রিয়করণ করার লক্ষ্যে ই – পুর্জি সেবা চালু করা হয়েছে ।

ঙ . ই – স্বাস্থ্যসেবা : প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যেখানে কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নেই , সেখানে জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দেওয়ার জন্য টেলিমেডিসিন সেবা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে । সরাসরি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে ফোন করে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।

বিনোদন ও তথ্য প্রযুক্তিঃ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে বিনোদনের জগতে একটা নতন দিক উন্মোচিত হয়েছে । এটি ঘটেছে দুইভাবে । প্রথমত , বিনোদনটি কীভাবে মানুষ গ্রহণ করবে সেই প্রক্রিয়াটিতে একটা মৌলিক পরিবর্তন হয়েছে । দ্বিতীয়ত , বিনোদনের ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমগুলোতে একটা গুণগত পরিবর্তন হয়েছে ।

তথ্যপ্রযুক্তি উন্নত হবার পর নতুন কিছু বিনোদনের জন্ম হয়েছে যেটি আগে উপভোগ করা সম্ভ ছিল না , তার একটি

তথ্যপ্রযুক্তি উন্নত হবার পর নতুন কিছু বিনোদনের জন্ম হয়েছে যেটি আগে উপভোগ করা সম্ভ ছিল না , তার একটি হচ্ছে কম্পিউটার গেম । সারা পৃথিবীতেই এখন কম্পিউটার গেমের বিশাল শিল্প তৈরি হয়েছে এবং নানা ধরনের কম্পিউটার গেমের জন্ম হয়েছে । কম্পিউটার গেমের ব্যাপক জনপ্রিয়তা দেখেই আমরা আন্দাজ করতে পারি এটি বিনোদনের অত্যন্ত সফল একটি মাধ্যম । এর সাফল্যের প্রধান একটি কারণ হচ্ছে এটি ছোট শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক একজন মানুষ সবাইকেই তার নিজের রুচি মাফিক আনন্দ দিতে পারে । একজন আরেক জনের সাথে কম্পিউটার গেম খেলতে পারে , কম্পিউটারের সাথে খেলতে পারে এমনকি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাইরের কারো সাথেও খেলতে পারে । সত্যি কথা বলতে কি , অনেক ক্ষেত্রেই এই বিনোদন উপভোগের তীব্রতা এত বেশি হতে পারে যে , সেটি এক ধরনের আসক্তির জন্ম দিতে পারে এবং সে কারণে কম্পিউটার গেম উপভোগ করার ব্যাপারে সারা পৃথিবীতেই সবাইকে সতর্ক থাকার কথা বলা হচ্ছে । তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন সৃষ্টির ব্যাপারেও এক ধরনের বড় ভূমিকা রেখেছে । অ্যানিমেশন বা কার্টুন তৈরি করা এক সময় অনেক কঠিন একটা বিষয় ছিল । তথ্যপ্রযুক্তি এবং শক্তিশালী কম্পিউটারের কারণে এখন এটি অনেক সহজ হয়ে গেছে । শুধু তাই নয় ত সৃষ্টিশীল মানুষের সৃজনশীলতার কারণে সম্পূর্ণ নতুন এক ধরনের ব্যাপার ঘটতে শুরু করেছে । সত্যিকারের ডি অভিনেতা অভিনেত্রী ছাড়াই গ্রাফিক্স নির্ভর চলচ্চিত্রের ডিজিটাল অভিনেতা – অভিনেত্রীর জন্ম হতে শুরু করেছে । দ বিখ্যাত ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে কাল্পনিক প্রাণী ডাইনোসর কিংবা ভিন্ন জগতের প্রাণী তৈরি করার জন্যে শক্তিশালী কম্পিউটার ব্যবহার করা এখন অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয় ।

 

উপসংহারঃ

তথ্যপ্রযুক্তির এই সাফল্য শুনে কেউ যেন মনে না করে আমরা ইতোমধ্যে আমাদের লক্ষ্যে পৌছে গেছি- এি মোটেও সত্যি নয় । এই পথে আমাদের আরো দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে । যেহেতু আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষই গ্রামে থাকে। তাই তথ্যপ্রযুক্তির বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রথম ধাপ হচ্ছে এই গ্রামীণ মানুষের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেবার আওতায় নিয়ে আসা । সেজন্য এখনো বিশাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে তথ্যপ্রযুক্তির পুরো সুবিধা পেতে হলে এক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন । স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালে লেখাপড়ার মান বাড়াতে হবে , আরো বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গে তুলতে হবে । ই – গভর্ন্যান্স এর মাধ্যমে সকল কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে । নতুন প্রজন্মকে তাদে উদ্ভাবনী ক্ষমতা কাজে লাগাতে উৎসাহী করতে হবে । বিশ্ববিদ্যালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিল্পে মধ্যে সমন্বয় করতে হবে । তাহলেই আমরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হতে পারবো।

 

রচনা প্রতিযোগিতার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি রচনা (পিডিএফ)

 

পিডিএফ টি ডাউনলোড করাতে এখানে ক্লিক করুন

 

চিঠি লেখার নিয়ম বাংলায় (Rules of writing letters in Bengali)

চিঠি মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তথ্য কিংবা মনোভাব আদান প্রদানের জন্য চিঠিই একসময় চালু ছিলো। যদিও বা এর চর্চা বর্তমান সময়ে অনেক কম। আজকে আমি চিঠি লেখার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করবো।

ডিজিটাল এই যুগে চলে আধুনিক সব প্রযুক্তির কারবার। এই যুগে প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো দুনিয়াকে হাতের মুঠোতে আনা হয়েছে।

এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রকে সহজতর করা হয়েছে। মানুষ ইচ্ছা করলে সেকেন্ডে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে খবর পাঠাতে পারছে। 

আগে বলি চিঠির কাজ কি? কেনো আদিম মানুষ চিঠি পাঠাত? 

প্রাচীন যুগে চিঠি পাঠানো হতো কেবল মাত্র তথ্য আদান প্রদান ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো খবর পাঠানোর ক্ষেত্রে। তখন পাখির মাধ্যমে কিংবা পায়রার সাহায্যে চিঠি পাঠানো হতো।

কিন্তু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করেছে। তাই মানুষ আর পায়রার মাধ্যমে চিঠি পাঠায় না।

একজন মানুষেই অন্য সবার চিঠি গন্তব্যস্থলে পৌছে দেয়, আমরা যাকে বলি পোষ্ট মাস্টার।যখন চিঠি পাঠানো আরো সহজ হয়ে গেলো মানুষ তখন চিঠিকে অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা শুরু করলো।

যেমন, চিঠির সাথে টাকা পাঠানো,জরুরী কোনো কাগজপত্র পাঠাতে ইত্যাদি। যেহেতু চিঠি কোনো মানুষ নিয়ে যাচ্ছে তাই ক্ষতি হয়ার সম্ভবনা নেই।

চিঠি পাঠানোর সময়কাল কখন ছিলো ? 

মানুষ প্রায় আদিম যুগ থেকে চিঠি পাঠাতো। চিঠি পাঠানোর এই প্রাচীন রীতি ১৯ শতক পর্যন্ত বহাল ছিলো।

কিন্তু এর পর পৃথিবীতে শিল্পবিপ্লব ঘটার কারণে মানুষের কাছে চিঠি পাঠানোর সংস্কৃতি অনেকটা অবহেলিত। তবে এখনো কিছু মানুষ আছে যারা এই যুগেও চিঠি লিখে।

বর্তমান যুগে শুধু বই খাতায় চিঠি দেখতে পাওয়া যায় কিন্তু মানুষকে চিঠি পাঠাতে দেখা যায় না।

আর্থাত চিঠিপত্র বর্তমানে বই-খাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর দ্রুত যোগাযোগ এর জন্যে ফেসবুক আর ইমেইল তো আছেই।

যাইহোক আমারা প্রধান আলোচনার দিকে যাই।চিঠি লেখার পদ্ধতি সম্পর্কে।

 

চিঠির প্রকারভেদ।

চিঠির বিষয়বস্তু, ধরণ ও কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন রকমের চিঠি লক্ষ্য করা যায়। নিচে এসব চিঠি লেখার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১। ব্যাক্তিগত চিঠি বা পত্র। 

২।প্রাতিষ্ঠানিক পত্র বা আবেদনপত্র। 

৩। সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য চিঠি

৪। মানপত্র ও স্মারকলিপি

৫। বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িকপত্র

৬। আমন্ত্রণ বা নিমন্ত্রণপত্র

চিঠি বা পত্র লেখতে গেলে যে কয়েকটি বিষয়কে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। 

  • চিঠি-পত্রের ক্ষেত্রে কাঠামো নির্ভর করে চিঠির বিষয়বস্তুর উপর। তাই চিঠি লেখার আগে চিঠির বিষয়বস্তুর উপর প্রাধাণ্য দিতে হবে।কেনোনা ব্যাক্তিগত চিঠির কাঠামো এবং সংবাদপত্র প্রকাশের জন্য লিখিত চিঠির কাঠামো কোনোদিন এক হবে না।
  • আপনার লেখা চিঠিটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেতে হবে। আপনার রুচিশীল লেখনি আপনার ব্যক্তিত্বকে মর্যাদাবান করে তুলে। তাই চিঠির লেখাকে আকর্ষণীয় করতে অনেক চেষ্টা করতে হবে। তার জন্য আপনাকে লেখা গুলো স্পষ্ট করতে হবে, লেখার মধ্যে কোনো কাটাকাটি রাখা যাবে না। কেনোনা সুন্দর হাতের লেখা, পাঠক সব সময় পছন্দ করে।
  • চিঠি লেখার ক্ষেত্রে ভাষার ব্যবহারও ঠিকঠাক করতে হবে এবং আপনাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সবসময় চিঠি লিখতে হয় মার্জিত ভাষায়। এতে করে পাঠক এবং লেখকের মধ্যে পূর্ণ ভাব আদান প্রদান সম্ভব হয়। তাই আমি আপনাদের একান্তভাবে বলি চিঠি লেখার ক্ষেত্রে বইয়ের ভাষা ব্যবহার করুন।

 

১।ব্যাক্তিগত পত্র বা চিঠি লেখার নিয়ম।

ব্যাক্তিগত চিঠি মুলত বন্ধুবান্ধব, প্রিয়জন কিংবা নিকট আত্বীয়দের পাঠানোর ক্ষেত্রে কাজে লাগে।যদিও এসব চিঠি লেখার নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই

তবুও একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করে এসব চিঠি পত্র লেখা হয়। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে যেভাবে ব্যাক্তিগত চিঠি লেখা হয় ঠিক সেইভাবে আমরা উপস্থাপন করলাম।

ধাপ-১ঃ চিঠি লেখার শুরুতে একদম ডানদিকে প্রেরকের ঠিকানা লিখতে হবে। নোট=[চিঠি লেখার প্রত্যেকটি ধাপ পরপর নিচে লিখতে হয়]

ধাপ-২ঃ প্রেরকের ঠিকানার নিচে এবং বাম দিকে প্রাপকের প্রতি সম্ভাষণ জানিয়ে চিঠির মূল অংশ শুরু করতে হয়।

যেমন (প্রিয় মুশফিক ফারহান ভাই, প্রিয় নায়িকা কেয়া পায়েল, প্রিয় অমুক, প্রিয় তমুক) ইত্যাদি।

ধাপ-৩ঃ প্রাপকের প্রতি সম্ভাষণের পরে প্রাপককে শুভেচ্ছা বা সালাম জানাতে হয়। তারপর একই ধাপে আপনি কি বিষয় নিয়ে প্রাপককে চিঠিটা লিখছেন সেটা উল্লেখ করতে হয়।

ধাপ-৪ঃ এই ধাপে চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে হয়। অর্থাত পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা।

ধাপ-৫ঃ এই ধাপে প্রেরক প্রাপকে বিদায় সম্ভাষণ জানাবে এবং কোনো প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞাসা করবে।

এরপর লেখার ডানদিকে নিচে লিখতে হয় “ইতি তোমার -সম্পর্ক অনুসারে বন্ধু/ভাই/বোন/চাচা/খালা/ফুফু ইত্যাদি। এর নিচে প্রেরকের স্বাক্ষর দিতে হয়।

ধাপ-৬ঃ এই ধাপে খাম অংকন করতে হয়। যদি আপনি চিঠি খাতায় লিখেন তাহলে ধাপ-৫ এর নিচে এবং বামদিকে খাম আকবেন।

তবে অবশ্যই খামের বাম দিকে প্রেরক আর ডান দিকে প্রাপক এর (নাম-ঠিকানা) দিতে হবে।

নিচে একটি আদর্শ চিঠি লেখার নিয়ম উপস্থাপন করা হলো।

চিঠি লেখার নিয়ম

২।আবেদনপত্র বা প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি লেখার নিয়ম।

আবেদনপত্র বা দরখাস্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারযোগ্য এক ধরনের পত্র। যেহেতু এসব পত্র প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা হয় তাই এর আরেক নাম প্রাতিষ্ঠানিক পত্র।

আবেদনপত্র সম্পূর্ণ অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করা হয়। তাই আবেদন পত্রে ব্যাক্তিগত কোনো কিছু উল্লেখ করা যায় না।

আমি আবারো বলছি আপনারা যদি কোনোদিন আবেদন পত্র লিখেন তাহলে অবশ্যই সেখানে কোনো ব্যাক্তিগত তথ্য তুলে ধরবেন না।

আর অফিসিয়াল কাজে এই পত্রের ব্যবহারের উদাহরণ আমরা নিজেই। আমরা যদি কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষককে কোনো বিষয় সম্পর্কে আবেদন জানাতে চাই তাহলে অবশ্যই আবেদন পত্র লিখতে হয়।

এছাড়া আরো বলতে পারি কোনো অফিসের কর্মচারী তার বসকে যখন কোনো কিছু আবেদন করে তখন তাকে আবেদন পত্র লিকতে হয়। এসকল কাজ অফিসিয়াল বা প্রাতিষ্ঠানিক।

কথা না বাড়িয়ে প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি লিখার নিয়ম গুলো বলি।

ধাপ-১ঃ তারিখ (আবেদন পত্র যেদিন লিখবেন)

ধাপ-২ঃ প্রাপক অথবা শিরোনাম(এই ধাপ শুরু করতে হয় “বরাবর” দিয়ে, তারপর প্রাপকের পদবি, প্রতিষ্ঠান, এবং ঠিকানা উল্লেখ করতে হয়।)

ধাপ-৩ঃ বিষয়বস্তু (আবেদন পত্র যে বিষয়ের উপর লিখবেন)

ধাপ-৪ঃ সম্ভাষণ (প্রাপককে জনাব/জনাবা/মহোদয়/মহাত্নন ইত্যাদি দ্বারা সম্ভাষণ করতে হয় এই ধাপে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় জনাব কিংবা জনাবা লিখলে)

 

ধাপ-৫ঃ আবেদন পত্রের পূর্নাঙ্গ বর্ণনা। (এই ধাপের প্রথম অংশে প্রাপক বা প্রতিষ্ঠানের সাথে আপনার পরিচয় সম্পর্কে উল্লেখ করতে হয়। তবে যথা সম্ভব কম বাক্য ব্যবহার করে।

দ্বিতীয় অংশে আপনি কোন বিষয় নিয়ে প্রাপক কে এই পত্র লিখেছেন তা বাক্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করে তুলতে হবে।

মোট কথা যে আপনি প্রাপকের কাছে কোনো কিছু আবেদন করছেন বা চাচ্ছেন তা স্পষ্ট করে তুলতে হবে।)

ধাপ-৬ঃ বিদায় সম্ভাষণ (যেমন ইতি আপনার একান্ত বাধ্যগত ছাত্র -মোঃ লুৎফুজ্জামান শুভ)

 

আমি দুই ধরনের (আবেদন পত্র বা প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি লেখার নিয়ম) এবং উদাহরণ দেখিয়ে দিচ্ছি।

প্রথমটা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য আর পরের টা অন্যান্য অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।


পাঠাগার স্থাপনের জন্য আবেদনপত্র লিখ?



৪ জুলাই ২০২১

বরাবর

চেয়ারম্যান

জগতবেড় ইউনিয়ন পরিষদ

পাটগ্রাম উপজেলা

লাল্মনিহাট

বিষয় : পাঠাগার স্থাপনের জন্য আবেদন ।

মহোদয়

আমরা লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দা । আমাদের ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সাক্ষরতার হার সন্তোষজনক । তাদের অনেকেই বিভিন্ন সরকারি – বেসরকারি চাকুরিসহ নানা পেশায় যুক্ত । বর্তমানে এই ইউনিয়নে যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত অভূতপূর্ব উন্নয়নের কারণে নানা প্রকার সহশিক্ষাক্রম কর্মকাণ্ড এগিয়ে যাচ্ছে । কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় , এই ইউনিয়নে অব্যাহত শিক্ষা গ্রহণের জন্য কোনো পাঠাগার নেই । যেজন্য এই অঞ্চলের জনগণ নিয়মিতভাবে বই পাঠ করার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ।

এই অবস্থায় জগতবেড় ইউনিয়নে একটি পাঠাগার স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি ।

বিনীত

গতবেড় ইউনিয়নবাসীর পক্ষে

মোঃ লুৎফুজ্জামান শুভ

গ্রামঃবসিরহাট, ডাকঘরঃ জগতবেড়, জেলাঃ লালমনিরহাট।


নিচে আরো একটি আবেদন পত্র চিঠি লেখার নিয়ম নমুনা উপস্থাপন করা হলোআবেদন পত্র চিঠি লেখার নিয়ম

চিঠি লেখার নিয়ম আসলেই খুব সহজ।

অবশ্যই পড়ুন


প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদের জন্য আবেদনপত্র ৷



তারিখ : ১৮.০৫.২০২২

মাননীয়

মহাপরিচালক

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

মিরপুর , ঢাকা ।

বিষয় : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগের আবেদন ।

মহোদয় ,

সবিনয়ে নিবেদন এই যে , গত ১৮ ই মে ২০২২ তারিখে দৈনিক ‘ জনকণ্ঠ ’ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে , প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে লোক নিয়োগ করা হবে । আমি উক্ত পদের একজন প্রার্থী হিসেবে আবেদন করছি । নিম্নে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ জীবনবৃত্তান্ত উল্লেখ করা হলো :

১. নামঃ শিহাব হাসান

২. পিতার নাম : জাহির রায়হান।

৩. মাতার নাম : সুলতানা বেগম

৪. স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : হাজারী বাগ , গ্রাম : পেয়ারা , পোস্ট : জয়নবপুর , জেলা : ঢাকা ।

৫. জন্ম তারিখ :৯ জুলাই , ১৯৯০

৬ . জাতীয়তা : বাংলাদেশি

৭. ধর্ম : ইসলাম

৮. শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ :(——-)

অতএব , উপর্যুক্ত তথ্যাবলির আলোকে অনুগ্রহপূর্বক আমাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করলে বাধিত হব ।

বিনীত নিবেদক

ফাল্গুনী আহমেদ দীপিকা

সংযুক্তি :

১. সনদপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি- ৩ কপি

২.নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদ- ২ কপি

৩.সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজ ছবি- ৩ কপি ।



সংবাদ পত্র চিঠি লেখার নিয়ম

 

জনগণের অভাব – অভিযোগ , স্থানীয় কোনো সমস্যা , জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে অনেক সময় সংবাদপত্রের শরণাপন্ন হতে হয় ।

কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও যথাযথ প্রতিকার পেতে ব্যর্থ হন ।

তাই সমস্যার আশু সমাধানের জন্যে ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পত্র – পত্রিকায় চিঠি লিখতে হয় ।

বিভিন্ন পত্রিকায় চিঠিপত্র কলামে সেইসব চিঠি গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়ে থাকে । যেমন : ইত্তেফাকের ‘ চিঠিপত্র ’ , প্রথম আলোর ‘ পাঠকের অভিমত ’ , জনকণ্ঠের ‘ সম্পাদক সমীপে ’ ইত্যাদি ।

প্রকাশিত চিঠির বক্তব্য ও দায়দায়িত্ব লেখকের ওপর বর্তায় । সম্পাদক প্রকাশিত চিঠির কোনো দায়দায়িত্ব নেন না । এসব কলামের নিচে তাই লেখা থাকে— ‘ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয় ’ ।

সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য আসলে দুটো চিঠি লিখতে হয় :

১. সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদককে অনুরোধ করে পত্র , এবং

২. পত্রিকায় প্রকাশের জন্য পত্র ।

পত্রলেখক যে সংবাদপত্রে চিঠিটি প্রকাশ করতে চান , সেই পত্রিকার সম্পাদককে অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি লিখতে হয় । এই চিঠি সংক্ষিপ্ত হওয়াই ভালো ।

সম্পাদককে সম্বোধন করা ছাড়াও যথাস্থানে তারিখ এবং নিচে প্রেরকের নাম , ঠিকানা ও স্বাক্ষর দিতে হয় । অনুরোধপত্রের সঙ্গে প্রকাশিতব্য চিঠি যুক্ত করে পাঠাতে হয় ।

ত্রিকায় প্রকাশিতব্য চিঠিটাই মূলচিঠি । বিষয়বস্তু অনুযায়ী সেটি তথ্যসমৃদ্ধ , যুক্তিযুক্ত , বাস্তবভিত্তিক হওয়া উচিত ।

প্রাসঙ্গিক বিষয় এমনভাবে উল্লেখ করতে হবে , যাতে কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুভব করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে অগ্রসর হয় ।

সমস্যা ও বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে চিঠি বড় বা ছোট হয় । চিঠির বক্তব্য যথাযথ , বিষয়ানুগ , বাহুল্যবর্জিত ও সংক্ষিপ্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয় ।

এ ধরনের চিঠিতে সাধারণত ভাবাবেগ প্রকাশের সুযোগ নেই ।বক্তব্যের পারম্পর্য এবং ভাষার শুদ্ধতার প্রতি তাই বিশেষ মনোযোগ দিতে হয় ।

নিচে সংবাদ পত্র প্রকাশের একটি নিয়ম দেখানো হলো।


ডাকঘর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য পত্ৰ ৷



২.১.২০২০

সম্পাদক

দৈনিক আজাদী

৯ সিডিএ এভিনিউ

মোমিন রোড , চট্টগ্রাম

বিষয় : সংযুক্ত পত্রটি প্রকাশের জন্য আবেদন ।

জনাব ,

আপনার স্বনামধন্য বহুল প্রচারিত দৈনিক আজাদী ‘ পত্রিকায় নিম্নোক্ত জনগুরুত্বপূর্ণ পত্রটি প্রকাশ করলে কৃতার্থ হব ।

নিবেদক—

মো . রফিকুল ইসলাম

মোহনপুর , কিশোরগঞ্জ ।

(ডাকঘর চাই)

কিশোরগঞ্জ জেলার মোহনপুর একটি জনবহুল গ্রাম । এ গ্রামে প্রায় বিশ হাজার লোকের বসবাস । এখানে রয়েছে রবিশস্য ও তরিতরকারির বিশাল পাইকারি বাজার , কৃষি ব্যাংক , গ্রামীণ ব্যাংক , একটি হাইস্কুল , দুটি প্রাইমারি স্কুল , মসজিদ , মাদ্রাসাসহ সরকারি – বেসরকারি নানা অফিস ।

গ্রামের অনেক লোক দেশ – বিদেশে চাকরি ও ব্যবসা – বাণিজ্য করে । কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানে কোনো ডাকঘর নেই । এখান থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে থানা সদরে একটা ডাকঘর রয়েছে ।

সেখান থেকে একজন ডাকপিয়ন সপ্তাহে মাত্র একদিন চিঠি বিলি করতে আসে । তাই জরুরি চিঠিপত্র , মানিঅর্ডার সময়মতো পাওয়া যায় না । এতে জনগণের দুর্ভোগের শেষ নেই ।

একটা ডাকঘরের অভাবে মোহনপুর গ্রামের বিশাল জনগোষ্ঠী নিদারুণ কষ্ট পাচ্ছে । ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন , কিশোরগঞ্জ জেলার মোহনপুরে ডাকঘরের একটা শাখা স্থাপন করা হোক ।

এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে । পাশাপাশি জনগণেরও দুর্ভোগ লাঘব হবে । নিবেদক মোহনপুর গ্রামবাসীর পক্ষে , মো . রফিকুল ইসলাম মোহনপুর , কিশোরগঞ্জ ।



এছাড়াও আরো একটি নিয়মে সংবাদপত্র লেখা যায়। মূলকথা সংবাদ পত্র প্রকাশের জন্য যে চিঠি লেখার নিয়ম মানা হয় তা আসলে ধরাবাধা নয়।

যেকোনো নিয়মে যে কেউ সংবাদ পত্র লিখতে পারে। শুধু মাত্র উপযুক্ত তথ্য গুলো থাকলেই যথেষ্ট। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খাতায় লেখার জন্যে দুটি নিয়ম বেশীরভাগ শিক্ষার্থী মেনে চলে।

একটি হলো আমাদের উপরের উদাহরণ টি। আর আরেকটি পদ্ধতিতে চিঠি লেখার নিয়ম নিচে উল্লেখ করা হলো।

 



মাদককে না বলুন

মোহাম্মদ ওমর॥ বগুড়া ৷৷ ৯ এপ্রিল , ২০২২॥ ‘ স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার’ স্লোগানটি আজ নীতিকথায় পর্যবসিত হয়েছে । সুস্থ জীবনের চেতনা বিসর্জন দিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে জীবাণুযুদ্ধ , রাসায়নিক যুদ্ধ । নেশাযুদ্ধ তার সর্বশেষ সংস্করণ ।

নেশার কবলে আজ বিপন্ন হয়ে পড়ছে মানুষ , বিশেষ করে যুব সম্প্রদায় । সম্ভাবনাময় এ যুব সম্প্রদায়কে নিয়ে চলছে বহুমাত্রিক ষড়যন্ত্র ।

সুকৌশলে তাদের হাতে নেশাবস্তু ধরিয়ে দিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল জাতির মেরুদণ্ডকে ভেঙে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত ।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মৃতকল্প ও অসাড় করে দেওয়ার অশুভ লক্ষ্য সামনে রেখে তারা দেশের সর্বত্র নেশাদ্রব্যকে সহজলভ্য করতে গড়ে তুলেছে সুবিশাল নেটওয়ার্ক ।

আর তার প্রভাবে নেশার ছোবলে ঝুঁকছে লক্ষ প্রাণ , ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে । দাবানলের মতো তা ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে – শহরতলিতে , গ্রামে – গ্রামান্তরে ।

নেশার জগতেও ঘটছে নানা রূপান্তর । এসেছে কোকেন , এলএসডি , ইয়াবা আর হেরোইন । মাদকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হলো ‘ আফিম ‘ । আফিম থেকে ‘ মরফিন বেস ’ ।

আর আফিম থেকেই বিশেষ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় সর্বনাশা হেরোইন । বাংলাদেশে হেরোইন আজ সব মাদককে ছাড়িয়ে গেছে । বস্তির ঝুপড়ি ঘরে নিরাপদে চলছে হেরোইনের পুরিয়া বিক্রির মহড়া ।

দেদার তা গ্রহণ করছে যুবসমাজ । হারিয়ে ফেলছে স্বাভাবিক বোধ ও বিশ্বাস । নেশামাত্রই মানুষের স্নায়ুকে দুর্বল করে দেয় । নিঃশেষ করে দেয় শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা ।

ক্রমশ ভোঁতা হয়ে আসে ওদের মেধা – মনন ও প্রজ্ঞাচেতনা । এদের ক্ষিধে নেই , ঘুম নেই , সময়ের বোধ নেই । এরা অস্বাভাবিক । একটি দেশের ভাবী নেতৃত্বকে সমূলে ধ্বংস করা এবং নৈতিক আধঃপতন ঘটানোর জন্য এ এক গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।

এ ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়নে গড়ে উঠেছে ‘ আন্তর্জাতিক ড্রাগ স্মাগলিং নেটওয়ার্ক ‘ । এর অধঃপতন ঘটানোর জন্য এ এক গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ।

এ ষড়যন্ত্রের প্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে খুন , রাহাজানি , ধর্ষণ , ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ ।

এমন অবস্থায় দেশ ও জাতিকে এ দুরারোগ্য মরণব্যাধি নেশার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রচেষ্টায় জনমত গড়ে তুলতে হবে ।

পুলিশের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের অধীনে একটি স্বতন্ত্র । সেল গঠন করতে হবে । মাদক চোরাচালান কঠোর হাতে দমন করতে হবে ।চোরাকারবারিদের স্বর্গরাজ্য আস্তানাসমূহে আঘাত হানতে হবে ।

সর্বশক্তি নিয়ে । এ জন্য চাই সবার উদার মানসিকতা , সহযোগিতা , সমন্বিত উদ্যোগ এবং সামাজিক সচেতনতা ।



আজকে এ পর্যন্তই। আমাদের চিঠি লেখার নিয়ম পোষ্টটি কেমন হয়েছে জানাবেন। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।