Category: চিকিৎসা

রক্ত কি | রক্তের গ্রুপ | কোন রক্তের গ্রুপ সবচেয়ে ভালো

রক্ত কি: আসসালামু আলাইকুম। অনেকদিন পর আজকে কন্টেন্ট লিখতে বসলাম। আশা করি ভাল আছেন। স্কুলের প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার জন্য অনেকদিন ধরে অনলাইনে আসা হয় না, তাই আর্টিকেল ও লিখতে পারিনা।

আমার আজকের এই আর্টিকেলের বিষয়বস্তু খুবই সাধারণ। আপনারা অনেকেই গুগলে সার্চ করে থাকেন রক্ত কি রক্তের গ্রুপ এবং কোন রক্তের গ্রুপ সবচেয়ে ভালো ইত্যাদি সম্পর্কে। আপনাদের জানানোর স্বার্থে আমি এই কন্টেন্টে রক্ত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

এই কনটেন্টের প্রাথমিক তথ্য গুলো নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই থেকে সংগ্রহ করা। এবং বাকি যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো আমি দিবো সেগুলো ঊইকিপিডিয়া সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েব পোর্টাল থেকে সংগ্রহ করা।

আমার এই আর্টিকেলের যা যা থাকছেঃ

  • রক্ত কি।
  • রক্তের গ্রুপ।
  • রক্তকণিকা কি।
  • বিভিন্ন ধরনের রক্তের রোগ এবং এর প্রতিরোধ ও প্রতিকার।
  • রক্ত আদান-প্রদান সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনাবলী।
  • রক্তদান কর্মসূচির সুফল
  • রক্ত সম্বন্ধে কিছু সাধারন প্রশ্নাবলী ইত্যাদি।

রক্ত কি

রক্ত কি
রক্ত কি

রক্ত একটি অস্বচ্ছ, মৃদু ক্ষারীয় এবং লবণাক্ত তরল পদার্থ। অন্যভাবে বলতে গেলে রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয় ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের যোজক টিস্যু। ধমনী শিরা ও কৈশিকনালি মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। অর্থাৎ রক্ত হৃদপিণ্ড শিরা উপশিরা ধমনী এবং পথে আবর্তিত হয়

কিন্তু আমরা যখন পরীক্ষার খাতায় রক্ত কাকে বলে কিংবা রক্ত কি এই নিয়ে সংজ্ঞা লিখব তখন একটু সাজিয়ে গুছিয়ে লিখলে ভালো হবে।

রক্ত কাকে বলে? রক্ত কি এর সংজ্ঞা ? রক্তের সংজ্ঞা?

ক্ষারীয় , ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যুকে রক্ত বলে 

সাধারণ অর্থে রক্ত হচ্ছে একটি তরল উপাদান। আমাদের শরীরের কোন অংশ কেটে গেলে আঘাতপ্রাপ্ত হলে আপাতদৃষ্টিতে আমাদের শরীর থেকে যে লাল রংয়ের তরল পদার্থ বের হয় সেটিই রক্ত।

রক্ত যে শুধু মানবদেহে থাকে তা ঠিক নয়। রক্ত থাকতে পারে পশুপাখি মাছ কিংবা অন্যান্য প্রাণীর দেহেও ।

যেমন আমরা যখন কোন পশু জবাই করি কিংবা বাজার থেকে বড় মাছ কিনে আনি তখন এর শরীর থেকে প্রচুর রক্ত বের হয়।

এখন প্রশ্ন হতে পারে রক্তের রং লাল হয় কেন?

রক্তের রং লাল হয় এই কারণেই যে রক্তের মধ্যে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ বিদ্যমান যা রক্তের রং লাল করে দেয়। এই রঞ্জক পদার্থটির নাম হিমোগ্লোবিন

রক্তের উপাদান গুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জৈব এবং অজৈব পদার্থ বিভিন্ন ধরনের কলা এবং কয়েকটি প্রোটিন। এছাড়া তোমাকে অনেক কিছু উপাদান রয়েছে সেগুলো নিয়ে পরে আলোচনা করা হচ্ছে।

আমাদের দেহের ওজনের শতকরা 7 ভাগ রক্ত। সুতরাং সেই হিসেবে আমাদের দেহে রক্তের পরিমাণ 5 থেকে 6 লিটার।

রক্তের উপাদান

আমরা জানি প্রাণিটিস্যু কে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা হয় । এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক শুকায়ছে তরল যোজক টিস্যু। আরক্ত হচ্ছে এক ধরনের তরল যোজক টিস্যু।

রক্তের অভ্যন্তরস্থ উপাদানগুলোকে মোট দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:

১। রক্ত রস (plasma)

২। রক্ত কণিকা(blood corpuscles)

রক্তরস

রক্ত রস রক্তের তরল অংশ এবং এর রং হালকা হলুদাভাব । সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় 55 ভাগ রক্ত রস। রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি। এছাড়া বাকি অংশে প্রোটিন সামান্য অজৈব লবণ এবং বিভিন্ন জৈব যৌগ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।

রক্তরসের প্রায় 91 -92 শতাংশ পানি এবং 8-9 শতাংশ অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।

জৈব পদার্থ:

রক্ত রসে মাত্র ৭.১%-৮.১% জৈব পদার্থ থাকে। এর মধ্যে অধিক পরিমাণে থাকে প্লাজমা প্রোটিন- গড়ে ৬-৮ গ্রাম/ডেসি লি.। প্লাজমা প্রোটিনগুলো হচ্ছে – অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফিব্রিনোজেন। এছাড়াও অন্যান্য জৈব পদার্থগুলো হল: স্নেহ দ্রব্য ( ফসফোলিপিড, লেসিথিন নিউট্রাল ফ্যাট, কোলেস্টেরল ইত্যাদি), কার্বোহাইড্রেট (গ্লুকোজ), অপ্রোটিন নাইট্রোজেন দ্রব্য (ক্রিয়েটিন, ক্রিয়েটিনিন, জ্যানথিন , অ্যামাইনো এসিড, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড), রঞ্জক দ্রব্য (বিলিরুবিন, বিলিভার্ডিন), বিভিন্ন ধরনের এসিড (যেমন:-ভিটামিন, এনজাইম, মিউসিন ও অ্যান্টিবডি, সাইট্রিক এসিড, ল্যাকটিক এসিড, হরমোন )

আরো পড়ুন,

অজৈব পদার্থ:

রক্তরসে কয়েক ধরনের অজৈব পদার্থ দেখা যায়।এগুলো হল: জল ৯১%-৯২%।

০.৯% গ্যাসীয় পদার্থের মধ্যে আছে কার্বন ডাই অক্সাইড, অক্সিজেন, জলীয় বাষ্প ইত্যাদি।

কঠিন পদার্থ ৭%-৮% যার মধ্যে আছে ক্যাটায়ন ( P+++, Fe++, Cu+, Mn++, Zn++, Pb++, Na+, K+, Ca++, Mg++, ইত্যাদি ) ও অ্যনায়ন (PO43-, SO42-, Cl-, HCO-, ইত্যাদি)

মানব রক্তরসের কিছু প্রোটিন এবং অন্যান্য উপাদানসমূহ:

  • অ্যালবুমিন
  • গ্লোবিউলিন (অ্যান্টিবডি গামা/ইম্যুনো গ্লোব্যুলিন)
  • প্রতঞ্চক ও প্রতিতঞ্চক উপাদান সমূহ
  • কম্প্লিমেন্টস (২০টির বেশি)
  • ফাইব্রিনোজেন ও ভিট্রোনেক্টিন
  • সি আর পি
  • ট্রান্সফেরিন
  • ট্রান্সথাইরেটিন
  • সেরুলোপ্লাজমিন
  • হ্যাপ্টোগ্লোবিন
  • খনিজ লবণ
  • ভিটামিন
  • হরমোন
  • হিমোপেক্সিন
  • সাইটোকাইনস
  • লাইপোপ্রোটিন ও কাইলোমাইক্রন
  • এল বি পি
  • গ্লুকোজ
  • ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চর্বিকণা
  • এন্টিবডি
  • বর্জ্যপদার্থ যেমন :- কার্বন ডাই অক্সাইড , ইউরিয়া , ইউরিক এসিড
  • খুব অল্প পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড

রক্তরসের কাজ

  • অ্যান্টিবডি, কম্প্লিমেন্টস ইত্যাদি প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধ উপকরণ রক্ত ধারণ করে।
  • রক্তের ভৌত গুন তরল হওয়ার প্রধান কারণ রক্ত রস।
  • বাফার হিসেবে কাজ করে এতে বিদ্যমান প্রোটিন।
  • দেহের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে।
  • দেহে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে।
  • মানবদেহে রক্তরসের মাধ্যমে পচিত খাদ্যবস্তু, হরমোন, উৎসেচক ইত্যাদি দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবাহিত হয়।
  • রক্তরসের প্রোটিনের পরিমাণ রক্তের সান্দ্রতা (ঘনত্ব), তারল্য (fluidity), প্রবাহধর্ম (rheology) বজায় রাখে এবং পানির অভিস্রবণিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

রক্ত কণিকা

রক্ত কণিকা তিন ধরনের , যথা- লোহিত রক্তকণিকা ( Erythrocyte বা Red blood corpuscles বা RBC ) , শ্বেত রক্তকণিকা ( Leukocyte বা white blood corpuscles বা WBC ) এবং অণুচক্রিকা ( Thrombocytes বা Blood platelet ) । লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে , যার জন্য রক্ত লাল হয় । হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে । শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয় । মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা থাকে । অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাধায় অংশ নেয়।

উপর তথ্যগুলো শুধু রক্ত কণিকা সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা। আমি রক্ত কণিকা গুলো সম্পর্কে নিচে বিশদভাবে আলোচনা করছি।

লোহিত রক্তকণিকা :

লোহিত রক্তকণিকা|red blood corpuscles
Red blood corpuscles

মানবদেহে তিন ধরনের রক্তকণিকার মধ্যে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি । এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয় । এর গড় আয়ু 120 দিন । মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না এবং দেখতে অনেকটা দ্বি – অবতল বৃত্তের মতো । পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির রক্তে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে প্রায় 50 লক্ষ ।

এটি শ্বেত রক্তকণিকার চেয়ে প্রায় 500 গুণ বেশি । পুরুষের তুলনায় নারীদের রক্তে লোহিত রক্তকণিকা কম । জীবনের প্রতি মুহূর্তে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হয় , আবার সমপরিমাণে তৈরিও হয় । লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই – অক্সাইড পরিবহন করে ।

হিমোগ্লোবিন : হিমোগ্লোবিন এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ । লোহিত রক্তকণিকায় এর উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায় । রক্তে প্রয়োজনীয় পরিমাণ হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা ( anemia ) দেখা দেয় । বাংলাদেশের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী এ রোগে আক্রান্ত ।

 

লোহিত রক্তকণিকার অস্বাভাবিক অবস্থা জনিত রোগ হচ্ছে থালাসেমিয়া। এটিও বাংলাদেশের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট

শ্বেত রক্তকণিকা|white blood corpuscles
White blood corpuscles

শ্বেতকণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই । এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ । শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন । হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা , ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে । শ্বেত কণিকার সংখ্যা RBC- এর তুলনায় অনেক কম । এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে । ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এটি জীবাণুকে ধ্বংস করে । 0.07 . শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে । রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে । দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে , দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে । মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে 4-10 হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে । অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায় । স্তন্যপায়ীদের রক্তকোষগুলোর মধ্যে শুধু শ্বেত রক্ত কণিকায় DNA থাকে ।

আরো পড়ুন,

প্রকারভেদ : গঠনগতভাবে এবং সাইটোপ্লাজমে দানার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি অনুসারে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করা যায় , যথা ( ক ) অ্যাগ্রানুলোসাইট বা দানাবিহীন এবং ( খ ) গ্রানুলোসাইট বা – দানাযুক্ত ।

 

( ক ) অ্যাগ্রানুলোসাইট : এ ধরনের শ্বেত কণিকার সাইটোপ্লাজম দানাহীন ও স্বচ্ছ । অ্যাগ্রানুলোসাইট শ্বেত কণিকা দুরকমের ; যথা- লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট । দেহের লিম্ফনোড , টনসিল , প্লিহা ইত্যাদি অংশে এরা তৈরি হয়

। লিম্ফোসাইটগুলো বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ছোট কণিকা । মনোসাইট ছোট , ডিম্বাকার ও বৃক্কাকার নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট বড় কণিকা । লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি গঠন করে এবং এই অ্যান্টিবডির দ্বারা দেহে প্রবেশ করা রোগজীবাণু ধ্বংস করে । এভাবে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে । মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগজীবাণুকে ধ্বংস কণিকা করে ।

 

( খ ) গ্রানুলোসাইট : এদের সাইটোপ্লাজম সূক্ষ্ম দানাযুক্ত । গ্রানুলোসাইট শ্বেত কণিকাগুলো নিউক্লিয়াসের আকৃতির ভিত্তিতে তিন প্রকার যথা : নিউট্রোফিল , ইওসিনোফিল এবং বেসোফিল । নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে । ইওসিনোফিল ও বেসোফিল * হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে । বেসোফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্তবাহিকার ভিতরে জমাট বাঁধতে বাধা দেয় ।

পড়তে থাকুন, রক্ত কি

অণুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইট:

অনুচক্রিকা| thrombocytes
Thrombocytes

ইংরেজিতে এদেরকে প্লেইটলেট ( Platelet ) বলে । এগুলো গোলাকার , ডিম্বাকার অথবা রড আকারের হতে পারে । এদের সাইটোপ্লাজম দানাদার এবং সাইটোপ্লাজমে কোষ অঙ্গাণু- মাইটোকন্ড্রিয়া , গলিগ । বস্তু থাকে ; কিন্তু নিউক্লিয়াস থাকে না ।

অনেকের মতে , অণুচক্রিকাগুলো সম্পূর্ণ কোষ নয় ; এগুলো অস্থি মজ্জার বৃহদাকার কোষের ছিন্ন অংশ । অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন । পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ ।

অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা আরও বেশি হয় । অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত তঞ্চন করা বা জমাট বাঁধানোতে ( blood clotting ) সাহায্য করা । যখন কোনো রক্তবাহিকা বা কোনো টিস্যু ১৪১ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কেটে যায় , তখন সেখানকার অণুচক্রিকাগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে অনিয়মিত আকার ধারণ করে এবং থ্রম্বোপ্লাসটিন ( Thromboplastin ) নামক পদার্থ তৈরি করে ।

এ পদার্থগুলো রক্তের প্রোটিন প্রোথ্রমবিনকে থ্রমবিনে পরিণত করে । থ্রমবিন পরবর্তী সময়ে রক্তরসের প্রোটিন- ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিন জালকে পরিণত করে রক্তকে জমাট বাধায় কিংবা রক্তের তঞ্চন ঘটায় । ফাইব্রিন একধরনের অদ্রবণীয় প্রোটিন , যা দ্রুত সুতার মতো জালিকা প্রস্তুত করে ।

এটি ক্ষত স্থানে জমাট বাঁধে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করে । তবে রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়াটি আরও জটিল , এ প্রক্রিয়ায় জন্য আরও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এবং ভিটামিন K ও ক্যালসিয়াম আয়ন জড়িত থাকে ।

রক্তে উপযুক্ত পরিমাণ অণুচক্রিকা না থাকলে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না । ফলে অনেক সময় রোগীর প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে ।

রক্তের কাজ:

রক্ত দেহের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান । এটি দেহের নানাবিধ কাজ করে , যেমন :

  •  অক্সিজেন পরিবহন : লোহিত রক্তকণিকা অক্সিহিমোগ্লোবিনরূপে কোষে অক্সিজেন পরিবহন করে ।
  • কার্বন ডাই – অক্সাইড অপসারণ : রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে কোষগুলোতে যে কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয় , রক্তরস সোডিয়াম বাই কার্বনেটরূপে তা সংগ্রহ করে নিয়ে আসে এবং নিঃশ্বাস বায়ুর সাথে ফুসফুসের সাহায্যে দেহের বাইরে বের করে দেয় ।
  • খাদ্যসার পরিবহন : রক্তরস গ্লুকোজ , অ্যামাইনো এসিড , চর্বিকণা ইত্যাদি কোষে সরবরাহ করে ।
  • তাপের সমতা রক্ষা : দেহের মধ্যে অনবরত দহনক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে । এতে করে বিভিন্ন অঙ্গে বিভিন্ন মাত্রার তাপ সৃষ্টি হয় এবং তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে । এভাবে দেহের সর্বত্র তাপের সমতা রক্ষা হয় ।
  • বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন : রক্ত দেহের জন্য ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বহন করে এবং বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে সেসব ইউরিয়া , ইউরিক এসিড ও কার্বন ডাই – অক্সাইড হিসেবে নিষ্কাশন করে ।
  •  হরমোন পরিবহন : হরমোন নালিবিহীন গ্রন্থিতে তৈরি এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ বা রস । এই রস সরাসরি রক্তে মিশে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অঙ্গে সঞ্চালিত হয় এবং বিভিন্ন জৈবিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
  • রোগ প্রতিরোধ : কয়েক প্রকারের শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় দেহকে জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে । অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন উৎপাদনের মাধ্যমে রক্ত দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ।
  • রক্ত জমাট বাঁধা : দেহের কোনো অংশ কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং দেহের রক্তক্ষরণ বন্ধ করে ।

ব্লাড গ্রুপ বা রক্তের গ্রুপ:

একজন আশঙ্কাজনক বা মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন , তার রক্তের গ্রুপ ‘ বি ’ পজিটিভ । আপনারা এ রকম বিজ্ঞাপন প্রায়শই টেলিভিশনের পর্দায় দেখতে পান । রক্তের গ্রুপ বা ব্লাড গ্রুপ কী ? কেনইবা ব্লাড গ্রুপ জানা প্রয়োজন ? অসংখ্য পরীক্ষা – নিরীক্ষা এবং গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে যে বিভিন্ন ব্যক্তির লোহিত রক্ত কণিকায় A এবং B নামক দুই ধরনের অ্যান্টিজেন ( antigens ) থাকে এবং রক্তরসে a ও b দুধরনের অ্যান্টিবডি ( antibody ) থাকে । এই অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা যায় । একে ব্লাড গ্রুপ বলে । বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A , B , AB এবং O— এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন । সাধারণত একজন মানুষের রক্তের গ্রুপ আজীবন একই রকম থাকে । নিচের সারণিতে রক্তের গ্রুপের অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি দেখানো হলো :

আমরা উপরের সারণিতে রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতি দেখেছি । এর ভিত্তিতে আমরা ব্লাড গ্রুপকে এভাবে বর্ণনা করতে পারি । যেমন :

গ্রুপ A : এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও ৮ অ্যান্টিবডি থাকে ।

গ্রুপ B : এ শ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও a অ্যান্টিবডি থাকে । 1

গ্রুপ AB : এই শ্রেণির রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না ।

গ্রুপ O : এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b অ্যান্টিবডি থাকে ।

দাতার লোহিত কণিকা বা কোষের কোষঝিল্লিতে উপস্থিত অ্যান্টিজেন যদি গ্রহীতার রক্তরসে উপস্থিত এমন অ্যান্টিবডির সংস্পর্শে আসে , যা উক্ত অ্যান্টিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সক্ষম তাহলে , অ্যান্টিজেন অ্যান্টিবডি বিক্রিয়া হয়ে গ্রহীতা বা রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে । এজন্য সব গ্রুপের রক্ত সবাইকে দেওয়া যায় না । যেমন : তোমার রক্তের গ্রুপ যদি হয় A ( অর্থাৎ লোহিত কণিকার ঝিল্লিতে A অ্যান্টিজেন আছে ) এবং তোমার বন্ধুর রক্তের গ্রুপ যদি B হয় ( অর্থাৎ রক্তরসে a অ্যান্টিবডি আছে ) তাহলে তুমি তোমার বন্ধুকে রক্ত দিতে পারবে না । যদি দাও তাহলে তোমার A অ্যান্টিজেন তোমার বন্ধুর a অ্যান্টিবডির সাথে বিক্রিয়া করে বন্ধুকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে । তাই দাতার রক্তে যে অ্যান্টিজেন থাকে তার সাথে মিলিয়ে এমনভাবে গ্রহীতা নির্বাচন করতে হয় যেন তার রক্তে দাতার অ্যান্টিজেনের সাথে সম্পর্কিত অ্যান্টিবডিটি না থাকে । এই মূলনীতির উপর ভিত্তি করে কোন গ্রুপ কাকে রক্ত দিতে পারবে বা পারবে না , তার একটা ছক বানানো যায় ।

নিচের ছবিটি দেখলে আপনি আরও স্পষ্ট হয়ে যাবেন। এখান থেকে আপনি বুঝতে পারবেন রক্তের দাতা এবং গ্রহীতা সম্পর্কে।

উপরের সারণিটি লক্ষ করলে দেখতে পারবে o গ্রুপের রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তি সব গ্রুপের রক্তের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারে । এদের বলা হয় সর্বজনীন রক্তদাতা ( universal donor ) ।

AB রক্তধারী ব্যক্তি যেকোনো ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করতে পারে । তাই তাকে সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা ( universal recipient ) বলা হয় ।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে সর্বজনীন রক্তদাতা কিংবা সর্বজনীন রক্তগ্রহীতার ধারণা খুব একটা প্রযোজ্য নয় । কেননা , রক্তকে অ্যান্টিজেনের ভিত্তিতে শ্রেণিকরণ করার ক্ষেত্রে ABO পদ্ধতি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলেও রক্তে আরও অসংখ্য অ্যান্টিজেন থাকে , যেগুলো ক্ষেত্রবিশেষে অসুবিধার কারণ হতে পারে । যেমন : রেসাস ( Rh ) ফ্যাক্টর , যা এক ধরনের অ্যান্টিজেন ।

কারো রক্তে এই ফ্যাক্টর উপস্থিত থাকলে তাকে বলে পজিটিভ আর না থাকলে বলে নেগেটিভ । এটি যদি না মেলে তাহলেও গ্রহীতা বা রোগী আরও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন ।

তাই ABO গ্রুপের পাশাপাশি রেসাস ফ্যাক্টরও পরীক্ষা করে মিলিয়ে দেখা চাই । অর্থাৎ রেসাস ফ্যাক্টরকে বিবেচনায় নেওয়া হলে রক্তের গ্রুপগুলো হবে A + , A- , B + B , AB + , AB- , O + এবং O- ।

নেগেটিভ গ্রুপের রক্তে যেহেতু রেসাস ফ্যাক্টর অ্যান্টিডে নেই , তাই এটি পজিটিভ গ্রুপকে দেওয়া যাবে কিন্তু পজিটিভ গ্রুপের রক্ত নেগেটিভ গ্রুপকে দেওয়া যাবে না ।

রক্তদান সম্পর্কিত কিছু কথা

আঘাত দুর্ঘটনা শল্যচিকিৎসা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে অত্যাধিক রক্তক্ষরণ হলে দেহে রক্তের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। রক্তশূন্যতা দূর করার জন্য ওই ব্যক্তিকে ইমিডিয়েটলি রক্ত প্রদান করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের কিছু সামাজিক প্রথার কারণে রক্ত দানে মানুষ উৎসাহী নয়।

আসলে রক্তদানের বৈজ্ঞানিক কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কিংবা ব্যাড ইফেক্ট নেই। এর কোন ধরনের খারাপ প্রভাব নেই বরঞ্চ আপনি রক্তদান করলে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবেন।

মাঝে মাঝে অনেক বড় ধরনের দুর্ঘটনায় বেশ কিছু লোক আহত হয়ে পড়েন এবং তাদের রক্তক্ষরণ অনেক হওয়ার কারণে তাদের ইমিডিয়েটলি রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয়। এ সময় যদি প্রয়োজনীয় গ্রুপের রক্ত না পাওয়া যায় তাহলে লোক গুলো মৃত্যুবরণ করবে।

এই ধরুন, কিছুদিন আগে বাংলাদেশের সীতাকুণ্ডে কন্টেইনার বিস্ফোরণের কারণে কতগুলো লোক মৃত্যুবরণ করল এবং সাথে শত শত লোক আহত হয়ে গেল, তাদের বাঁচানোর জন্য সর্বপ্রথম অস্ত্র ছিল রক্ত। যদি বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী দলগুলো এবং ইসলামী চিন্তা ধারার যুবকরা এগিয়ে না আসতো তবে এগুলো কে বাঁচানো সম্ভব হতো না।

আপনি হিন্দু হন কিংবা মুসলিম হন কিংবা অন্যান্য ধর্মের হন এটা কোন দেখার বিষয় না। সবার শরীরের ভিতরে রক্ত একই । শুধু গ্রুপ ভিত্তিক রক্ত কয়েক প্রকার।

রক্ত সম্পর্কিত প্রশ্নাবলী

  • রক্ত কি

রক্ত একটি তরল যোজক টিস্যু যার রং লাল।

  • রক্ত কি নাপাক?

রক্ত কি নাপাক তরল। কারো শরীরে যদি রক্ত লেগে থাকে তাহলে তার ওযু হবে না। কিংবা অজু অবস্থায় যদি রক্ত বের হয় তাহলে ওই থাকবে না।

  • রক্ত কি কি উপাদান নিয়ে গঠিত?

রক্ত দুটি উপাদান নিয়ে গঠিত। একটি আছে রক্ত রস আরেকটি হচ্ছে রক্তকণিকা।

  • রক্ত কেন জমাট বাঁধে?

রক্তে হিমোগ্লোবিন নামক এক প্রকার রঞ্জক পদার্থ থাকে। এটি রক্তের রং লাল করে দেয়।

  • রক্ত কি ধরনের টিস্যু?

রক্ত এক ধরনের তরল যোজক টিস্যু।

আরো পড়ুন,

 

আমার শেষ কথা,

আশা করি আপনাদের বুঝাতে পেরেছি রক্ত কি? রক্তের কাজ কি ?রক্তের উপাদান কতটি ? ইত্যাদি সম্পর্কে। আমার উপরে তথ্য গুলো খুবই সাধারণ। আমি এর চেয়ে আরো বেশি কষ্ট দিতে চেয়েছিলাম তবে সেগুলো আপনাদের জন্য বোঝা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে যেতো।

আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। যদি এই পণ্যটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

 

 

কাচা রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন।(10 টি উপকারিতা)

কাঁচা রসুনের উপকারিতা: বর্তমান সময়ের কিছু গবেষণা বলছে যে রসুনের বাস্তবধর্মী অনেক উপকারিতা রয়েছে। যেমন সাধারণ সর্দি-কাশি কিংবা জ্বর সারাতে এবং শরীরের উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ও শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে রসুন অনেক কার্যকরী একটি ঔষধ

আসসালামু আলাইকুম। আজকের এই প্রতিবেদনে আমি কাঁচা রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা দেবো।

এই প্রতিবেদন এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কাচা রসুনের উপকারিতা কি? রসুন খেলে কি হয় ?রসুন কোন কোন রোগের ঔষধ হিসেবে কাজ করে? রসুন খাওয়ার পদ্ধতি ?রসুন কোন কোন রোগে কার্যকরী ?রসুন খাওয়ার কোন অপকারিতা আছে কিনা? ইত্যাদি।

এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আপনি যা যা জানতে পারবেন?

  • রসুন কোন ধরনের খাদ্য
  • রসুনে কোন ধরনের উপাদান থাকে
  • রসুন খাওয়ার উপকারিতা
  • রসুন কোন কোন রোগের কার্যকরী ঔষধ হিসেবে কাজ করে
  • রসুনের অপকারিতা

খাদ্যকে ওষুধ হতে দাও, ওষুধকে খাদ্য হতে দাও“-এই বিখ্যাত শব্দগুলো বলেছিলেন বিখ্যাত গ্রিক ফিজিশিয়ান হিপোক্রেটস । হিপোক্রেটসকে পশ্চিমা ঔষধ এর জনক বললে অনেকেই হয়তো চিনবেন। তাকে মাঝে মাঝে পশ্চিমা ঔষধের জনক হিসেবেই অভিহিত করা হয়।

তিনি রসুনকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের পরামর্শ দিতেন। বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞান তার সেই পরামর্শের ভিত্তি এবং যথার্থতা খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছেন।

রসুন কি ? রসুন কোন ধরনের খাদ্য ?

কাঁচা রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা

রসুন এক ধরনের মসলা জাতীয় উদ্ভিদ। এই উদ্ভিদটি Allium গণের অন্তর্ভুক্ত একটি উদ্ভিদ ,যার সাথে মিল আছে পেঁয়াজ জাতীয় উদ্ভিদ গুলোর সাথে।

একটি রসুন অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ দিয়ে গঠিত যেগুলোকে কোয়া বলে। একটি রসুন এ সর্বোচ্চ 10 থেকে 20 টি কোয়া থাকতে পারে।

রসুন বিশ্বের প্রায় সব জায়গাতেই চাষ করা হয়। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো যথা বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তান সহ ভারতীয় উপমহাদেশের যে কয়েকটি দেশ আছে এগুলো সহ রাশিয়া চীন পূর্ব ইউরোপের কিছু দেশে রসুন চাষ সর্বাধিক হারে হয়।

এক গবেষণা বলছে যে, একদিন মানুষ গড়ে প্রতিবছর দুই পাউন্ড করে রসুন খায়

রসুন মানুষ খাবার এবং ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করে। এর কারণ হিসেবে বলা যায় এর শক্তিশালী ঝাঁঝালো গন্ধ এবং খাবারের স্বাদ বাড়ানোর কাজের জন্য।

ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, ব্যাবিলনীয় ,মিশরীয়, রোম্যান গ্রীক এবং চীনা সভ্যতায় ও এই রসুন ব্যবহার করা হতো। তবে তখনো পর্যন্ত তারা আর ওষুধকে খাবার হিসেবে গ্রহণ করেনি, তখন তারা রসুনকে কেবলমাত্র কার্যকরী এবং অতি প্রিয়জনীয় ঔষধ হিসেবে মনে করত

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছে, যে রসুনের এত সব কার্যকরী গুণাবলী থাকার পেছনে যে পদার্থটি কাজ করেছে সেটি হচ্ছে রসুনের মধ্যে থাকা সালফার কম্পাউন্ডস ‌। রসুনকে যখন কাটা হয় কিংবা ছোলা হয় তখন এর থেকে ঝাঁঝালো গন্ধ বের হয়ে আসে, এটি মূলত সালফার কম্পাউন্ডস।

এছাড়াও রসুনের মধ্যে আরও কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো রসুনের এতসব কার্যকরী গুণাবলীর পেছনে কাজ করে। সেগুলো হলো: diallyl disulfides-allyl cysteine

যখন আমরা রসুনের মধ্যে বিদ্যমান সালফার কম্পাউন্ডস খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি তখন এটি আমাদের রক্তে মিশে সারা শরীরে ভ্রমণ করে এবং আমাদের শরীরে শক্তিশালী জৈবিক প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

আরো পড়ুন,

রসুনের মধ্যে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান।

উল্লেখ জনক ভাবে রসুনের মধ্যে বিদ্যমান ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম, তবে এটি অনেক বেশি পরিমাণে পুষ্টি উপাদান বহন করে।

প্রতি ৩ গ্রাম রসুনের (১ টি কোয়া) মধ্যে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদানগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • ম্যাঙ্গানিজ : ২ শতাংশ প্রায়।
  • ভিটামিন C : ২ শতাংশ প্রায়।
  • ভিটামিন B6 :১ শতাংশ প্রায়।
  • Selenium : ১ শতাংশ প্রায়।
  • Fiber : ০.০৬ গ্রাম প্রায়।

সামগ্রিকভাবে হিসাব করলে প্রতি তিন গ্রাম রসুনের মধ্যে ৪.৫ ক্যালোরি , ০.২ গ্রাম প্রোটিন এবং ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়।

রসুনের মধ্যে ক্যালরি কম পাওয়া গেলেও এতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি৬ পাওয়া যায়।

রসুন কেন এত উপকারী ?

কাঁচা রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা

আগে, রসুনের এত কার্যকরী গুণাবলী থাকার কারণ এবং এর ব্যাখ্যা কোনটাই স্পষ্ট ছিল না। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নত হওয়ার ফলে এখন আমরা জানতে পেরেছি যে , রসুনের মধ্যে বিদ্যমান সালফার জাতীয় উপাদান গুলোই মূলত রসুনের এত কার্যকরী গুণাবলীর পেছনে প্রভাব সৃষ্টি করে।

আমরা যখন রসুন কাটি ছোলাই কিংবা ভর্তা করি তখন এর মধ্যে বিদ্যমান সালফার জাতীয় উপাদান allicin (অ্যালিসিন) এ পরিবর্তিত হয়ে যায়।

অ্যালিসিন একটি চমৎকার উপাদান, এটিই মূলত রসুনের যাদুকরী সব গুনাবলী নিয়ন্ত্রন করে।

যাহোক সূত্রের মাধ্যমে আমরা তো জানলাম যে রসুনের মধ্যে কি কি থাকে এবং রসুনের উপকারিতা কি? 

তবে বাস্তব জীবনে রসুনের প্রয়োগ এবং উপকার আসলে কতটুকু সেটি নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।।

পড়তেই থাকুন, কাঁচা রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা।

রসুনের উপকারিতা সমূহ।

রসুনের উপকারিতা: রসুনের বাস্তবধর্মী অনেক উপকারিতা রয়েছে। এর অপকারিতা খুব একটা নেই। নিচে রসুনের উপকারিতা সমূহ কলাম আকারে উল্লেখ করা হলো।

শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় রসুন।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা যা মানুষকে বিভিন্ন জীবন থেকে রক্ষা করে। শরীরে কোন জীবনও প্রবেশ করলে ,প্রথমে শরীরে বিদ্যমান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমমিউন সিস্টেম জীবাণুকে ধ্বংস করে।

রসুন এ বিদ্যমান উপাদান গুলো মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক অংশে বৃদ্ধি করে দেয়। অর্থাৎ রসুন খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে মানুষের সর্দি কাশি জ্বর কিংবা ফ্লু ভাইরাস এর মত রোগগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।

উপকার পাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে প্রতিদিন দুটো করে কাটা রসুন খাওয়া(তবে পরামর্শ দেওয়া হয় প্রতিদিন চারটি করে কোয়া )। এছাড়া শিশুদের সর্দি-কাশি বেশি বৃদ্ধি পেলে রসুন সরিষার তেল ও লবণ একটি চামচে নিয়ে সেটি গরম করে শিশুদের নাকে, বুকে এবং অন্যান্য স্থানে লাগানো হয়।

রসুন শরীরের উচ্চ রক্তচাপ কমায়।

কাঁচা রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা

কিছু Cardiovascular disease যেমন, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক, এই রোগ গুলো মৃত্যুর জন্য অন্যান্য যে কোন রোগের তুলনায় বেশি দায়ী।

High blood pressure বা hypertension সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ কারণ গুলোর মধ্যে একটি, যা এসব রোগকে বাড়িয়ে দেয়।

আরো কিছু গবেষণা বলছে, প্রায় ৭০% হার্ট অ্যাটাক , স্ট্রোক এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি অসুখ গুলো হয় এই উচ্চ রক্তচাপের জন্য।

আরো এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে বিশ্বের প্রায় ১৩.৫% মৃত্যুর কারণ হচ্ছে এই উচ্চ রক্তচাপ। তাই আমাদের অকাল মৃত্যু ঠেকাতে এই উচ্চ রক্তচাপের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।

রসুন একটি দারুন মসলা জাতীয় খাবার এবং একটি ঔষধ যা মানুষের শরীরের উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে আনে।

রসুনকে যদি আপনি আপনার ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করেন তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনার রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে।

যদি আপনি রসুন পছন্দ না করেন, তবুও আপনি এটিকে আপনার ডায়েটের অন্তর্ভুক্ত করে রাখতে পারেন, কারন এটি গ্রহণের মাধ্যমে আপনি আপনার রক্তচাপকে কমিয়ে আনতে পারবেন , সর্দি ,কাশি, জ্বর ইত্যাদি কমাতে পারবেন তথা অনেকগুলো উপকার পেতে পারবেন।

যদি আপনি নিয়মিত সংক্ষেপে চান তাহলে এর নির্দিষ্ট একটি মাত্রা মেনে চলতে হবে (প্রতিদিন চারটি করে কোয়া)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদি কোন অসুখে ভোগেন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কোন কিছু গ্রহণ করবেন।

আরো পড়ুন,

সেক্সে রসুনের উপকারিতা

সেক্সের রসুনের উপকারিতা: ইরেস্টাইল ডিসফাংশন (ED) এটিকে বাংলায় পুরুষত্বহীনতা বলে। এ রোগটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন ব্যক্তির যদি একাধারে উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে এবং ব্রেন স্ট্রোক হয় কিংবা পারকিনসন ডিজিজ ও মাল্টি পল ক্লোরোসিস ইত্যাদি হয় তাহলে তার ইরেস্টাইল ডিসফাংশন রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।

আমরা জানি রসুনের মধ্যে রয়েছে Allicin ও বিশেষ ধরনের সালফার কম্পাউন্ডস যা উপরোক্ত সমস্যাগুলোকে নিরাময় করে।

Albama University of Birmingham এর গবেষক দলের মতে, রসুনের মধ্যে বিদ্যমান পলি সালফাইড যৌগ (H2S) , মানুষের শরীরের রক্তচাপ কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।

Proceedings of the national academy of science journal এর গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে, রসুন মানুষের রক্তনালীগুলোকে শিথিল করার পাশাপাশি মানুষের রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি কে ত্বরান্বিত করে ,যা পরোক্ষভাবে মানুষের পুরুষত্বহীনতা কমায়।

উপরন্ত, রসুনের মধ্যে রয়েছে Allicin, এটি একটি বায়ো একটিভ যৌগ, যা মানুষের শরীরের রক্ত সঞ্চালন এর গতি বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়া দ্রুত বীর্যপাত আরো একটি সমস্যা, আপনারা এ সমস্যার জন্য রসুন খেতে পারেন।

পড়তেই থাকুন ,কাঁচা রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা।

রসুন শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

কোলেস্টেরল রক্তের একটি চর্বিযুক্ত উপাদান। আমাদের শরীরের রক্তে দুই ধরনের কোলেস্টেরল বিদ্যমান। একটি ভালো কোলেস্টেরল(HDL) অন্যটি খারাপ কোলেস্টেরল(LDL)।

আমাদের শরীরে যদি অনেক বেশি খারাপ cholesterol (LDL) থাকে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) না থাকে তাহলে আমরা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা পতিত হবে।

রসুন আমাদের শরীরের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ খারাপ কোলেস্টেরল (HDL) এর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। তাই আমাদের জন্য রসূল অনেক উপকারী

কিন্তু দুঃখের বিষয় হল রসুন আমাদের ভালো কোলেস্টেরলের (HDL) উপর কোন প্রভাব ফেলে না। তবুও এটি আমাদের শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের সংখ্যা কমায় ,তাই এটি আমাদের জন্য উপকারী

উচ্চ ট্রাই গ্লিসারাইড মাত্রা আমাদের হৃদরোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিষয়, কিন্তু এখানেও রসুন কোন উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না।

যদি আপনার হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস থেকে থাকে তাহলে আপনার প্রতিদিনের খাবারে রসুন অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। (যেহেতু এটি খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা কমায়)।

রসুন কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

স্বাস্থ্যের জন্য রসুনের উপকারিতা সম্পর্কে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখা সম্ভব। স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য রসুন গ্রহণ করলে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে।

গবেষণা অনুসারে , কাঁচা রসুন খাওয়া কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি তোমাদের সাহায্য করে।

Iowa Women’s Health Study এর গবেষণা অনুসারে, যেসব মহিলা শাকসবজি, ফল এবং অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি রসুন গ্রহণ করে তাদের কোলন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ৩৫ শতাংশ কম। তবে এ বিষয়ে আরো গবেষণার দরকার আছে।

রসুনের মধ্যে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

আমরা আগেই জেনেছি রসুনের মধ্যে রয়েছে অ্যালিসিন(Allicin)। এলিসিন হলো একটি বায়ো একটিভ এন্টিবায়োটিক যা বিভিন্ন সংক্রমণ এবং ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে

রসুনের মধ্যে বিদ্যমান উপাদান গুলো নিম্নত্ত সংক্রমণ এবং ব্যাকটেরিয়া গুলোকে দমন করে:

  • ছত্রাক
  • প্রোটোজোয়া
  • ছোঁয়াচে সংক্রমণ
  • বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া। যেমন, Salmonella

অ্যালিসিনকে একটি কার্যকরী এন্টিবায়োটিক হিসেবে ধরা হয়। এরূপ মনে করা হয় যে ভবিষ্যতে অ্যালিসিন দ্বারা বর্তমানে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিককে প্রতিস্থাপন করা হবে। তবে বর্তমানে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক এর সাথে এটি একত্রে ব্যবহার করা হয়।

পড়তেই থাকুন, কাঁচা রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা। 

রসুন ডাইমেনশিয়া(dimensia) রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ডাইমিন শিয়া মানুষের মস্তিষ্কে এমন একটি রোগ যা দ্বারা মানুষ একবার আক্রান্ত হলে স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে থাকে। বয়স্করা এ রোগের বেশি আক্রান্ত হয়, তবে মাঝে মাঝে তরুণরাও এ রোগে আক্রান্ত হয়। উল্লেখ্য যে বয়স বাড়ার সাথে এ রোগের কোন সম্পর্ক নেই।

এ রোগের সাধারণ লক্ষণ হচ্ছে কোন কিছু মনে রাখতে না পারা, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা, অসামঞ্জস্য কোন কিছুকে ভালো মনে করে সেটি সম্পন্ন করা, সহজে মুখস্ত করতে না পারা ইত্যাদি।

আমাদের শরীরে কিছু সমস্যা থাকলে এই রোগটি হয়। নিচে এসব উল্লেখ করা হলো:

  •  যাদের ব্রেইন স্ট্রোক হয়েছে
  •  যাদের ডায়াবেটিস আছে
  •  যাদের শরীরে উচ্চ রক্তচাপ আছে
  •  যাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি
  •  এবং যাদের জীবনে বিষন্নতা বেশি।

আমরা জানি, রসুনের মধ্যে বিদ্যমান সালফার কম্পাউন্ডস আমাদের শরীরের উচ্চ রক্তচাপ ,কোলেস্টেরল এর মাত্রা ,ব্রেন স্ট্রোক ,হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদি প্রতিরোধে কাজ করে। 

তাই রসুন খেলে ডাইম্যানসিয়া রোগ প্রতিরোধে কিছুটা উপকার পাওয়া যায়। তবে এটা গ্যারান্টি দেওয়া যায় না যে রসুন খেলে আপনার এই রোগ প্রতিকার হবে। রসুন খাওয়ার মাধ্যমে আপনি এটি কিছুটা পরিমাণে প্রতিরোধ করতে পারবেন।

এছাড়াও রসূলে রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ডাইম্যানসিয়া রোগ প্রতিরোধে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, রসুনের মধ্যে বিদ্যমান উপাদানগুলো মানুষের শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইম বাড়ায় এবং সেই সাথে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের oxidative stress কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

তাই Dimensia রোগ প্রতিরোধে রসুন খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে রসুনের উপকারিতা অনেক

রসুন শরীরকে শক্তিশালী করে।

রসুনের মধ্যে বিদ্যমান উদ্বোধন হলো মানুষের শরীরের ক্লান্তি দূর করতে এবং শারীরিক শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

প্রাচীন ব্রিক অলিম্পিক অ্যাথলেটদের পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য তাদেরকে রসুন খাওয়ানো হতো। আমরা উপরে ই আলোচনা করেছি রসুন আমাদের শরীরের কি কি খারাপ প্রভাব কমাতে সাহায্য করে:

  • কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়
  • নিম্ন রক্তচাপ
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  • অসুস্থতার দৈর্ঘ্য কমায়।

আমরা যদি এসব রসুনের উপকারিতা হিসেবে পেয়ে থাকে তাহলে আমরা খুব সহজেই ফিট থাকতে পারবো। তাই শরীর ফিট থাকার জন্যেও রসুন খেতে হয়।

পড়তেই থাকুন ,কাঁচা রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা ।

রসুন আমাদের শরীরকে বিষমুক্ত (detoxification) করে।

Detoxification হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আমাদের শরীরের অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ থেকে আমাদের শরীর মুক্ত হয়ে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেইসব পদার্থ আমাদের শরীর থেকে নিষ্কাশিত হয়ে যা আমাদের শরীরের জন্য ভালো না। এটা আমাদের সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা প্রতিদিনই বিশাল সংখ্যক কেমিক্যাল এবং বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ ত্যাগ করি যা আমাদের শরীরের জন্য কখনোই ভালো না। এসব বিষাক্ত পদার্থের মাধ্যমে আমাদের চারপাশের পরিবেশ তথা, পানি ,বায়ু ,বাটি ইত্যাদি দূষিত হচ্ছে। নিচে কয়েকটি বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ এবং দূষণ উল্লেখ করা হলো:

  • আমরা যেসব কেমিক্যাল কৃষি কাজে বা কৃষি জমিতে ব্যবহার করি।
  • নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট থেকে নিউক্লিয়ার রেডিয়েশন।
  • গৃহস্থালির বিভিন্ন জিনিসপত্র পরিষ্কারের জন্য কেমিক্যাল।
  • কেমিক্যাল সম্বলিত অন্যান্য গৃহস্থালির জিনিসপত্র।

রসুন একটি শক্তিশালী বিষমুক্তকরণ খাবার(detox food)। রসুন আমাদের লিভারের এনজাইম দ্বারা glutathione উৎপন্ন করে, এটি আমাদের শরীর থেকে এসব বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশনে সহায়তা করে।

এছাড়াও রসুন বিভিন্ন ধরনের detoxifying components উৎপন্ন করে যার মধ্যে রয়েছে multiple bioactive selenium এবং sulfur compounds ।

মহিলাদের হাড়ের ক্ষয় কমাতে রসুনের ব্যবহার।

রসুন মহিলাদের ইস্ট্রোজেন হরমোন তৈরি বৃদ্ধি করে দেয়, এই ইস্ট্রোজেন হরমোন মহিলাদের হাড়ের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে।

menopausal women এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে রসুনের নির্যাস এর দৈনিক ডোজ (কাঁচা রসুনের ২ গ্রামের সমান) উল্লেখযোগ্যভাবে ইস্ট্রোজেন হরমোন তৈরীর ঘাটতি কমায়।

তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত গবেষনা হয়নি, তাই সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে বলা যাচ্ছে না। তবুও রসুন যেহেতু একটি প্রাকৃতিক খাবার তাই এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে।

পড়তেই থাকুন ,কাঁচা রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা।

রসুনের অপকারিতা

রসুনের অপকারিতা: রসুনের উপকারিতা অনেক থাকলেও এর অপকারিতাও রয়েছে। রসুন একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এটিকে মানুষ খাবার হিসেবে গ্রহণ করে অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করে। প্রত্যেক খাবার কিংবা ঔষধের একটা মাত্রা রয়েছে, যে পর্যন্ত গ্রহণ করলে আমরা সার্বিকভাবে সুস্থ থেকে রসুনের উপকারিতা নিতে পারব।

কিন্তু আমরা যদি রসুনের অধিক মাত্রার ডোজ নিয়ে থাকি তাহলে এটি অবশ্যই আমাদের শরীরে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করবে।

তবুও রসুন যেহেতু কি প্রাকৃতিক খাবার, তাই রসুনের অপকারিতা খুব বেশি নেই। আমরা সহতোই জানি প্রাকৃতিক নির্যাস এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া খুব কম। নিচে এমন কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করলাম যেগুলো অতিরিক্ত রসুন খেলে উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে:

  • রসুনের মধ্যে যেহেতু সালফার জাতীয় উপাদান বিদ্যমান তাই এটি খেলে মুখে দুর্গন্ধ হয়।
  • আমরা জানি রসুন খেলে মানুষের উচ্চ রক্তচাপ কমে যায় এবং নিম্ন রক্তচাপ হওয়ার কারণে এক্ষেত্রেও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, নিম্ন রক্তচাপের কারণে মাথা ঘোরা ,বমি-বমি ভাব, ঘাড় ব্যথায় ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত রসুন খাওয়ার কারণে এতে বিদ্যমান Allicin আমাদের যকৃতের মধ্যে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
  • গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত রসুন খাওয়া থেকে বারণ করা হয়। কারণ অতিরিক্ত রসুন খেলে দুধের স্বাদ পরিবর্তন হতে পারে এছাড়াও প্রসব বেদনা বাড়তে পারে।
  • এছাড়াও অতিরিক্ত রসুন গ্রহণের ফলে আমাদের ডায়রিয়াও হতে পারে।

আরো পড়ুন,

আমার শেষ কথা,

আশা করি আপনাদের রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়াও আমি উল্লেখ করেছি সেক্সে রসুনের উপকারিতা ইত্যাদি। আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমি এই প্রতিবেদনের অনেক স্থানে বলেছি বিভিন্ন গবেষণার কথা, আপনাদের যদি এসব গবেষণা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থেকে থাকে বা এরূপ প্রশ্ন আসে যে সব গবেষণা কোথাকার তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

উপরোক্ত সবগুলো তথ্য আমি বিভিন্ন ইংরেজির জার্নাল wikipedia সহ বড় বড় অনেক অথেন্টিক ইনফরমেশন সোর্স থেকে সংগ্রহ করেছি।

আজকে এ পর্যন্তই। আসসালামু আলাইকুম।

পাইলস কি? পাইলস কেনো হয়? পাইলস সারানোর উপায় ?

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি ভালো আছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার অর্জিত জ্ঞান এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ দের থেকে নেওয়া পরামর্শ দিয়ে আজকে একটি আর্টিকেল লিখছি। এই আর্টিকেলের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে পাইলস সারানোর উপায়।

আমি যেহেতু পাইলস নিয়ে লিখছি সেহেতু এউ রিলেটেড কিছু বিষয় যোগ করছি যেমন, পাইলস কি? পাইলসের লক্ষণ গুলো কি কি? পাইলস কেন হয়? ইত্যাদি। দয়া করে পুরো লেখাটি পড়বেন যদি আমি পাইলসের প্রাথমিক রোগী হন।এছাড়াও যাদের মনে সন্দেহ হচ্ছে আপনাদের পাইলস হয়েছে, চিন্তা করবেন না। আর্টিকেলটি পড়লেই বুঝতে পাবেন। তো চলুন শুরু করা যাক।

পাইলস কি?

মলদ্বারের সংক্রামক রোগকেই মূলত পাইলস বলে। বিশদভাবে বলতে গেলে মলদ্বার কিংবা মল ত্যাগকারী নালির টিস্যুর স্ফীতি কিংবা সংক্রামক রোগকে পাইলস বলে।আমাদের দেশের বেশীরভাগ মানুষ এই রোগকে অর্শ্ব রোগ নামে চিনে।

ইংরেজিতে এই রোগকে বলে Hemorrhoids। শুধুমাত্র যে মলত্যাগ কারী নালীর সংক্রমণ এর জন্য পাইলস বা অর্শ রোগ হয় তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে মলত্যাগ করে নালীর রক্তজালিকা গুলো যদি কোন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে এই পাইলস রোগ হতে পারে।

পাইলস সারানোর উপায়

পাইলস আমাদের দেশের একটি খুব সাধারণ রোগ। সাধারণ বললে একটু ভুল হয়েই যাবে যেহেতু বর্তমানে বাংলাদেশে পাইলস রোগে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা খুবই কম। তবে আমেরিকানদের ক্ষেত্রে একটি অতি এবং অত্যন্ত সাধারণ রোগ। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে আমেরিকান প্রতি ১০ জনে একজন পাইলস রোগে আক্রান্ত। তাহলে বুঝতেই পারছেন সেখানে পাইলস রোগের ভয়াবহতা কেমন।

তবে পাইলস হলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে অবশ্যই আপনার পাইলস ধরা পড়বে এতে কোন সন্দেহ নেই। আজকের এই আর্টিকেলে মূলত আমি পাইলস সারানোর উপায় সম্পর্কে বলবো। পড়তেই থাকুন।

পাইলস কেনো হয়? 

আমার বক্তব্যের শুরুতেই বলে দিয়েছি যে মলদ্বারের সংক্রামক রোগ কে পাইলস বলে। অর্থাৎ পাইলস হয় মলদ্বারের সংক্রমণের কারণে। এখন আপনাকে খুঁজতে হবে মলদ্বারের সংক্রমণ কেন হয় এবং কিভাবে হয়। তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন পায়েলস রোগ হওয়ার কারণ কি।

আসলে যেসব কারণে পাইলস রোগ হয়ে থাকে সেগুলো একটি আরেকটির সাথে স্বাভাবিকভাবে সংযুক্ত নয়। পাইলস রোগ হয়ে থাকে বড় বড় গোটা দশেক এর বেশি ভিন্ন ভিন্ন কারণে। এমনকি আপনি অবাক হতে পারেন যে এসব কারণে পাইলস হয়ে থাকে । নিচে তা উল্লেখ করা হলো।

  • যাদের দেহ স্থুল আকৃতির তাদের এ রোগটি হতে পারে।গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে স্থুল আকৃতির দেহ পাইলস প্রতিরোধ করতে পারে না অর্থাৎ খুব সহজেই মলদ্বার সংক্রমিত হয়ে যায়। তাই পাইলস হওয়ার এর একটি কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত মোটা হওয়া।
  • যারা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন কিংবা দাঁড়িয়ে থাকেন তাদের পাইলস রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা কিংবা দাঁড়িয়ে থাকা এর সাথে মলদ্বারের সংক্রমনের কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই একারনে পাইলস হয়ে থাকে।

 

  • মলত্যাগে পর্যাপ্ত সময় না দিলে পাইলস রোগ হতে পারে। বাস্তবতা এই যে অনেক লোকই অতি তাড়াতাড়ি মলত্যাগ সম্পন্ন করতে চান। ফলে দ্রুত মলত্যাগ করার জন্য অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করতে হয়। এর কারণে মলদ্বারের শিরাগুলো কিংবা এর প্রাচীর গোত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে পাইলস রোগের সৃষ্টি হয়।

 

  • হাঁচি-কাশি কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাস তাৎক্ষণিক সম্পূর্ণরূপে হঠাৎ বন্ধ করলে হেমোরয়েড বা পাইলস রোগ হতে পারে। এ কারণটা আসলে অবাক করার মতো হলেও এটাই বাস্তবতা। এর কারণ আপনি যখন হঠাৎ হাঁচি-কাশি কিংবা শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ করেন ঠিক তখনই এর প্রভাব আপনার মলদ্বারে পড়ে। মলদ্বারের চাপ সৃষ্টি হয় এবং তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে পাইলস রোগ হয়।

 

  • আপনার খাদ্য তালিকায় যদি নিয়মিত আঁশযুক্ত খাবার না থাকে তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি হবে। আর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে আপনার মলদ্বার আঘাতপ্রাপ্ত কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে পাইলস রোগ হয়ে থাকে।

 

  • পাইলসের জেনেটিক প্রবণতা। অর্থাৎ আপনার পূর্বপুরুষ বা বংশে পাইলস রোগের ইতিহাস থাকলে জেনেটিক্যালি আপনারও পায়েলস রোগ হতে পারে। বাস্তবতা এই যে আপনার বাবার মলদ্বারে রক্ত শিরা গুলি দুর্বল থাকলে আপনার ও মলদ্বারের রক্ত শিরাগুলি দুর্বল হতে পারে।

 

  • পায়খানা চেপে রাখার কারণে পাইলস হয়ে থাকে। পায়খানা চেপে রাখার কারণে তা মলদ্বারের জমা হয় এবং শক্ত আকার ধারণ করে। এই শক্ত মল, মলদ্বারের গায় চাপ এবং ঘর্ষণের সৃষ্টি করে ফলে মলদ্বারের ভেতরে এবং বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এ কারনেও পাইলস হতে পারে।

পাইলস সারানোর উপায়

  • গর্ভবতী মহিলাদের পাইলস রোগ হতে পারে। এর কারণ পেটে বাচ্চা ধারণ করার জন্য গর্ভবতী মহিলাদের মলদ্বারে এক ধরনের আলাদা চাপ সৃষ্টি হয়। তবে তার স্বাভাবিক ভাবে কোনো ক্ষতি করে না। এই চাপ যদি অস্বাভাবিক পর্যায়ে যায় তাহলেই কেবল পাইলস রোগ হয়ে থাকে।

 

  • অতিরিক্ত এবং প্রায় প্রায় কফযুক্ত কাশি এবং সর্দি হলে পাইলস রোগ হতে পারে।

 

  • মলদ্বারের বাইরে উম্মুক্ত অংশ পরিষ্কার করার জন্য অত্যাধিক চাপ প্রয়োগ, ক্রিকবাজ জোরে ঘষাঘষি করলে মলদ্বারের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে । যার কারণে পাইলস রোগ হয়।

 

  • অতিরিক্ত ওজন উত্তোলন করার জন্য আপনার মলদ্বারের চাপ পড়তে পারে। তাই অতিরিক্ত ভর উত্তোলন করার জন্য পাইলস রোগ হয়ে থাকে।

 

  • বাথরুমে মলত্যাগ করার সময় অতিরিক্ত সময় বসে থাকলে পায়েল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আমাদের পরামর্শ হচ্ছে মলত্যাগ করার সময় পর্যাপ্ত সময় ব্যয় করা বেশিও না কমও নয়।

অবশ্যই পড়ুন,

 

পাইলস রোগের লক্ষণ কি কি?

পাইলস রোগ হওয়ার সাথে সাথে এর লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। সাধারনত এই রোগকে নিশ্চিত করতে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয় না। নিজেই এই রোগের লক্ষণগুলো সাথে মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি পাইলস রোগ কি না? তবে ডাক্তারের সাহায্যে ও এই রোগ নির্ণয় করা যায়। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো।

 

  • মলত্যাগের সময় মলদ্বার দিয়ে রক্ত বের হয়ে আসা। যেহেতু পাইলস রোগে মলাশয় মল ত্যাগকারী নালী ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাই সেখান থেকে রক্ত বেরিয়ে আসা স্বাভাবিক। এবং রক্তের রং সাধারণত গাঢ় লাল রঙের হয়। যে ধরনের পাইলস থেকে রক্ত নির্গত হয় তাকে ইংরেজিতে thrombosed external piles বলে।

 

  • পাইলস যদি একটু বড় মাপের হয় তাহলে সব সময় মলদ্বার গাত্রে ব্যথা অনুভূত হতে থাকবে। কেননা স্বাভাবিক নিয়মে মানুষের মলদ্বারের নালী গুলি নড়াচড়া করতে থাকে। নড়াচড়া করার কারণে সেখানে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় এবং ব্যথা অনুভূত হয়।

 

  • বিশেষ করে মলত্যাগের সময় ব্যথা অনুভূত হতে পারে। মানুষের মল গুলো যখন মলদ্বার দিয়ে পায়ুপথের সাহায্যে বাইরে বের হয়ে আসে তখন সেগুলো মলদ্বারের গায়ে ঘর্ষণের সৃষ্টি করে। যেহেতু পাইলস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মলদ্বার ক্ষতিগ্রস্ত সংক্রমিত আগে থেকেই হয়ে থাকে তাই মল বের হওয়ার সময় তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।

 

  • পাইলস রোগ হলে মলদ্বারে ফুসকুড়ি বা চুলকানি হয়। যেহেতু পাইলস রোগে মলদ্বারের গাত্র সংক্রমিত হয় তাই চুলকানি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

 

  • পাইলস আক্রান্ত ব্যক্তিদের মলদ্বারের গাত্র ফাটা লাল এবং ক্ষত পূর্ণ হয়ে থাকে। তবে এই লক্ষণ মলদ্বারের বাইরের অংশের চেয়ে ভেতরের অংশে বেশি প্রকাশ পায়।

 

পাইলস রোগের কুফল গুলো কি কি?

যদিও পাইলস রোগ সাধারণ অবস্থায় অতটা মারাত্নক নয় তবে এর কূফল কোনো অংশে মারাত্নক রোগগুলোর থেকে কম নয়।যেহেতু পাইলস রোগের কারণে মল নালী দিয়ে রক্ত নির্গত হয়। তাই গবেষণায় দেখা গেছে পাইলস রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের রক্তস্বল্পতা হয়ে থাকে। যেটাকে আমরা ইংরেজিতে Anemia বলে থাকি। এটি আবার আরএক ধরনের মারাত্নক রোগ।

পাইলস রোগে আক্রান্ত রোগীদের ইনফেকসন হতে পারে।মলদ্বারের পর্দা ফেটে যাওয়ার জন্য ইনফেকসনের ঝুকি আরো বেড়ে যায়। কারণ তখন মলনালীর পর্দা না থাকায় মল সরাসরি মলদ্বারের স্পর্শকাতর অংশে লাগে। মলে অত্যন্ত খারাপ পদার্থ থাকার জন্য ইনফেকসন হয়।

পাইলস রোগের চিকিৎসা খুব দ্রুত করতে হয়। কারণ এর একটি বড় ধরনের ঝুঁকি আছে।এই রোগটি বড় ধরনের পর্যায়ে চলে গেলে ইনফেকসন থেকে ক্যান্সারের সৃষ্টি হতে পারে। তবে চিন্তা করবেন না। যাদের মারাত্বক পর্যায়ে তাদের অন্তত বসে মোবাইল টেপার অবস্থা থাকতো না।এই যে আপনি মোবাইল টিপছেন, আশা করি মলদ্বারে খুব বেশী একটা যন্ত্রনা করছে না, অন্ত্যত নিশ্চিত থাকুন আপনি পাইলস রোগের চরম পর্যায়ে নেই।

এছাড়াও আরো অনেক ক্ষতি আছে পাইলস রোগের, যেমন, পাইলস রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মলদ্বারের গাত্রের যে রক্তনালী থাকে তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সেখানে রক্ত সঞ্চালিত হতে পারে না। ফলে সেখানে রক্ত জমাট বাধে এবং ইনফেকসন হওয়ার সম্ভবনা বাড়িয়ে দেয়।পড়তেই থাকুন পাইলস সারানোর উপায়

পাইলস রোগের প্রকারভেদ।

পাইলস রোগকে সাধারণত দুইটি শ্রেণিতে এবং চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়।ডাক্তার এবং বিশেষজ্ঞদের কথা অনুযায়ী এই রোগগুলোকে নিম্নোক্তভাবে পর্যালোচনা করা যায়।

১। অন্তঃপাইলস

এ পাইলসে পায়ুপথের ভিতরের অংশ সংক্রমিত হয়।এখানে ভেতর অংশ বুঝাতে গেলে আপনাকে একটি উদাহরণ দেয়া যায়। ধরেন আপনার মল, যে পথে আসে সেটা একটা পাইপ।আর সেই পাইপের ভেতর অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই পাইলস হয়। এখানে ভেতরের অংশ বলতে পাইপের ভেতরের অংশ বাইরের অংশ নয়।

২।বহিঃপাইলস

এটি আগের পাইলসের বিপরীত।অর্থাৎ এই পাইলস হয় পায়ুপথের বাইরের অংশের সংক্রমণের কারণে।এই পাইলস খুবই মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। কারণ পায়ুনালীর বাইরের অংশ অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং যেখানে সাধারণ মানুষ নাগাল পায় না।

এখানে পায়ুনালীর বাইরের অংশ বলতে উদাহরণের পাইপের বাইরের অংশ কে বুঝাচ্ছি আর সেখানে কোনো মল থাকে না।

উপরিউক্ত দুই রকমের পাইলস ব্যাতীত আরো এক ধরনের পাইলস আছে। যেটি একটু ব্যাতিক্রম ধর্মী।আমরা জানলাম পাইলস হয় পায়ুপথের ভিতরে বা বাইরে। কিন্তু কিছু কিছু মানুষের ব্যাতিক্রম হিসেবে দুই রকমের পাইলস একসাথে হতে পারে। অর্থাৎ পায়ুনালীর ভিতর এবং বাইরে উভয় পাশে সংক্রমিত হয়।

যদি কোনো মানুষের এয় ধরনের পাইলস হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এবং এই পাইলস চরম পর্যায়ে পৌছে গেলে আর কিচ্ছু করার থাকে না অপারেশন করা ছাড়া।

এখন আসি কোন পাইলস কতটা মারাত্নক। ক্ষতির দিক থেকে আপনি কত নাম্বার পর্যায়ে আছেন।আমরা কিছু দিকনির্দেশনা দিব এবং পাইলস সারানোর উপায় বলে দিবো যা দিয়ে আপনি উপকৃত হতে পারবেন। নিচের পর্যায় গুলো খেয়াল করেন,

১। প্রথম পর্যায়:

প্রথম পর্যায়ে পাইলস রোগের অতি সাধারণ একটি অবস্থা। এ অবস্থায় পায়ুনালী এর গাত্রের টিস্যুগুলো সামান্য পরিমাণের ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে মলত্যাগ করার সময় সামান্য কিংবা বেশি পরিমাণে ব্যথা হতে পারে।যেহেতু এটি পাইলস রোগের প্রথম পর্যায় তাই এই পর্যায়ে পায়ুপথে রক্ত বেরিয়ে আসতে পারে আবার নাও পারে।

২। দ্বিতীয় পর্যায়:

পাইলসের এই পর্যায়টি প্রথম পর্যায় থেকে একটু প্রকট । পায়ুপথের গাত্র প্রথম পর্যায় থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে পায়ুপথ ফুলে যায়। এর কারণে মলত্যাগ করার সময় অনেক কষ্ট হয়। আবার ব্যতিক্রম হিসেবে কোন কোন বার পায়ুপথ সামান্য বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে। তবে এ পর্যায়ে পায়ুপথ সামান্য বেরিয়ে আসলেও তা আপনা আপনি ঠিক হয়ে যায়।

৩। তৃতীয় পর্যায়:

পাইলসের এই পর্যায়ে তৃতীয় পর্যায়ে থেকে মারাত্মক। সাধারণ এবং প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসরণ করে পর্যায়ে পায়েলকে প্রতিকার করা সামান্য পরিমাণে অসম্ভব বটে। ব্যতিক্রম হিসেবে এই পর্যায়ে রোগীদের ঔষধ সেবন করতে হয়। পায়ুপথের গাত্র বেশি পরিমাণে ক্ষত হওয়ার কারণে পায়ুপথ থেকে রক্ত নির্গত হয় এবং পায়ুপথ বাইরে বের হয়ে আসতে পারে। যেহেতু মলত্যাগ করার সময় পায়ুপথ বাইরে বের হয়ে আসে এবং তা আপনা আপনি ঠিক হয় না তাই হাত দিয়ে পায়ুপথ ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হয়।

৪। চতুর্থ পর্যায়:

এটি পাইলসের একদম চরম পর্যায়ে। এই পর্যায়ে একজন মানুষের পক্ষে কষ্ট সহ্য করা প্রায় অসম্ভব। পায়ুপথ ক্ষত সৃষ্টি হতে হতে এমন পর্যায়ে চলে যায় যে পায়ুপথে পচন ধরে যায়। এক্ষেত্রে এ পর্যায়ে রোগীদের অবশ্যই অপারেশন করতে হয়। তা না হলে এ পর্যায়ে রোগীদের পরবর্তী ধাপ হচ্ছে ক্যান্সার। এ পর্যায়ে ঠিকমতো চিকিৎসা করা না হলে নিশ্চয়ই ক্যান্সার হবে। তাই পাইলস রোগ সম্পর্কে সাবধান থাকবেন।

অবশ্যই পড়ুন,

পাইলস সারানোর উপায় ?

সাধারণত আমাদের দেওয়া প্রথম থেকে চতুর্থ পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসার মাধ্যমে পায়েলস সারানো যায়। তবে আপনারা যদি প্রাকৃতিক ঔষধ দিয়ে পাইলস সরাতে চান তাহলে প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের সরাতে পারবেন। ব্যতিক্রম হিসেবে কোন কোন ক্ষেত্রে তৃতীয় পর্যায় সহ প্রাকৃতিক ঔষধ দিয়ে সরানো যায়।

আবার পায়েলস যদি মারাত্মক আকার ধারণ করে তাহলে অবশ্যই শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে পায়ুপথ সার্জারি করতে হবে। এই সার্জারি কেবল তৃতীয় এবং চতুর্থ পর্যায়ের জন্য প্রযোজ্য। এছাড়াও ডাক্তার এবং বিশেষজ্ঞরা পাইলস সারানোর উপায় হিসেবে বিভিন্ন পাইলস এর ঔষধ দিয়ে থাকেন। নিচে তা বৃহৎ পরিসরে আলোচনা করা হল।পড়তেই থাকুন পাইলস সারানোর উপায়।

পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা।

১। লেবু এবং আদার রস:

আমরা জানি পাইলস হয় মূলত ডিহাইড্রেশনের কারণে। আপনি যদি একটা লেবু এবং সামান্য পরিমাণ আদা কে বেটে তার রস একত্র করে শরবত বানিয়ে খেতে পারেন তাহলে এটি আপনার ডিহাইড্রেশন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। আপনার ডিহাইড্রেশন সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে অটোমেটিক পাইলস রোগ সেরে যাবে।

২। কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া:

কাঁচা পেঁয়াজ পাইলসের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি বস্তু।কাচা পেয়াজে এমন কিছু আপাদান থাকে যা কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্যান্সার ইত্যাদি প্রতিরোধ করে। নিচে কাচা পেয়াজের উপাদান গুলো দেখুন।১০০ গ্রাম কাচা পেয়াজে যা যা থাকে,

  • ক্যালোরীঃ ৪০ কিলো ক্যালরি।
  • পানিঃ ৮৯%
  • প্রোটিনঃ ১.১ গ্রাম।
  • কার্বোহাইড্রেটঃ ৯.৩ গ্রাম।
  • সুগারঃ ৪.২ গ্রাম।
  • ফাইবারঃ ১.৭ গ্রাম।
  • ফ্যাটঃ ০.১ গ্রাম।

উপরিউক্ত উপাদান গুলো থেকে দেখা যাচ্ছে পেয়াজে পানি এবং ফাইবার আছে। তাই এই উপাদান দুটি থাকার জন্যে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ক্যান্সার এর ঝুকি অনেক আংশে কমে যাবে।যেহেতু কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ক্যান্সার পাইলসের সাথে জড়িত তাই পেয়াজ খেলে পাইলস থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

৩।ডুমুর বা ত্বীণ ফল।

এই ফল নিয়মিত খেলে পাইলস রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।এটি আরব দেশের একটি ফল যা বাংলাদেশে খুব কম পরিমাণে আবাদ হয়।এই ফলটি সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা বলেছেন।আল্লাহ তায়ালা এই ফলটির কসম খেয়েছেন। ডুমুর ফল খাওয়ার একটি বিশেষ নিয়ম আছে, তবে আপনি সাধারণ নিয়মেও ক্ষেতে পারেন। নিয়মটি হলো, রাতে ডুমুর ফুল ভিজিয়ে রাখবেন, সকালে উঠে সেই ডুমুর ভেজা পানি অর্ধে খেয়ে নিতে হবে এবং বাকি অর্শেক পানি বিকেল বেলায় খেয়ে নিতে হবে।

৩০ গ্রাম ডুমুর ফলে যা যা পাওয়া যায়,

  • ২৯০ কিলোজুল শক্তি
  • ১.১ গ্রাম প্রোটিন
  • ০.৫ গ্রাম ফ্যাট।
  • ১৫.৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট।
  • ৩ গ্রাম ফাইবার
  • ২৯১ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম
  • ৭৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম
  • ২৪ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম
  • ১.২৬ গ্রাম আয়রন

 

পেয়াজের মত এই ফলেও আমরা ফাইবার পাচ্ছি। অর্থাত এই ফল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় যা পাইলস রোগে সারানোর উপায় হতে পারে।

৪। কলা খাওয়া:

পাইলস রোগ প্রতিরোধ করার জন্য কলা খাওয়া যেতে পারে। কলাতে এমন এক ধরনের পিচ্ছিল পদার্থ থাকে যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ফলে পাইলস রোগ কিছুটা নিরাময় হয়। তবে আমাদের বলা কোন ঘরোয়া উপায়ে অধিক পরিমাণে ব্যবহার করা যাবে না। নির্দিষ্ট এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ এই ফলগুলো খেতে হবে।

আমরা জানি কলা খেলে মানুষের স্থূলতা পর্যাপ্ত পরিমাণে কমে আসে অর্থাৎ মানুষের ওজন কমে আসে। তাই কলা পাইলস রোগের জন্য একটি কার্যকরী ফল।

৫। পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যায়াম।

আমরা জানি পাইলস রোগ নিরাময়ে ব্যায়াম অত্যন্ত একটি ভালো প্রতিরোধক। পাইলস রোগ প্রতিকার করার জন্য আপনাকে ব্যায়াম করতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে বেশিও নয় কমও নয়। আপনি যদি ব্যায়াম কম করে থাকেন তাহলে আপনার ডাইজেস্টিভ সিস্টেম সমস্যা হবে। আর যদি বেশি ব্যায়াম করে থাকেন তাহলে পাইলস রোগ সারার বদলে উল্টা বাড়তে থাকবে।

তাই অধিক ভারোত্তোলন এক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হয়।পড়তে থাকুন পাইলস সারানোর উপায়।

পাইলস এর এলোপ্যাথিক চিকিৎসা।

পাইলস সারানোর জন্য ডাক্তাররা এলোপ্যাথিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন ঔষধ দিয়ে থাকেন। নিচে পাইলস নির্ণয় ও নিরাময়ের জন্য কয়েকটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হলো।

 

 ক্ষতস্থান এর উপরে আস্তরন(Banding):

পাইলস প্রতিরোধের জন্য মূলত এ কাজটি করা হয়। ডাক্তার একটি স্থিতিস্থাপক একটি ব্যান্ড বা আস্তরণ পাইলসের ক্ষতস্থানের উপরে লাগিয়ে দেন যাতে সেখানে আবার নতুন করে ক্ষতের সৃষ্টি না হয়। এবং এই ব্যান্ড বা আস্তরণ লাগানোর কারণে কিছুদিনের মধ্যে পাইলস এর নতুন ক্ষত সৃষ্টি হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এবং পুরনো কথা গুলো আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায়। এই পদ্ধতিটি প্রযোজ্য কেবলমাত্র পাইলসের প্রথম থেকে তৃতীয় পর্যায়ের জন্য।

 

 স্ক্লেরোথেরাপি (Sclerotherapy):

স্ক্লেরোথেরাপি মাধ্যমে মেডিসিন শরীরের মধ্যে ইনজেক্ট করা হয়। সাধারণত পাইলসের ক্ষতস্থান বাড়তেই থাকে। পাইলসের ক্ষতস্থান সংকুচিত করার জন্য এই থেরাপি ব্যবহার করা হয়। ব্যান্ডিং বা আস্তরণ দেওয়ার বিকল্প হিসেবে এই স্কেলের থেরাপি দেওয়া যেতে পারে। তবে এই স্ক্লেরোথেরাপি পাইলস এর প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে রোগীদের জন্য প্রযোজ্য।

 

ইনফ্রারেড কোএগুলেশন (infrared coagulation)

এই পদ্ধতিটিকে ইনফ্রারেড লাইট কোয়াগুলেশন ও বলে। এই পদ্ধতিতে একটি ডিভাইস মলদ্বারের ভেতরে ঢোকানো হয় এবং ক্ষতিকর পচনশীল এবং ক্ষতস্থান গুলো কে পুড়িয়ে ফেলা হয়। তবে এই পদ্ধতিটি কেবলমাত্র পাইলস রোগের প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে রোগীরা ব্যবহার করতে পারবেন।

 

হেমোরয়েডেকটমী (Hemorrhoidectomy):

পাইলস রোগ নিরাময়ে টি সবচেয়ে কার্যকরী প্রতিকার ব্যবস্থা। এ পদ্ধতির মাধ্যমে যেসব টিস্যু ক্ষত পূর্ণ বা পচনশীল এবং যেসব টিস্যু থেকে রক্তক্ষরণ হয় সেসব টিস্যুকে উপড়ে ফেলা হয়। ফলে পাইলস রোগ পুরোপুরি প্রতিকার করা সম্ভব হয়। তবে এই প্রক্রিয়াটি অনেক জটিল। বিভিন্ন সার্জারির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এটি সম্পূর্ণরূপে পাইলস উপরে ফেললেও এর কয়েকটি রিস্ক আছে। যেমন মূত্রনালীর ইনফেকশন কিংবা পরবর্তীতে মলত্যাগ করতে সামান্য সমস্যা হতে পারে। তবে বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে এ সমস্যা ঠিক হয় না।

পাইলস এর ঔষধ এর নাম

পাইলস এর ঔষধের নাম নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব না। কেননা পাইলস রোগ বিভিন্ন বয়সে হতে পারে যেমন গর্ভবতীদের বয়স্কদের কিংবা তরুণ-যুবকদের। একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম ঔষধ প্রযোজ্য। গর্ভবতীদের পাইলসের ঔষধ তরুণদের পাইলস এর ঔষধের সাথে চলে না। এজন্য পাইলসের ঔষধ নিতে হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হয়। তবু আমার সেরা কিছু ঔষধ আপনাদের বলে দিব তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এগুলো কখনো খাবেন না। আমি আবারও বলছি এগুলো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খেতে বারণ করছি। নিচে পাঁচটি পাইলসের ঔষধ এর নাম দেওয়া হল।

  • Hydrocortisone/Pramoxine
  • Lidocaine
  • Phenylephrine
  • Dibucaine
  • Analpram-HC

 

পাইলস এর মলম বা অয়েনমেন্ট

পাইলসের জন্য আপনি অবশ্যই মলম ব্যবহার করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে ও আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কেননা বিশেষ করে পাইলস এর মলম গুলোতে বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যা আপনার পাইলস এর ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের মলম হলে আপনার ক্ষতি করতে পারে। আপনাদের সুবিধার্থে আমি পাঁচ রকমের মলমের নাম তুলে ধরলাম। আপনারা যথাসাধ্য ডাক্তারের কাছে যাচাই করে মলম গুলো ব্যবহার করতে পারেন।

  • Shield rectal ointment
  • Recticare anorectal cream
  • Tronolane hemorrhoid cream
  • Equate hemorrhoid cream
  • Anovate cream

পাইলস রোগ প্রতিরোধে করণীয়?

আপনাদের যাদের পাইলস এখনো হয়নি তাদের জন্য পূর্ববর্তী করণীয় কি? আসলে পাইলস রোগ হয়ে থাকে সামান্য অসাবধানতার কারণে। শুধুমাত্র সেগুলো পরিহার করলে পাইলস থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। নিচের কয়েকটি পয়েন্ট লক্ষ করুন।

১। মশলাযুক্ত খাবার পরিহার:

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ মসলাযুক্ত খাবার খেতে পছন্দ করে। আসলে মসলাযুক্ত খাবার পরিহার , এটা ঠিক কথা নয়। আপনি মসলাযুক্ত খাবার খেতে পারে তবে সেটা উপযুক্ত পরিমাণে। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খাবার কারণে আপনার ডাইজেস্টিভ সিস্টেম এর সমস্যা হয় এবং পাইলস রোগের সৃষ্টি হয়।

২। আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া:

আমরা জানি আঁশযুক্ত খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে আর কোষ্ঠকাঠিন্য পাইলস রোগ সৃষ্টি করে। তাই আমাদের খাবার তালিকায় আঁশযুক্ত খাবার যুক্ত করতে হবে তাহলেই পাইলস রোগ এড়ানোর সম্ভব। আঁশযুক্ত খাবার বলতে বিভিন্ন ফলের বিচি, নারিকেল, আম কাঁঠাল ইত্যাদি।

। পরিমিত ব্যায়াম করা:

আমাদের দেশে দেখা যায় কেউ কেউ ব্যায়ামই করে না আবার কেউ কেউ এমন ব্যায়াম করে ফেলে যা পাইলস রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যায়াম না করলে ডাইজেস্টিভ সিস্টেম এর সমস্যা হয় পাইলস হতে পারে আবার অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে পায়ুপথের টিস্যুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আমাদের স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পরিমিত ব্যায়াম করতে হবে।

। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ:

আমরা জানি শরীরের অতিরিক্ত ওজনের জন্য পাইলস রোগ হয়ে থাকে। তাই আমাদের শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রন করা দরকার। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করতে হবে বেশিও না কমও না।

Read more,

পাইলস রোগের ছবি।

নিচে কিছু পাইলস রোগের ছবি দেয়া হলো,

পাইলস সারানোর উপায়

পাইলস সারানোর উপায়

আমাদের শেষ কথা,

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে আমি পাইলস সারানোর উপায় সহ অর্শ রোগ থেকে মুক্তির উপায় , পাইলস এর ঔষধের নাম‌ এবং অর্শ রোগের চিকিৎসা ইত্যাদি সম্পর্কে ভালভাবে বর্ণনা করেছি। আশা করি আমাদের আর্টিকেলটি তথ্যবহুল ছিল।

এছাড়া আমরা বলেছি পাইলস এর চিকিৎসা ঔষধ সম্পর্কে। আপনারা যারা বিনা অপারেশনে ফিস্টুলা থেকে বাঁচতে চান তারা এই আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়লে আমার মনে হয় অশ্ব রোগ থেকে বাঁচতে পারবে।

দয়া করে আমাদের আর্টিকেলটি ফেসবুকে শেয়ার করে দিবেন। আজকে এ পর্যন্তই। ভালো থাকবেন।