তড়িৎ ঋণাত্নকতা কাকে বলে| তড়িৎ ঋণাত্নকতা কি?(পর্যায়বৃত্ত ধর্ম)

আসসালামু আলাইকুম। এই আর্টিকেলে আমি তড়িৎ ঋণাত্নকতা কাকে বলে ,তড়িৎ ঋণাত্মকতা কি, সমযোজী যৌগে তড়িৎ ঋণাত্মকতার গুরুত্ব ,ইত্যাদি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করব।

এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা করার আগেই আপনাকে কিছু কথা বলি। আপনাকে তড়িৎ ঋণাত্মকতা ভালোভাবে বুঝতে হলে প্রথমে আপনাকে পর্যায় সারণী সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। পর্যায় সারণির মৌলের অবস্থান,মৌলগুলোর আকার বা পারমাণবিক ব্যাসার্ধ ইত্যাদি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। চলুন তড়িৎ ঋণাত্মকতা সম্পর্কে বলা যাক।

তড়িৎ ঋণাত্নকতা কাকে বলে?

বইয়ের ভাষায় বলতে গেলে তড়িৎ ঋণাত্মকতা হচ্ছে,

দুটি পরমাণুর যখন সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অনুতে পরিণত হয় তখন অনুর পরমাণুগুলো বন্ধন এর ইলেকট্রন দুটিকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণকে তড়িৎ ঋণাত্মকতা বলা হয়।

এছাড়া সংক্ষিপ্ত হবে আমরা আরেকটি সংজ্ঞা দিতে পারি সেটি হচ্ছে,

সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ কোন পরমাণুর বন্ধন, ইলেকট্রন নিজের দিকে আকর্ষণ করার ক্ষমতাকে তড়িৎ ঋণাত্মকতা বলে। আমরা জানি এটি হচ্ছে একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। নিজে এর প্রমাণ দেওয়া হবে।

তড়িৎ ঋণাত্মকতা একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম ব্যাখ্যা কর?

এই টপিক ভালভাবে বুঝার জন্য আমাদের আগে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। আর আমরা জানি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম মূলত পর্যায় সারণিতে কেন্দ্র করেই হয়েছে।

তড়িৎ ঋণাত্নকতা কাকে বলে

পর্যায়বৃত্ত ধর্ম কাকে বলে?

পারমাণবিক সংখ্যার ক্রমানুসারে মৌলের ধর্মসমূহ পর্যায়ক্রম অনুসারে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয় তাদেরকে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে।

আমরা পর্যায়বৃত্ত ধর্ম হিসেবে বলতে পারি আয়নীকরণ শক্তি ও ইলেকট্রন আসক্তি এ দুটিই পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। এর কারণ পর্যায় সারণির মৌল গুলোর পারমাণবিক সংখ্যা সবারই ভিন্ন ভিন্ন। এবং প্রত্যেকটি মৌলের আয়নীকরণ শক্তির মান এবং ইলেকট্রন আসক্তির মান আলাদা আলাদা।

অর্থাৎ পারমাণবিক সংখ্যা কম কিংবা বেশী হওয়ার কারণে মৌলগুলোর ধর্মের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তাই আমরা বলতে পারি ইলেকট্রন আসক্তি এবং আয়নীকরণ শক্তি এক ধরনের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। ঠিক একই ভাবে প্রমাণ করা যায় তড়িৎ ঋণাত্মকতা এক ধরনের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। নিচে বিষদভাবে প্রমাণ দেওয়া হল।

আমরা জানি তড়িৎ ঋণাত্মকতা একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম ।একই পর্যায়ের বামের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি এবং ডানের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম ।পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান কমে।

যেমন ৩য় পর্যায়ে মৌল গুলোর মাঝে Na পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান সবচেয়ে কম এবং Cl এর তড়িৎ ঋণাত্মকতা সবচেয়ে বেশি। সাধারণত কোন মৌলের পরমাণুর আকার ছোট হলে তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বেশি হয় এবং কোন মৌলের পরমাণুর আকার বড় হলে তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান কম হয়।

আমরা জানি পর্যায় সারণির মৌলগুলোর আকার ছোট কিংবা বড় হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে পারমাণবিক সংখ্যার উপর। আর এখানে পরমানবিক সংখ্যার ক্রমানুসারে পর্যায় সারণির মৌলগুলোর তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হচ্ছে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় তড়িৎ ঋণাত্মকতা একটি পর্যাবৃত্ত ধর্ম।

তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল কাকে বলে?

যেসব মৌলে “তড়িৎ ঋণাত্মকতা” নামক পর্যায়বৃত্ত ধর্মটি বিদ্যমান তাদেরকে তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল বলে। পর্যায় সারণির ১৮ নং গ্রুপের কোন মৌল তড়িৎ ঋণাত্মকতা নামক পর্যায়বৃত্ত ধর্মটি বহন করেনা। এছাড়া বাকি মৌল গুলো তে তড়িৎ ঋণাত্মকতা বিদ্যমান।চালিয়ে যান তড়িৎ ঋণাত্নকতা কাকে বলে

বিভিন্ন মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান

নিচে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মৌলিক পদার্থের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান দেওয়া হল। এখানে একটা কথা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান এর কোনো একক হয় না।

Hydrogen-2.1

Carbon-2.5

Sodium-3

Cholorine-3

Oxygen-3.5

Fluorine-4.1

Sulfur-2.5

Phosphorus-2.1

সমযোজী যৌগের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে তড়িৎ ঋণাত্মকতার প্রভাব।

সাধারণভাবে আমরা জানি সমযোজী যৌগ তিন ধরনের হয়। একটি হচ্ছে বিশুদ্ধ সমযোজী যৌগ, মৃদু আয়নিক সমযোজী যৌগ, অধিক আয়নিক সমযোজী যৌগ। সুতরাং সমযোজী যৌগ , বিশুদ্ধ নাকি মৃদু আয়নিক কিংবা অধিক আয়নিক তা বোঝার জন্য একটি মানদণ্ডের দরকার। আর সেটি হচ্ছে তড়িৎ ঋণাত্মকতা। তড়িৎ ঋণাত্মকতার সাহায্যে আমরা বলতে পাব কোন সমযোজী যৌগের আচরণ কেমন হবে। নিচের তিনটি লাইন একটু ভালো ভাবে খেয়াল করেন।

  • কোনো যৌগে বিদ্যমান মৌল সমূহের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান এর পার্থক্য ০.৫ এর কম হলে সেই যৌগটি বিশুদ্ধ সমযোজী যৌগ।(তবে ০.৫ নয়)
  • কোনো যৌগে বিদ্যমান মৌল সমূহের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান এর পার্থক্য ০.৫-১.৯ হলে সেটি মৃদু আয়নিক ও সমযোজী যৌগ।
  • কোনো যৌগে বিদ্যমান মৌল সমূহের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান এর পার্থক্য ১.৯ এর বেশি হলে সেই যৌগটি অধিক আয়নিক ও সমযোজী যৌগ।

তড়িৎ ঋণাত্মকতায় পর্যায় সারণির প্রভাব

পর্যায় সারণী কে কেন্দ্র করে যেহেতু তড়িৎ ঋণাত্মকতা ব্যাখ্যা করা যায় সেহেতু তড়িৎ ঋণাত্মকতার ওপর পর্যায় সারণির প্রভাব বিদ্যমান। নিচের দুটি লাইন একটু লক্ষ্য করেন,

  • পর্যায় সারণির বাম হাতের ডানে গেলে তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বৃদ্ধি পায়। (পর্যায়ের ক্ষেত্রে)
  • পর্যায় সারণির উপর থেকে নিচের দিকে গেলে তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান হ্রাস পায়।

যেহেতু পর্যায় সারণির বামের দিকে মৌল গুলোর চেয়ে ডানদিকের মৌল গুলোর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম তাই সেখানকার মৌলগুলোর তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বেশি।

আবার পর্যায় সারণির উপরের দিকের মৌলগুলোর চেয়ে নিচের দিকের মৌল গুলোর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি। তাই নিচের দিকের মৌলগুলোর তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান কম।

আমাদের শেষ কথা,

আজকের এই পোস্টে আমি তড়িৎ ঋণাত্নকতা কাকে বলে এটা নিয়েই মূলত আলোচনা করেছি।তবে তড়িৎ ঋণাত্নকতা ভালো ভাবে বুঝতে এর বিভিন্ন বিষয় যেমন মৌলগুলোর তড়িৎ ঋণাত্নকর মান, তড়িৎ ঋণাত্নকতা কি? ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা এই আর্টিকেলে সকল ধরনের তথ্য উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি।

এছাড়াও আমরা একটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি, তড়িৎ ঋণাত্নকতা একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম ব্যাখ্যা কর? এটি।

আশা করি আমাদের পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে।আর বন্ধুদের সাথে ফেসবুকে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের জন্য অনেক অনুপ্রেরণা যোগাবে।ভালো থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।

সর্রবশেষ লেখনি,

>>>>Related Articles<<<<

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.