চিঠি লেখার নিয়ম বাংলায় (Rules of writing letters in Bengali)

চিঠি মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তথ্য কিংবা মনোভাব আদান প্রদানের জন্য চিঠিই একসময় চালু ছিলো। যদিও বা এর চর্চা বর্তমান সময়ে অনেক কম। আজকে আমি চিঠি লেখার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করবো।

ডিজিটাল এই যুগে চলে আধুনিক সব প্রযুক্তির কারবার। এই যুগে প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো দুনিয়াকে হাতের মুঠোতে আনা হয়েছে।

এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রকে সহজতর করা হয়েছে। মানুষ ইচ্ছা করলে সেকেন্ডে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে খবর পাঠাতে পারছে। 

আগে বলি চিঠির কাজ কি? কেনো আদিম মানুষ চিঠি পাঠাত? 

প্রাচীন যুগে চিঠি পাঠানো হতো কেবল মাত্র তথ্য আদান প্রদান ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো খবর পাঠানোর ক্ষেত্রে। তখন পাখির মাধ্যমে কিংবা পায়রার সাহায্যে চিঠি পাঠানো হতো।

কিন্তু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করেছে। তাই মানুষ আর পায়রার মাধ্যমে চিঠি পাঠায় না।

একজন মানুষেই অন্য সবার চিঠি গন্তব্যস্থলে পৌছে দেয়, আমরা যাকে বলি পোষ্ট মাস্টার।যখন চিঠি পাঠানো আরো সহজ হয়ে গেলো মানুষ তখন চিঠিকে অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা শুরু করলো।

যেমন, চিঠির সাথে টাকা পাঠানো,জরুরী কোনো কাগজপত্র পাঠাতে ইত্যাদি। যেহেতু চিঠি কোনো মানুষ নিয়ে যাচ্ছে তাই ক্ষতি হয়ার সম্ভবনা নেই।

চিঠি পাঠানোর সময়কাল কখন ছিলো ? 

মানুষ প্রায় আদিম যুগ থেকে চিঠি পাঠাতো। চিঠি পাঠানোর এই প্রাচীন রীতি ১৯ শতক পর্যন্ত বহাল ছিলো।

কিন্তু এর পর পৃথিবীতে শিল্পবিপ্লব ঘটার কারণে মানুষের কাছে চিঠি পাঠানোর সংস্কৃতি অনেকটা অবহেলিত। তবে এখনো কিছু মানুষ আছে যারা এই যুগেও চিঠি লিখে।

বর্তমান যুগে শুধু বই খাতায় চিঠি দেখতে পাওয়া যায় কিন্তু মানুষকে চিঠি পাঠাতে দেখা যায় না।

আর্থাত চিঠিপত্র বর্তমানে বই-খাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর দ্রুত যোগাযোগ এর জন্যে ফেসবুক আর ইমেইল তো আছেই।

যাইহোক আমারা প্রধান আলোচনার দিকে যাই।চিঠি লেখার পদ্ধতি সম্পর্কে।

 

চিঠির প্রকারভেদ।

চিঠির বিষয়বস্তু, ধরণ ও কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন রকমের চিঠি লক্ষ্য করা যায়। নিচে এসব চিঠি লেখার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১। ব্যাক্তিগত চিঠি বা পত্র। 

২।প্রাতিষ্ঠানিক পত্র বা আবেদনপত্র। 

৩। সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য চিঠি

৪। মানপত্র ও স্মারকলিপি

৫। বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িকপত্র

৬। আমন্ত্রণ বা নিমন্ত্রণপত্র

চিঠি বা পত্র লেখতে গেলে যে কয়েকটি বিষয়কে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। 

  • চিঠি-পত্রের ক্ষেত্রে কাঠামো নির্ভর করে চিঠির বিষয়বস্তুর উপর। তাই চিঠি লেখার আগে চিঠির বিষয়বস্তুর উপর প্রাধাণ্য দিতে হবে।কেনোনা ব্যাক্তিগত চিঠির কাঠামো এবং সংবাদপত্র প্রকাশের জন্য লিখিত চিঠির কাঠামো কোনোদিন এক হবে না।
  • আপনার লেখা চিঠিটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেতে হবে। আপনার রুচিশীল লেখনি আপনার ব্যক্তিত্বকে মর্যাদাবান করে তুলে। তাই চিঠির লেখাকে আকর্ষণীয় করতে অনেক চেষ্টা করতে হবে। তার জন্য আপনাকে লেখা গুলো স্পষ্ট করতে হবে, লেখার মধ্যে কোনো কাটাকাটি রাখা যাবে না। কেনোনা সুন্দর হাতের লেখা, পাঠক সব সময় পছন্দ করে।
  • চিঠি লেখার ক্ষেত্রে ভাষার ব্যবহারও ঠিকঠাক করতে হবে এবং আপনাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সবসময় চিঠি লিখতে হয় মার্জিত ভাষায়। এতে করে পাঠক এবং লেখকের মধ্যে পূর্ণ ভাব আদান প্রদান সম্ভব হয়। তাই আমি আপনাদের একান্তভাবে বলি চিঠি লেখার ক্ষেত্রে বইয়ের ভাষা ব্যবহার করুন।

 

১।ব্যাক্তিগত পত্র বা চিঠি লেখার নিয়ম।

ব্যাক্তিগত চিঠি মুলত বন্ধুবান্ধব, প্রিয়জন কিংবা নিকট আত্বীয়দের পাঠানোর ক্ষেত্রে কাজে লাগে।যদিও এসব চিঠি লেখার নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই

তবুও একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করে এসব চিঠি পত্র লেখা হয়। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে যেভাবে ব্যাক্তিগত চিঠি লেখা হয় ঠিক সেইভাবে আমরা উপস্থাপন করলাম।

ধাপ-১ঃ চিঠি লেখার শুরুতে একদম ডানদিকে প্রেরকের ঠিকানা লিখতে হবে। নোট=[চিঠি লেখার প্রত্যেকটি ধাপ পরপর নিচে লিখতে হয়]

ধাপ-২ঃ প্রেরকের ঠিকানার নিচে এবং বাম দিকে প্রাপকের প্রতি সম্ভাষণ জানিয়ে চিঠির মূল অংশ শুরু করতে হয়।

যেমন (প্রিয় মুশফিক ফারহান ভাই, প্রিয় নায়িকা কেয়া পায়েল, প্রিয় অমুক, প্রিয় তমুক) ইত্যাদি।

ধাপ-৩ঃ প্রাপকের প্রতি সম্ভাষণের পরে প্রাপককে শুভেচ্ছা বা সালাম জানাতে হয়। তারপর একই ধাপে আপনি কি বিষয় নিয়ে প্রাপককে চিঠিটা লিখছেন সেটা উল্লেখ করতে হয়।

ধাপ-৪ঃ এই ধাপে চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে হয়। অর্থাত পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা।

ধাপ-৫ঃ এই ধাপে প্রেরক প্রাপকে বিদায় সম্ভাষণ জানাবে এবং কোনো প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞাসা করবে।

এরপর লেখার ডানদিকে নিচে লিখতে হয় “ইতি তোমার -সম্পর্ক অনুসারে বন্ধু/ভাই/বোন/চাচা/খালা/ফুফু ইত্যাদি। এর নিচে প্রেরকের স্বাক্ষর দিতে হয়।

ধাপ-৬ঃ এই ধাপে খাম অংকন করতে হয়। যদি আপনি চিঠি খাতায় লিখেন তাহলে ধাপ-৫ এর নিচে এবং বামদিকে খাম আকবেন।

তবে অবশ্যই খামের বাম দিকে প্রেরক আর ডান দিকে প্রাপক এর (নাম-ঠিকানা) দিতে হবে।

নিচে একটি আদর্শ চিঠি লেখার নিয়ম উপস্থাপন করা হলো।

চিঠি লেখার নিয়ম

২।আবেদনপত্র বা প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি লেখার নিয়ম।

আবেদনপত্র বা দরখাস্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারযোগ্য এক ধরনের পত্র। যেহেতু এসব পত্র প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা হয় তাই এর আরেক নাম প্রাতিষ্ঠানিক পত্র।

আবেদনপত্র সম্পূর্ণ অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করা হয়। তাই আবেদন পত্রে ব্যাক্তিগত কোনো কিছু উল্লেখ করা যায় না।

আমি আবারো বলছি আপনারা যদি কোনোদিন আবেদন পত্র লিখেন তাহলে অবশ্যই সেখানে কোনো ব্যাক্তিগত তথ্য তুলে ধরবেন না।

আর অফিসিয়াল কাজে এই পত্রের ব্যবহারের উদাহরণ আমরা নিজেই। আমরা যদি কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষককে কোনো বিষয় সম্পর্কে আবেদন জানাতে চাই তাহলে অবশ্যই আবেদন পত্র লিখতে হয়।

এছাড়া আরো বলতে পারি কোনো অফিসের কর্মচারী তার বসকে যখন কোনো কিছু আবেদন করে তখন তাকে আবেদন পত্র লিকতে হয়। এসকল কাজ অফিসিয়াল বা প্রাতিষ্ঠানিক।

কথা না বাড়িয়ে প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি লিখার নিয়ম গুলো বলি।

ধাপ-১ঃ তারিখ (আবেদন পত্র যেদিন লিখবেন)

ধাপ-২ঃ প্রাপক অথবা শিরোনাম(এই ধাপ শুরু করতে হয় “বরাবর” দিয়ে, তারপর প্রাপকের পদবি, প্রতিষ্ঠান, এবং ঠিকানা উল্লেখ করতে হয়।)

ধাপ-৩ঃ বিষয়বস্তু (আবেদন পত্র যে বিষয়ের উপর লিখবেন)

ধাপ-৪ঃ সম্ভাষণ (প্রাপককে জনাব/জনাবা/মহোদয়/মহাত্নন ইত্যাদি দ্বারা সম্ভাষণ করতে হয় এই ধাপে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় জনাব কিংবা জনাবা লিখলে)

 

ধাপ-৫ঃ আবেদন পত্রের পূর্নাঙ্গ বর্ণনা। (এই ধাপের প্রথম অংশে প্রাপক বা প্রতিষ্ঠানের সাথে আপনার পরিচয় সম্পর্কে উল্লেখ করতে হয়। তবে যথা সম্ভব কম বাক্য ব্যবহার করে।

দ্বিতীয় অংশে আপনি কোন বিষয় নিয়ে প্রাপক কে এই পত্র লিখেছেন তা বাক্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করে তুলতে হবে।

মোট কথা যে আপনি প্রাপকের কাছে কোনো কিছু আবেদন করছেন বা চাচ্ছেন তা স্পষ্ট করে তুলতে হবে।)

ধাপ-৬ঃ বিদায় সম্ভাষণ (যেমন ইতি আপনার একান্ত বাধ্যগত ছাত্র -মোঃ লুৎফুজ্জামান শুভ)

 

আমি দুই ধরনের (আবেদন পত্র বা প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি লেখার নিয়ম) এবং উদাহরণ দেখিয়ে দিচ্ছি।

প্রথমটা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য আর পরের টা অন্যান্য অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।


পাঠাগার স্থাপনের জন্য আবেদনপত্র লিখ?



৪ জুলাই ২০২১

বরাবর

চেয়ারম্যান

জগতবেড় ইউনিয়ন পরিষদ

পাটগ্রাম উপজেলা

লাল্মনিহাট

বিষয় : পাঠাগার স্থাপনের জন্য আবেদন ।

মহোদয়

আমরা লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দা । আমাদের ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সাক্ষরতার হার সন্তোষজনক । তাদের অনেকেই বিভিন্ন সরকারি – বেসরকারি চাকুরিসহ নানা পেশায় যুক্ত । বর্তমানে এই ইউনিয়নে যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত অভূতপূর্ব উন্নয়নের কারণে নানা প্রকার সহশিক্ষাক্রম কর্মকাণ্ড এগিয়ে যাচ্ছে । কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় , এই ইউনিয়নে অব্যাহত শিক্ষা গ্রহণের জন্য কোনো পাঠাগার নেই । যেজন্য এই অঞ্চলের জনগণ নিয়মিতভাবে বই পাঠ করার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ।

এই অবস্থায় জগতবেড় ইউনিয়নে একটি পাঠাগার স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি ।

বিনীত

গতবেড় ইউনিয়নবাসীর পক্ষে

মোঃ লুৎফুজ্জামান শুভ

গ্রামঃবসিরহাট, ডাকঘরঃ জগতবেড়, জেলাঃ লালমনিরহাট।


নিচে আরো একটি আবেদন পত্র চিঠি লেখার নিয়ম নমুনা উপস্থাপন করা হলোআবেদন পত্র চিঠি লেখার নিয়ম

চিঠি লেখার নিয়ম আসলেই খুব সহজ।

অবশ্যই পড়ুন


প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদের জন্য আবেদনপত্র ৷



তারিখ : ১৮.০৫.২০২২

মাননীয়

মহাপরিচালক

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

মিরপুর , ঢাকা ।

বিষয় : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগের আবেদন ।

মহোদয় ,

সবিনয়ে নিবেদন এই যে , গত ১৮ ই মে ২০২২ তারিখে দৈনিক ‘ জনকণ্ঠ ’ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে , প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে লোক নিয়োগ করা হবে । আমি উক্ত পদের একজন প্রার্থী হিসেবে আবেদন করছি । নিম্নে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ জীবনবৃত্তান্ত উল্লেখ করা হলো :

১. নামঃ শিহাব হাসান

২. পিতার নাম : জাহির রায়হান।

৩. মাতার নাম : সুলতানা বেগম

৪. স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : হাজারী বাগ , গ্রাম : পেয়ারা , পোস্ট : জয়নবপুর , জেলা : ঢাকা ।

৫. জন্ম তারিখ :৯ জুলাই , ১৯৯০

৬ . জাতীয়তা : বাংলাদেশি

৭. ধর্ম : ইসলাম

৮. শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ :(——-)

অতএব , উপর্যুক্ত তথ্যাবলির আলোকে অনুগ্রহপূর্বক আমাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করলে বাধিত হব ।

বিনীত নিবেদক

ফাল্গুনী আহমেদ দীপিকা

সংযুক্তি :

১. সনদপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি- ৩ কপি

২.নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদ- ২ কপি

৩.সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজ ছবি- ৩ কপি ।



সংবাদ পত্র চিঠি লেখার নিয়ম

 

জনগণের অভাব – অভিযোগ , স্থানীয় কোনো সমস্যা , জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে অনেক সময় সংবাদপত্রের শরণাপন্ন হতে হয় ।

কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও যথাযথ প্রতিকার পেতে ব্যর্থ হন ।

তাই সমস্যার আশু সমাধানের জন্যে ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পত্র – পত্রিকায় চিঠি লিখতে হয় ।

বিভিন্ন পত্রিকায় চিঠিপত্র কলামে সেইসব চিঠি গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়ে থাকে । যেমন : ইত্তেফাকের ‘ চিঠিপত্র ’ , প্রথম আলোর ‘ পাঠকের অভিমত ’ , জনকণ্ঠের ‘ সম্পাদক সমীপে ’ ইত্যাদি ।

প্রকাশিত চিঠির বক্তব্য ও দায়দায়িত্ব লেখকের ওপর বর্তায় । সম্পাদক প্রকাশিত চিঠির কোনো দায়দায়িত্ব নেন না । এসব কলামের নিচে তাই লেখা থাকে— ‘ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয় ’ ।

সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য আসলে দুটো চিঠি লিখতে হয় :

১. সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদককে অনুরোধ করে পত্র , এবং

২. পত্রিকায় প্রকাশের জন্য পত্র ।

পত্রলেখক যে সংবাদপত্রে চিঠিটি প্রকাশ করতে চান , সেই পত্রিকার সম্পাদককে অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি লিখতে হয় । এই চিঠি সংক্ষিপ্ত হওয়াই ভালো ।

সম্পাদককে সম্বোধন করা ছাড়াও যথাস্থানে তারিখ এবং নিচে প্রেরকের নাম , ঠিকানা ও স্বাক্ষর দিতে হয় । অনুরোধপত্রের সঙ্গে প্রকাশিতব্য চিঠি যুক্ত করে পাঠাতে হয় ।

ত্রিকায় প্রকাশিতব্য চিঠিটাই মূলচিঠি । বিষয়বস্তু অনুযায়ী সেটি তথ্যসমৃদ্ধ , যুক্তিযুক্ত , বাস্তবভিত্তিক হওয়া উচিত ।

প্রাসঙ্গিক বিষয় এমনভাবে উল্লেখ করতে হবে , যাতে কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুভব করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে অগ্রসর হয় ।

সমস্যা ও বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে চিঠি বড় বা ছোট হয় । চিঠির বক্তব্য যথাযথ , বিষয়ানুগ , বাহুল্যবর্জিত ও সংক্ষিপ্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয় ।

এ ধরনের চিঠিতে সাধারণত ভাবাবেগ প্রকাশের সুযোগ নেই ।বক্তব্যের পারম্পর্য এবং ভাষার শুদ্ধতার প্রতি তাই বিশেষ মনোযোগ দিতে হয় ।

নিচে সংবাদ পত্র প্রকাশের একটি নিয়ম দেখানো হলো।


ডাকঘর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য পত্ৰ ৷



২.১.২০২০

সম্পাদক

দৈনিক আজাদী

৯ সিডিএ এভিনিউ

মোমিন রোড , চট্টগ্রাম

বিষয় : সংযুক্ত পত্রটি প্রকাশের জন্য আবেদন ।

জনাব ,

আপনার স্বনামধন্য বহুল প্রচারিত দৈনিক আজাদী ‘ পত্রিকায় নিম্নোক্ত জনগুরুত্বপূর্ণ পত্রটি প্রকাশ করলে কৃতার্থ হব ।

নিবেদক—

মো . রফিকুল ইসলাম

মোহনপুর , কিশোরগঞ্জ ।

(ডাকঘর চাই)

কিশোরগঞ্জ জেলার মোহনপুর একটি জনবহুল গ্রাম । এ গ্রামে প্রায় বিশ হাজার লোকের বসবাস । এখানে রয়েছে রবিশস্য ও তরিতরকারির বিশাল পাইকারি বাজার , কৃষি ব্যাংক , গ্রামীণ ব্যাংক , একটি হাইস্কুল , দুটি প্রাইমারি স্কুল , মসজিদ , মাদ্রাসাসহ সরকারি – বেসরকারি নানা অফিস ।

গ্রামের অনেক লোক দেশ – বিদেশে চাকরি ও ব্যবসা – বাণিজ্য করে । কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানে কোনো ডাকঘর নেই । এখান থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে থানা সদরে একটা ডাকঘর রয়েছে ।

সেখান থেকে একজন ডাকপিয়ন সপ্তাহে মাত্র একদিন চিঠি বিলি করতে আসে । তাই জরুরি চিঠিপত্র , মানিঅর্ডার সময়মতো পাওয়া যায় না । এতে জনগণের দুর্ভোগের শেষ নেই ।

একটা ডাকঘরের অভাবে মোহনপুর গ্রামের বিশাল জনগোষ্ঠী নিদারুণ কষ্ট পাচ্ছে । ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন , কিশোরগঞ্জ জেলার মোহনপুরে ডাকঘরের একটা শাখা স্থাপন করা হোক ।

এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে । পাশাপাশি জনগণেরও দুর্ভোগ লাঘব হবে । নিবেদক মোহনপুর গ্রামবাসীর পক্ষে , মো . রফিকুল ইসলাম মোহনপুর , কিশোরগঞ্জ ।



এছাড়াও আরো একটি নিয়মে সংবাদপত্র লেখা যায়। মূলকথা সংবাদ পত্র প্রকাশের জন্য যে চিঠি লেখার নিয়ম মানা হয় তা আসলে ধরাবাধা নয়।

যেকোনো নিয়মে যে কেউ সংবাদ পত্র লিখতে পারে। শুধু মাত্র উপযুক্ত তথ্য গুলো থাকলেই যথেষ্ট। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খাতায় লেখার জন্যে দুটি নিয়ম বেশীরভাগ শিক্ষার্থী মেনে চলে।

একটি হলো আমাদের উপরের উদাহরণ টি। আর আরেকটি পদ্ধতিতে চিঠি লেখার নিয়ম নিচে উল্লেখ করা হলো।

 



মাদককে না বলুন

মোহাম্মদ ওমর॥ বগুড়া ৷৷ ৯ এপ্রিল , ২০২২॥ ‘ স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার’ স্লোগানটি আজ নীতিকথায় পর্যবসিত হয়েছে । সুস্থ জীবনের চেতনা বিসর্জন দিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে জীবাণুযুদ্ধ , রাসায়নিক যুদ্ধ । নেশাযুদ্ধ তার সর্বশেষ সংস্করণ ।

নেশার কবলে আজ বিপন্ন হয়ে পড়ছে মানুষ , বিশেষ করে যুব সম্প্রদায় । সম্ভাবনাময় এ যুব সম্প্রদায়কে নিয়ে চলছে বহুমাত্রিক ষড়যন্ত্র ।

সুকৌশলে তাদের হাতে নেশাবস্তু ধরিয়ে দিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল জাতির মেরুদণ্ডকে ভেঙে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত ।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মৃতকল্প ও অসাড় করে দেওয়ার অশুভ লক্ষ্য সামনে রেখে তারা দেশের সর্বত্র নেশাদ্রব্যকে সহজলভ্য করতে গড়ে তুলেছে সুবিশাল নেটওয়ার্ক ।

আর তার প্রভাবে নেশার ছোবলে ঝুঁকছে লক্ষ প্রাণ , ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে । দাবানলের মতো তা ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে – শহরতলিতে , গ্রামে – গ্রামান্তরে ।

নেশার জগতেও ঘটছে নানা রূপান্তর । এসেছে কোকেন , এলএসডি , ইয়াবা আর হেরোইন । মাদকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হলো ‘ আফিম ‘ । আফিম থেকে ‘ মরফিন বেস ’ ।

আর আফিম থেকেই বিশেষ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় সর্বনাশা হেরোইন । বাংলাদেশে হেরোইন আজ সব মাদককে ছাড়িয়ে গেছে । বস্তির ঝুপড়ি ঘরে নিরাপদে চলছে হেরোইনের পুরিয়া বিক্রির মহড়া ।

দেদার তা গ্রহণ করছে যুবসমাজ । হারিয়ে ফেলছে স্বাভাবিক বোধ ও বিশ্বাস । নেশামাত্রই মানুষের স্নায়ুকে দুর্বল করে দেয় । নিঃশেষ করে দেয় শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা ।

ক্রমশ ভোঁতা হয়ে আসে ওদের মেধা – মনন ও প্রজ্ঞাচেতনা । এদের ক্ষিধে নেই , ঘুম নেই , সময়ের বোধ নেই । এরা অস্বাভাবিক । একটি দেশের ভাবী নেতৃত্বকে সমূলে ধ্বংস করা এবং নৈতিক আধঃপতন ঘটানোর জন্য এ এক গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।

এ ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়নে গড়ে উঠেছে ‘ আন্তর্জাতিক ড্রাগ স্মাগলিং নেটওয়ার্ক ‘ । এর অধঃপতন ঘটানোর জন্য এ এক গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ।

এ ষড়যন্ত্রের প্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে খুন , রাহাজানি , ধর্ষণ , ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ ।

এমন অবস্থায় দেশ ও জাতিকে এ দুরারোগ্য মরণব্যাধি নেশার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রচেষ্টায় জনমত গড়ে তুলতে হবে ।

পুলিশের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের অধীনে একটি স্বতন্ত্র । সেল গঠন করতে হবে । মাদক চোরাচালান কঠোর হাতে দমন করতে হবে ।চোরাকারবারিদের স্বর্গরাজ্য আস্তানাসমূহে আঘাত হানতে হবে ।

সর্বশক্তি নিয়ে । এ জন্য চাই সবার উদার মানসিকতা , সহযোগিতা , সমন্বিত উদ্যোগ এবং সামাজিক সচেতনতা ।



আজকে এ পর্যন্তই। আমাদের চিঠি লেখার নিয়ম পোষ্টটি কেমন হয়েছে জানাবেন। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।

>>>>Related Articles<<<<

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.